চলমান লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটকে সাময়িকভাবে মোকাবিলা না করে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি রূপান্তরের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সবুজ আন্দোলন। সংগঠনটি সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ, নেট মিটারিং সহজীকরণ, সৌরচালিত সেচ বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে এসব দাবি তুলে ধরেন বাংলাদেশ সবুজ আন্দোলনের নেতারা।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ডিজেলচালিত সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সৌরচালিত পাম্পে রূপান্তর করতে হবে। এতে একদিকে ডিজেল আমদানি কমবে, অন্যদিকে কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ও হ্রাস পাবে।
এ ছাড়া নেট মিটারিং ব্যবস্থা সহজ করার দাবি জানানো হয়। আবেদন, অনুমোদন, মিটার স্থাপন ও গ্রিড সংযোগের প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং গ্রাহকের অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানানো হয়।
কর-শুল্ক কমানো ও সহজ ঋণের দাবি
সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর কর-শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে ব্যক্তি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য স্বল্পসুদের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সৌর প্রকল্পের লাইসেন্স, পরিবেশগত অনুমোদন, গ্রিড সংযোগ ও নেট মিটারিংয়ের জন্য ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুরও দাবি জানানো হয়।
আধুনিক গ্রিড ও কৃষিজমি রক্ষার আহ্বান
নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের বাড়তি সরবরাহ গ্রহণের সক্ষমতা তৈরিতে জাতীয় গ্রিড আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ জন্য স্মার্ট গ্রিড, উন্নত পূর্বাভাস ব্যবস্থা ও ব্যাটারি স্টোরেজ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
বড় সৌর প্রকল্পে কৃষিজমির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করে অনাবাদি জমি, চর, সরকারি অব্যবহৃত জমি এবং শিল্পাঞ্চলের অব্যবহৃত জায়গাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সবুজ আন্দোলন।
২০৩০ সালকে সামনে রেখে বিনিয়োগ পরিকল্পনার দাবি
২০৩০ সালকে সামনে রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনটির মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে শুধু পরিবেশ সুরক্ষার বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না; এটিকে জাতীয় জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
এ জন্য সরকার, বেসরকারি খাত, ব্যাংক ও জনগণের অংশগ্রহণে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
সবুজ আন্দোলনের পাঁচ দফা অগ্রাধিকার
বাংলাদেশ সবুজ আন্দোলনের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি রূপান্তরের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো।
২. রুফটপ সোলার, সৌরচালিত সেচ, ব্যাটারি স্টোরেজ, আধুনিক গ্রিড এবং সহজ বিনিয়োগ ও ঋণ—এই পাঁচ খাতকে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়া।
৩. নেট মিটারিং ও গ্রিড সংযোগের জটিলতা দ্রুত দূর করে ব্যক্তি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহিত করা।
৪. কৃষিজমি রক্ষা করে অনাবাদি ও সরকারি অব্যবহৃত জমিকে বড় নবায়নযোগ্য প্রকল্পের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া।
৫. জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ দ্রুত বাড়াতে সময়বদ্ধ জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা।
‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন জ্বালানি নিরাপত্তার প্রয়োজন’
বাংলাদেশ সবুজ আন্দোলনের নেতা বাপ্পি সরদার বলেন, জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ এখনো প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার চাপ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এখন আর শুধু পরিবেশগত দাবি নয়; এটি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বর্তমান সংকটকে কাজে লাগিয়ে এখনই সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে কার্যকর রূপান্তর শুরু করতে হবে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সবুজ আন্দোলনের পরিচালক, কেন্দ্রীয় কমিটি ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ।
বলিভিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণে নিহত ১০