কিউবার অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়াতে দেশটির পাঁচটি প্রতিষ্ঠান এবং সাবেক কিউবান নেতা রাউল কাস্ত্রোর নাতি ফিদেল এরনেস্তো কাস্ত্রো ক্যালিসের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার এ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়।
খবর আল জাজিরা ও রয়টার্সের। এর আগে মার্কিন প্রশাসন কিউবার প্রেসিডেন্টের উপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে কিউবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ব্যাংকো এক্সতেরিয়র দে কিউবা, নিকেল খনিশিল্পের দুটি প্রতিষ্ঠান এবং দেশটির সংকটে থাকা জ্বালানি খাতের দুটি কোম্পানি।
এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান কিউবার তেল আমদানি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ৩১ বছর বয়সী ফিদেল এরনেস্তো কাস্ত্রো ক্যালিসকে কাস্ত্রো পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে আগে দেওয়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, কিউবার কমিউনিস্ট শাসকগোষ্ঠী এমন একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র পরিচালনা করছে, যেখানে সাধারণ মানুষ না খেয়ে থাকে। তার অভিযোগ, কাস্ত্রো পরিবারের সদস্য ও অন্য ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম গোলার্ধের অন্য দেশগুলোতে মার্ক্সবাদী মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
চলতি বছরের শুরু থেকে কিউবার ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছে ট্রাম্প প্রশাসন। জানুয়ারি থেকে দেশটির জ্বালানি সরবরাহে অবরোধসহ বিভিন্ন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, কিউবার বর্তমান শাসনব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং দেশটির ক্ষমতাসীনদের ওপর চাপ বাড়িয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে মার্কিন চাপের মধ্যেই অর্থনীতিতে বাজারমুখী সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে কিউবা। জুনে দেশটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় মুক্তবাজার সংস্কারের অংশ হিসেবে ১৭৬টি পদক্ষেপ নেয়। বৃহস্পতিবার পর্যটন খাতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ কমানোর লক্ষ্যে নতুন আইনি বিধানও ঘোষণা করা হয়। নতুন নিয়মে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে পর্যটন ও ভ্রমণ সংস্থা পরিচালনা করতে পারবে এবং কিছু দেশীয় বিনিয়োগকারীর বিদেশি ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ সহজ করা হয়েছে।
তবে এসব সংস্কারেও ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ কমেনি। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছে এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রেখেছে। এসব নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি অবরোধের কারণে কিউবার বিদ্যুৎব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য খাত আরও সংকটের মধ্যে পড়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে।
কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র গ্রানমাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বা অর্থনীতির জন্য কোনো হুমকি নয়। বরং ওয়াশিংটনই কিউবার সংকটের জন্য দায়ী এবং দেশটির বিরুদ্ধে হুমকির ভিত্তি হিসেবে মিথ্যা অজুহাত তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কিউবা-নীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। জুনে তিনি বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কিউবার মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধের ঘাটতির কারণে শিশুরাও মারা যাচ্ছে বলে সতর্ক করেন তিনি এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স
শাপলা চত্বরে ১১ দলের চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের প...