বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ও জনসংযোগ কর্মকর্তা বোসরা ইসলামকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। তাকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (এমডি ও সিইও) দপ্তরে সংযুক্ত (ওএসডি) করা হয়েছে। তার স্থলে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে করপোরেট প্ল্যানিং বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মহিউদ্দিনকে জনসংযোগ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পার্সোনেল শাখার ব্যবস্থাপক উম্মে কুলসুম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ পরিবর্তনের কথা জানানো হয়।
সূত্র জানায়, বিমানের বিভিন্ন বিষয়ে গণমাধ্যমে তথ্য সরবরাহে গাফিলতির অভিযোগ ছিল বোসরা ইসলামের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে সম্প্রতি ইতালির রোমে বিমানের একটি ফ্লাইট কারিগরি ত্রুটির কারণে আটকে পড়ার ঘটনায় সংকটকালীন তথ্য ব্যবস্থাপনায় জনসংযোগ বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোমে ফ্লাইট আটকে পড়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এতে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেবা ও ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, ঘটনার সময় গণমাধ্যম ও যাত্রীদের কাছে তথ্য সরবরাহে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। তথ্যের যথাযথ আদান-প্রদান না করা, বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া এবং সংকটকালীন জনসংযোগ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার অভিযোগও ওঠে। বিষয়টি বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বোসরা ইসলামকে জনসংযোগ কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে বিমানের একাধিক তদন্ত-সংশ্লিষ্ট বিষয়েও বোসরা ইসলামের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে সঠিক তথ্য না দিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিশেষ করে বিমানের আলোচিত দম্পতি শামীমা পারভিন ও শাহজাহানের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও মানবপাচারের অভিযোগের তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিলেন বোসরা। অভিযোগ রয়েছে, শামীমা পারভিনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বিমানে স্বপদে বহাল থেকে বোসরা ইসলাম প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বিমানের ভেতরে তার প্রভাব ও কর্তৃত্বে বড় কোনো ছেদ পড়েনি।
অভিযোগ রয়েছে সিভিল এভিয়েশন ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে পারিবারিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়েছেন বোসরা ইসলাম। তার দুলাভাই এয়ার ভাইস মার্শাল মাহমুদ হোসেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান থাকায় সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নানা ধরনের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এমনকি বিভিন্ন কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ নথি সরিয়ে ফেলা বা গায়েব করে দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পৈতৃক সূত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে চাকরি পাওয়ার পর দুলাভাইয়ের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন বোসরা। তার আপন ছোটবোন নাজমুনও বিমানে কর্মরত। তিনি গ্রাউন্ড সার্ভিস বিভাগে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বোসরার চাকরিতে যোগদানের প্রক্রিয়া নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। সূত্রের দাবি, তিনি প্রথমে জুনিয়র ট্রাফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। পরে দুলাভাইয়ের প্রভাব খাটিয়ে বিমানের গ্রুপ-৬-এ চাকরি পান বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবেই পারিবারিক প্রভাব ব্যবহার করে নিয়োগ থেকে শুরু করে পরবর্তী কর্মজীবনের বিভিন্ন ধাপে তিনি সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নারীসহ নিহত ৩, আহত ২০