নিউজ

বন্যা

সিলেটে বানভাসি মানুষের আর্তনাদ || পদ্মা সেতুর উৎসবে ব্যস্ত সরকার || হেলিকপ্টার থেকে হাসিনার বন্যাবিলাস || বিক্ষুব্ধ মানুষের তোপের মুখে এমপি মানিক || এ পর্যন্ত মারা গেছে অন্তত শতাধিক, সরকার বলছে ৩৬ || লণ্ডনসহ সর্বত্র প্রবাসীদের সাহায্যের  উদ্যোগ

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ২৩ জুন : সিলেট বিভাগ ও নেত্রকোনায় বানভাসি মানুষের আর্তনাদ এক মানবিক সংকট তৈরি করেছে। বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ডায়রিয়া, সর্প দংশন, পানিতে ডুবে ও আঘাতজনিত কারণসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্ততঃ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। বৃদ্ধ ও শিশুদের অনেকে বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। সাপের কামড়ে মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। ভারতের মেঘালয় ও আসামের ঢাল থেকে নেমে আসা পানিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ওই অঞ্চলের মানুষ গত একশ’ বছরের মধ্যে দেখেনি। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় মোবাইল যোগাযোগ, সড়ক-রেল সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

তবে মঙ্গলবার বিকেলে সারাদেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে ৩৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারিভাবে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৭ মে থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫ জন, রংপুর বিভাগে তিন জন এবং সিলেট বিভাগে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ৩৬ জনের মধ্যে বজ্রপাতে ১২ জন, সাপের কামড়ে একজন, বন্যার পানিতে ডুবে ১৭ জন এবং অন্যান্য কারণে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে ২ হাজার ৯৩৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। এদিকে সিলেটে দ্বিতীয় ধাপের ভয়াবহ বন্যার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও সার্বিক পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।

হাসিনার বন্যা বিলাস: মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্যা উপদ্রুত জেলা সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনার উদ্দেশ্যে হেলিকপ্টারযোগে যাত্রা করেন। হেলিকপ্টারের  জানালা দিয়ে তিনি বানভাসী এলাকা পরিদর্শন করেন। সিলেটে বন্যা উপদ্রুত এলাকায় হেলিকপ্টারে বিলাসবহুল সফরের মাঝে তিনি সিলেট সার্কিট হাউসে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখে। এসময় প্রধানমন্ত্রীকে বিভাগীয় প্রশাসন জানিয়েছে, চারটি জেলার ৩৩টি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যেখানে ৪৫ লাখের বেশি মানুষ বন্যার পানিতে ডুবে আছে এবং ৪ দশমিক ১৪ লাখের বেশি মানুষ ১২৮৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া, বন্যা দুর্গতদের ২৪ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, নগদ ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং ১৩০৭ মেট্রিক টন খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সার্কিট হাউস কয়েকটি পরিবারকে ত্রাণ সামগ্রী হাতে তুলে দেন।

বিক্ষুব্ধ মানুষের তোপের মুখে এমপি মানিক:
এমপি মুহিবুর রহমান মানিক তার নির্বাচনী এলাকায় বিক্ষুব্ধ মানুষের তোপের মুখে পড়েছেন। ছাতকে তার নির্বাচনী এলাকায় পরিদর্শনকালে বিক্ষুব্ধ লোকেরা বাঁধ নির্মাণ নিয়ে এমপির লোকজনের অনাচারের বিচার দাবী করেন। তবে এমপি মানিক পুলিশ ও সেনা সদস্যদের সহায়তায় সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে যেতে সক্ষম হন।

মৎস্য খামারিদের বিপুল ক্ষতি:
ভয়াবহ বন্যায় মৎস খামারিদের ১৪০ কোটি টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। যা পুষিয়ে উঠতে সময় লাগবে ৩ বছর। সুনামগঞ্জের খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রায় ৩২ হাজার ৮০২ জন খামারি ৫ হাজার ২৫৮ হেক্টর জমিতে কার্পজাতীয় মাছের চাষ করছিলেন। সুনামগঞ্জের প্রায় সব খামারই পানিতে ভেসে গেছে। স্থানীয় খামারিরা এমন এক সময় এ ধরনের ক্ষতির শিকার হলেন, যখন এ অঞ্চলে মাছ চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছিল।

প্রবাসীদের সাহায্যের  উদ্যোগ:
লণ্ডনসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে প্রবাসী কমিউনিটি বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। চ্যারিটি সংগঠনগুলো টিভি ফান্ড রাইজিং এবং নানা মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিদিন এসব সংগৃহিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে বন্যার্তদের জরুরি খাবার, ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা করছেন। লন্ডনে গ্রেটার সিলেট কাউন্সিল, চ্যানেল এস ওয়ান কমিউনিটি ওয়ান আপিল, জাস্ট হেল্প ফাউণ্ডেশনসহ লণ্ডনভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসছেন প্রবাসীরা।

সাপের কামড় থেকে সাবধান:জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর’র বরাতে প্রচারিত তথ্যে বলা হয়েছে- বন্যা কবলিত এলাকায় বিষাক্ত সাপের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে শয়ন কক্ষে অথবা ঘরের নির্দিষ্ট স্থানে লাল রঙের লাইফবয় সাবান টুকরা টুকরা করে ছিটিয়ে রাখুন চারপাশে। কারন, লাইফবয় সাবানে কার্বক্সালিক এসিড/কার্বনিল এসিড থাকায় সাপ কাছে আসতে পারেনা। অথবা কার্বলিক এসিডের ছিপি খুলে ঘরের কোনে রাখতে হবে। কার্বলিক সাবান অথবা কার্বলিক এসিড পাওয়া না গেলে সজিনার ডাল অথবা রসুন কেটে টুকরো টুকরো করে ঘরের চারদিকে ছড়িয়ে দিতে হবে। এতে ঘরে সাপ ঢুকবে না। অথবা লাল মরিচ পুড়িয়া দিন ঘরে সাপ থাকলে বেরিয়ে যাবে।

https://issuu.com/home/published/sur001_9850dee9422b1d
নিউজ

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close