রাজধানীর সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইয়ের সময় টেনে-হিঁচড়ে ফেলে স্কুল শিক্ষিকা রনজিনা (৫৬) পারভীনকে হত্যার ঘটনায় র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির মধ্যে প্রকৃত অপরাধী কে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মোটরসাইকেলের সঙ্গে র্যাবের উদ্ধার করা মোটরসাইকেলের মিল না থাকায় তদন্তের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, থানা পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও ঘটনাটি ছায়া তদন্ত করছে। প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে ডিবি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত আলোচিত হওয়ায় ঘটনার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।
তদন্ত একটি চলমান প্রক্রিয়া। তাই এখনই নির্দিষ্ট করে কাউকে মূল অপরাধী বলা সম্ভব নয়।
শফিকুল ইসলাম বলেন, র্যাব যে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে, তাদের একজনের বিরুদ্ধে এর আগে ১২টি ছিনতাই মামলা রয়েছে। ফলে তাকে একেবারে নির্দোষ বলার সুযোগ নেই। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
মূল আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে কি না জানতে চাইলে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, থানার তদন্তের পাশাপাশি ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশও এ ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনায় ছায়া তদন্ত করে থাকে। এ ঘটনাতেও তাদের নজরদারি রয়েছে।
সংসদ ভবনের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় একজন শিক্ষিকা ছিনতাইকারীর টানে পড়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা ও পুলিশের দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কি না, এমন প্রশ্নও ওঠে।
জবাবে তিনি বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি বলা যাবে না। তবে কোথাও পুলিশ সদস্য দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও না থাকলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংসদ ভবনের ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার।
তিনি বলেন, আগে থেকেই বাস টার্মিনাল, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোশাকধারী পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের টহল ছিল। তবে ঘটনার পর কমিশনারের নির্দেশনায় চাহিদা অনুযায়ী কোনো কোনো স্থানে একটি টহল দলের পরিবর্তে তিনটি টহল দল করা হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের টিমও বাড়ানো হয়েছে।
পাশাপাশি মোটরসাইকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর অনেক বড় এলাকা। তারপরও পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে টহল বাড়ানো হচ্ছে।
বলিভিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণে নিহত ১০