নিজের লেখা গীতিকবিতায় মানবজীবনের প্রায় সব অনুভূতিকেই তুলে এনেছেন তিনি। দেশ ও প্রকৃতির সৌন্দর্য যেমন তার গানে উঠে এসেছে, তেমনি জীবনবোধ, মানবতা, প্রেম, বিরহ ও মানুষের নানা আবেগও স্থান পেয়েছে তার অমর সৃষ্টিতে।
বাংলা গানের সেই কিংবদন্তি গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারকে হারানোর দিন শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর)।
১৯৪৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার তালেশ্বর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার।
২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।
১৯৬৪ সালে তৎকালীন রেডিও পাকিস্তানে গান লেখার মাধ্যমে পেশাদার গীতিকার হিসেবে তার পথচলা শুরু।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি লিখেছেন ২০ হাজারেরও বেশি গান। তার সৃষ্টিতে উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম, প্রকৃতি, জীবনবোধ, প্রেম, বিরহ, স্নেহ ও মানুষের নানা অনুভূতি।
১৯৬২-৬৩ সালে মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় গাজী মাজহারুল আনোয়ার তার প্রথম গান ‘বুঝেছি মনের বনে রং লেগেছে’ লেখেন। গানটির সুর করেছিলেন নাজমূল হুদা বাচ্চু এবং কণ্ঠ দিয়েছিলেন শিল্পী ফরিদা ইয়াসমিন। এরপর ১৯৬৪ সালে রেডিও পাকিস্তানে গান লিখে ৫০ টাকা পারিশ্রমিক পাওয়ার মধ্য দিয়ে পেশাদার গীতিকার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে তার কর্মজীবন শুরু হয়।
১৯৬৫ সালে চলচ্চিত্রে যুক্ত হওয়ার পর গান লেখার পাশাপাশি চিত্রনাট্য, সংলাপ ও কাহিনী রচনাতেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্মলগ্ন থেকেই বিভিন্ন অঙ্গনে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
সুভাষ দত্তের ‘আয়না ও অবশিষ্ট’ চলচ্চিত্রের ‘আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল’ গানটি দিয়ে চলচ্চিত্রে গীতিকার হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে গীতিকার পরিচয়ের পাশাপাশি সফল কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন তিনি।
তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দেশ চিত্রকথা থেকে ‘শাস্তি’, ‘স্বাধীন’, ‘শর্ত’, ‘সমর’, ‘শ্রদ্ধা’, ‘ক্ষুধা’, ‘স্নেহ’, ‘তপস্যা’, ‘উল্কা’, ‘আম্মা’, ‘পরাধীন’, ‘আর্তনাদ’, ‘পাষাণের প্রেম’ ও ‘এই যে দুনিয়া’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিচালনা করেন।
গাজী মাজহারুল আনোয়ারের সৃষ্টির ব্যাপ্তি ও জনপ্রিয়তার অন্যতম প্রমাণ বিবিসির জরিপে সর্বকালের সেরা ২০ বাংলা গানের তালিকায় তার লেখা তিনটি গানের স্থান পাওয়া। গানগুলো হলো- ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’, ‘একতারা তুই দেশের কথা বল’ এবং ‘একবার যেতে দে না আমায় ছোট্ট সোনার গাঁয়’।
গীতিকার হিসেবে সাতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। ২০০২ সালে অর্জন করেন একুশে পদক। এছাড়া ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট স্বর্ণপদক, এস এম সুলতান স্মৃতি পদক, একাধিকবার বাচসাস পদকসহ জীবদ্দশায় পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা।
বাংলা গানের ভাণ্ডারে অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি রেখে গেছেন এই কিংবদন্তি। তাই তার শারীরিক অনুপস্থিতির চার বছর পরও তার লেখা গান বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে আছে, বেঁচে থাকবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
শাপলা চত্বরে ১১ দলের চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের প...