নিউজবাংলাদেশহোম

সিলেট-সুনামগঞ্জে ফের বন্যা আতংক

সিলেট প্রতিনিধি।

সিলেট, ২৯জুন। অতিবর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কয়েকটি উপজেলার মানুষের মধ্যে ফের বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি আগের চেয়ে কয়েক সেন্টিমিটার বাড়লেও এখনো বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। তবে, কানাইঘাটে পয়েন্টে সুরমা এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমলসীদ ও শেওলা কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানির প্রবাহ স্থিতিশীল রয়েছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে গতকাল বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত-২৪ ঘন্টায় সিলেটে ১০৯.৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ৭৭ মিলিমিটার। এছাড়া, রাত ১২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত ১১ মিলিমিটার এবং রাত ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত বাকি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যে মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মূল বৃষ্টিপাত হয়। তিনি বলেন, সিলেটে আগামী ২/৩ দিন বৃষ্টিপাত হতে পারে। সিলেটে বুধবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ভারী বর্ষণ হয়েছে। বুধবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিলেটে ৮.২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
এদিকে, অবিরাম বর্ষণের কারণে মঙ্গলবার রাতে সিলেট নগরীর বেশ কিছু এলাকায় ফের পানি বাড়তে থাকে। বিশেষ করে তালতলা, মাছিমপুর, উপশহরসহ অন্যান্য নিচু এলাকায় পানি বাড়তে থাকে। এ কারণে মানুষের মধ্যে আতংক দেখা হয়। নগরীতে যান চলাচলও সীমিত হয়ে পড়ে। বাসা-বাড়ি ফেরার ক্ষেত্রে লোকজনকে যানবাহনের অভাবে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। উপশহরসহ অনেক নিচু এলাকার বাসিন্দারা বন্যার ভয়ে ফের বাসা পাল্টাতে চাচ্ছেন।
নগরীর মাছিমপুরের বাসিন্দা সুনীল সিংহ জানান, এবার নিয়ে তৃতীয় দফা তাদের এলাকায় বন্যা হানা দিতে যাচ্ছে। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতের বৃষ্টিতে তাদের এলাকায় ৩/৪ ইঞ্চি পানি বেড়ে যায়। এখনো ওই এলাকার ১০০ পরিবার পানিবন্দী। দ্বিতীয় দফা বন্যার ক্ষত শেষ হতে না হতেই তৃতীয় দফা বন্যার আশংকায় লোক সন্ত্রস্ত বলে জানান তিনি।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর বন্যা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদী বিপদসীমার ৮৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবারের চেয়ে বুধবার এ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বেড়েছে ২৮ সেন্টিমিটার। এছাড়া, সিলেট পয়েন্টেও পানি আগের চেয়ে বেড়েছে। এ পয়েন্টে পানি মাত্র বিপদসীমার ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার এ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া, আমলসীদ ও শেওয়া পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার যথাক্রমে ৯৩ সেন্টিমিটার ও ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
সিলেট পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ জানান, সিলেটের নি¤œাঞ্চলে পানি কিছুটা বাড়লেও বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টিপাতের মাত্রা কমে যেতে পারে। মেঘালয় ও আসামের পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টিপাত না হলে সিলেটের বৃষ্টি বন্যায় কোন প্রভাব ফেলবে না। তিনি বলেন, বুধবার কানাইঘাটে সুরমার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নি¤œাঞ্চলে পানি কিছুটা বেড়েছে। সিলেটে ঈদের আগে বৃষ্টিপাত তেমন হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এ প্রকৌশলী।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার থেকে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পানি বাড়তে থাকলেও বুধবার থেকে পানি কিছুটা কমেছে। বুধবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ নিয়ে প্রবাহিত হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ পয়েন্টে সুরমার পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। ছাতকে সুরমা নদীর পানি আগে থেকেই বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তৃতীয় দফায় সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার ও ছাতক এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটের নিচু এলাকায় পানি আগের চেয়ে কিছুটা বাড়তে থাকে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close