ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন গ্রেপ্তারের পর তদন্তে নতুন করে গতি এসেছে। দীর্ঘ ২৯ বছর পর হত্যা মামলা হিসেবে পুনরুজ্জীবিত হওয়া এ মামলায় ডনকে ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর আদালতে ডনকে হাজির করে তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করে সিআইডি। তদন্ত ব্যাহত হওয়া এবং জামিনে মুক্তি পেলে পুনরায় আত্মগোপনে যাওয়ার আশঙ্কার কথা আদালতকে জানায় তদন্ত সংস্থা। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। পরে ১২ আগস্ট তার জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম।
ডন গ্রেপ্তারের পর মামলাটিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে—দীর্ঘদিনের এই রহস্যের জট কি এবার খুলবে? বিশেষ করে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা সামনে থাকায় ডনের ভূমিকা ও তার সঙ্গে অন্য আসামিদের সম্ভাব্য যোগাযোগ তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ডন গ্রেপ্তারের পর সন্তোষ প্রকাশ করলেও মামলার অন্য আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দ্রুত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ডনকে জামিন না দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে ডনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
২৯ বছর পর হত্যা মামলা
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় মারা যান চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। তার মৃত্যুর পর রমনা থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়। পরবর্তী সময়ে একাধিক তদন্ত ও ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বিষয় সামনে এলেও তার পরিবার শুরু থেকেই এটি হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছে।
সিআইডির প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ঝুলে শ্বাসরোধ হয়ে আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুর কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তী ময়নাতদন্তে মৃতদেহের পরিবর্তিত অবস্থার কারণে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে আদালত অপমৃত্যুর ঘটনাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।
লাশ উত্তোলনের অনুমতিও দিয়েছে আদালত
মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে সালমান শাহর মরদেহ পুনরায় কবর থেকে উত্তোলনের আদালতের অনুমতিতে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন, সুরতহাল এবং ময়নাতদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, আগের ময়নাতদন্তের রিপোর্টগুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি নতুন করে মরদেহ পরীক্ষা করা হলে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
সামনে ৩০ আগস্ট
সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। এরই মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ কয়েক দফা পিছিয়েছে। সর্বশেষ আগামী ৩০ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
ফলে ডনের গ্রেপ্তার, মামলার অন্য আসামিদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সালমান শাহর মরদেহ পুনরায় পরীক্ষার উদ্যোগ—সব মিলিয়ে ৩০ আগস্টের আগে মামলার তদন্তে কী নতুন তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।
প্রায় তিন দশক ধরে আলোচিত এই মামলায় এবার তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নারীসহ নিহত ৩, আহত ২০