বাংলাদেশকে আধুনিক এবং প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন ও শিল্পায়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে নারীর অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতে নারীর অংশগ্রহণ বাংলাদেশের শিল্পায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।
এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নারীর অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি শিল্পায়ন ত্বরান্বিত ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিতে হবে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) আয়োজিত ‘কর্মজগতের ভবিষ্যৎ: সবার জন্য শোভন কাজ ও সামাজিক ন্যায়বিচার’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন ও শিল্পায়নকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও টেকসই অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সবার অধিকার নিশ্চিত হবে এবং উন্নয়ন হবে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী।
বাংলাদেশের কার্যকর ও সফল উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিনিয়োগ ও উৎপাদন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, করের হার না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ ও ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে হবে। এর মাধ্যমে দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সংসদ সদস্য ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, শ্রম আইন বাস্তবায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন বলেন, ন্যাশনাল সোশ্যাল ডায়ালগ ফোরাম একটি নতুন উদ্যোগ। এটি হবে প্রথম ত্রিপক্ষীয় ফোরাম। পরিবর্তনশীল শ্রমজগতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সব পক্ষের মধ্যে আরও সংলাপ, সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রহিম বলেন, জলবায়ু ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে শ্রমজগতে যেসব নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে এ আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের অতিরিক্ত মহাসচিব মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারে দুটি বিষয় বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। এর একটি হলো অধিকাংশ শ্রমিকের অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত থাকা। অন্যটি হলো বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া। এ সময়ে অর্থবহ ও ন্যায়সংগত উত্তরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মেসবাহউদ্দীন আহমেদ বলেন, সরকার, মালিক ও শ্রমিক– তিন পক্ষের সমন্বিত আলোচনা ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে কার্যকর সমাধানের পথে এগিয়ে যেতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতা, সামাজিক সংলাপ ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং সবার জন্য শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, শ্রম সংস্কার কমিশন জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষার কথা বলেছে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিলসের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান ভূঞাঁ।
শাপলা চত্বরে ১১ দলের চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের প...