নিউজ

বৃটেনে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আলহাজ্ব সৈয়দ আব্দুর রহমানের ইন্তেকাল

বার্মিংহামে বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ নজরুল ইসলামকে চেক প্রদান করছেন সৈয়দ আবদুর রহমান

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ৩০ ডিসেম্বর – বৃটেনে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রবীণ কমিউনিটি ও সমাজহিতৈষী ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব সৈয়দ আব্দুর রহমান আর নেই। গত ২৮ ডিসেম্বর, সোমবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ৩টায় সিলেট শহরের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৯১ বছর। তিনি ৩ ছেলে, ২ মেয়ে এবং নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সন্তানদের মধ্যে তিন ছেলেই কোরআনে হাফিজ। তম্মধ্যে বড় ছেলে হাফেজ মাওলানা কফিল আহমদ, বার্মিংহাম আল আমীন প্রাইমারি ও জুনিয়র স্কুলের অন্যতম ট্রাস্টি। দ্বিতীয় ছেলে হাফিজ সৈয়দ জসিম আহমদ, তৃতীয় ছেলে হাফিজ সৈয়দ তসলিম আহমদ। বড় মেয়ে সৈয়দা রুনা বেগমের স্বামী কুদরতউল্লাহ মার্কেটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ূম এবং ছোট মেয়ে সৈয়দা রুজী বেগমের স্বামী খেলাফত মজলিস যুক্তরাজ্যের নেতা মাওলানা এনামুল হাসান সাবির।

উল্লেখ্য, আলহাজ্ব সৈয়দ আব্দুর রহমান বৃটেনের বার্মিংহামে পরিবারের সাথে বসবাস করতেন। মৃত্যুর কয়েক মাস আগে তাঁর সদ্য প্রয়াত ছোট ভাই আলহাজ্ব সৈয়দ আতাউর রহমানকে (তিনিও বৃটেনবাসী ছিলেন) দেখতে দেশে গিয়েছিলেন। বিলেতজীবনের প্রথমদিকে দুই ভাই ছিলেন খিদমিনস্টারের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী। পরবর্তীতে বার্মিংহামে বসতি স্থাপন করেন তারা। ভাইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই তাঁরও শরীর ভালো যাচ্ছিলো না। কিছুদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন। কিন্তু সম্প্রতি আবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করার পর ২৮ ডিসেম্বর, সোমাবার ভাইয়ের মৃত্যুর প্রায় দুই মাস পর তিনিও পরপারে পাড়ি জমান।
সৈয়দ আব্দুর রহমান ১৯৫৭ সালে প্রথম বৃটেন আসেন। বিলেতের কমিউনিটি উন্নয়ন আন্দোলনে তাঁর এবং তাদের পরিবারের রয়েছে অনেক অবদান। ১৯৬৪ সালে তিনি বিলেতে হালাল চিকেন ব্যবসা শুরু করেন। বিবিসি-৪ এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী বৃটেনে হালাল চিকেন ব্যবসা তিনিই প্রথম শুরু করেন। এডভেঞ্চার প্রিয় এই মানুষটিই প্রথম বাঙালি, যিনি ১৯৬৬ লণ্ডন থেকে পূর্ব পাকিস্তানে গাড়ী চালিয়ে গিয়েছিলেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ব স¤প্রদায়ের সমর্থন আদায়ে বৃটেনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সৈয়দ আব্দুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক ম্প্রপ্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের দাবীতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে গমনকারী প্রথম বাঙালি প্রতিনিধিদলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। বৃটেনে গঠিত ‘একশন কমিটি ফর বাংলাদেশ লিবারেশন মুভমেন্ট’ এর এগারো সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন সৈয়দ আব্দুর রহমান। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তির জন্য তিনি তাঁর ভাই-বান্ধবদের কাছ থেকে প্রচুর অর্থ সংগ্রহ করে প্রেরণ করেন। ৭১ সালে বাংলাদেশের সমর্থনে বার্মিংহামে যে পাবলিক মিটিং অনুষ্ঠিত হয় সেটিরও মূল অর্গেনাইজার ছিলেন তিনি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশ পুনর্গঠনেও দেশের প্রথম সরকারের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সদ্য আলহাজ্ব সৈয়দ আব্দুর রহমান।
এদিকে, আলহাজ্ব সৈয়দ আব্দুর রহমানের ইন্তেকালে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে শোক প্রকাশ করে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনাসহ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।
মরহুমের বড় ছেলে বার্মিংহামের বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব হাফিজ মাওলানা সৈয়দ কফিল আহমদ এবং তাঁর ভাতুস্পুত্র বাংলামেইল সম্পাদক সৈয়দ নাসির আহমদ আলহাজ্ব সৈয়দ আব্দুর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনায় কমিউনিটির সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close