নিউজবাংলাদেশ

ওদের মাতবরি বাংলাদেশের কাছে আর গ্রহণযোগ্য নয়-ড. মোমেন

রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি সংগ্রহ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে

ঢাকা অফিস। ‘উন্নয়ন সহযোগীরা’ বাংলাদেশকে এখন আর টাকা-পয়সা দেয় না, কিন্তু মাতবরি আর খবরদারি করে। বাংলাদেশের কাছে এগুলো আর গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এ কথা বলেছেন।

গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার হুমকির মুখেও কিভাবে রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করা যায়, এর সম্ভাব্য উপায়গুলো নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্করের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আসামের গুয়াহাটিতে নদী সম্মেলনের ফাঁকে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাশিয়া জ্বালানি তেল দিতে চায়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার ভয়ে বাংলাদেশ নেয়নি। ভারত কিভাবে নেয়, তা তিনি জানতে চেয়েছেন। ভারত বড় দেশ। তাই তারা নিলে নিষেধাজ্ঞা দেয় না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দরিদ্র ছোটখাটো দেশ। আমাদের ওপর মাতবরি একটু বেশি। মাতবরি তো দেখছেনই প্রতিদিন। আর আপনারা (সাংবাদিকরা) তাঁদের (পশ্চিমা দূতদের) উৎসাহ দেন। ’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা (পশ্চিমারা) প্রতিদিন একেকটা ইস্যু নিয়ে আসে। আমরা তাদের বলতাম উন্নয়ন অংশীদার। এখন উন্নয়নের এক পয়সাও দেয় না। কিন্তু খালি পরামর্শ দিয়েই যাচ্ছে। ’ তিনি বলেন, উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার জন্য যত ধরনের ফরমায়েশ আছে, সব দিচ্ছে। অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন রকমের শর্ত দিচ্ছে। সেগুলো তো গ্রহণযোগ্য নয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গম রপ্তানিতে ভারত যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য কার্যকর নয়। বন্যা হলে ভারত যেন আগে নির্দেশনা দেয়, সে ব্যাপারে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, সব নদী সচল চাই। নদী এলাকায় যারা থাকে তারা যাতে ভালো থাকে। ভারত বলে, চীন নদী আটকে দেয়। অববাহিকাভিত্তিক সমাধান হতে হবে। এতে ভারত রাজি হয়েছে। ভারত বলেছে, এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা লাগবে।

আব্দুল মোমেন বলেন, আসামে সহকারী হাইকমিশন থেকেও বাংলাদেশের ভিসা দেওয়া হবে। দুই দেশের যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) বৈঠক আগামী ১৮ ও ১৯ জুন নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে। প্রস্তুতি না থাকায় ৩০ মে জেসিসি বৈঠক স্থগিত করা হয়।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডির সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরে মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গ্র্যান্ডি বলেছেন যে বাংলাদেশে থাকলেই ভালো। এটি আমরা পছন্দ করিনি। এটি বলার অর্থ রোহিঙ্গাদের থাকতে উৎসাহিত করা। ’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত পাঁচ বছরে মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে কোনো সহিংসতা হয়নি। রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার এটিই সঠিক সময়। তিনি বলেন, সবার খেয়াল এখন ইউক্রেনের দিকে। তবে এসব ডামাডোলে রোহিঙ্গা ইস্যু পেছনে চলে যাক, এটি বাংলাদেশ চায় না।

তিস্তা চুক্তি ঝুলে থাকা দুর্ভাগ্যজনক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন ভারতের আসামের গুয়াহাটিতে নদী সম্মেলনের ফাঁকে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ১১ বছর ধরে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ ঝুলে থাকার বিষয়টি ‘দুর্ভাগ্যজনক’ ও ‘লজ্জাজনক’। গত শনি ও রবিবার নদী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ১১ বছর ধরে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি করতে পারিনি—এটি দুর্ভাগ্যজনক।   আমরা প্রস্তুত ছিলাম, তারা প্রস্তুত ছিল, তবু চুক্তিটি হয়নি—এটি লজ্জার বিষয়। ভবিষ্যতে পানির জন্য একটি বড় হাহাকার হবে এবং আমাদের এর জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। ’

মোমেন বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশ ৫৪টি অভিন্ন নদীর অংশীদার। তারা সব নদীর যৌথ ব্যবস্থাপনায় ভাগাভাগি এবং একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। অঞ্চলের মানুষের কল্যাণের জন্য সমগ্র অববাহিকাগুলোর যৌথ ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

ট্যাগ

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close