নিউজ

মানব দেহে শূকরের হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন

চিকিৎসা বিজ্ঞানের আরেক ধাপ অগ্রগতি

।। ডোরিনা লাইজু ।।
লণ্ডন, ১২ জানুয়ারী : বিশ্বের প্রথম মানুষ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একজন নাগরিকের দেহে জেনেটিকভাবে পরিবর্তিত একটি শুকরের হৃদপিণ্ড ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়েছে। ডাক্তাররা ৭ ঘন্টাব্যপী এই পরিক্ষামূলক অপারেশন চালানোর তিন দিন পর ৫৭ বছর বয়সী ডেভিড বাল্টিমোর সুস্থ আছেন।

ট্রান্সপ্লান্টটিকে মি. বেনেটের জীবন বাঁচানোর শেষ আশা হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছিল, যদিও তার দীর্ঘমেয়াদী বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কী তা এখনও স্পষ্ট নয়।

অস্ত্রোপচারের একদিন আগে মিঃ বেনেট ব্যাখ্যা করেছিলেন, “এই ট্রান্সপ্লান্টটি আমার জীবন-মরনের প্রশ্ন”। তিনি বলেন, “আমি জানি এটি অন্ধকারে ঢিল মারা, তবে এটি আমার শেষ অবলম্বন।”

সার্জন বার্টলি পি গ্রিফিথ এই মাসের শুরুতে ডেভিড বেনেটের সাথে

ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ড মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসকদের প্রক্রিয়াটি চালানোর জন্য মার্কিন চিকিৎসা নিয়ন্ত্রক বোর্ড একটি বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে অনুমোদন করা হয়েছিল এই ভিত্তিতে যে মি. বেনেট – যার টার্মিনাল হৃদরোগ রয়েছে – অন্যথায় মারা যেতেন।

তাকে মানব হৃদ প্রতিস্থাপনের জন্য অযোগ্য বলে গণ্য করা হয়েছিল,এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত যা রোগীর খুব খারাপ স্বাস্থ্যের সময় ডাক্তাররা প্রায়শই নেন।

সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিস্থাপনে ব্যবহৃত শূকরটি জিনগতভাবে পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং এর বেশ কয়েকটি জিনকে ছেটে ফেলা হয় যাতে মিঃ বেনেটের শরীর অঙ্গটি প্রত্যাখ্যান না করে।

যে মেডিকেল টিম প্রতিস্থাপন করেছে, তাদের জন্য এটি ছিল বহু বছরের গবেষণার পরিসমাপ্তি এবং এই পক্রিয়া দুনিয়ার অনেক মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।

সার্জন বার্টলি গ্রিফিথ বলেন যে, এই অস্ত্রোপচার বিশ্বকে “অঙ্গের ঘাটতি সংকট সমাধানের এক ধাপ কাছাকাছি নিয়ে আসবে”। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন ১৭ জন মানুষ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় মারা যায়, যেখানে ১,০০,০০০ এরও বেশি লোক অপেক্ষার তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

সন্তানদের সঙ্গেডেভিড বেনেটের সাথে

ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ড স্কুল অফ মেডিসিনের সার্জারি বিভাগের চেয়ার ডা. ক্রিস্টিন লাউ অস্ত্রোপচারের সময় অপারেটিং থিয়েটারে ছিলেন। “তিনি বেশি ঝুঁকিতে আছেন কারণ আমাদের আরও ইমিউনোসাপ্রেশন প্রয়োজন, যা সাধারণত এক মানুষের অংগ অন্য মানুষে প্রতিস্থাপনের চেয়ে কিছুটা আলাদা। তিনি বলেন, এখন থেকে রোগী কতটা ভালো থাকবেন তা স্পষ্ট নয়, কারণ আপনি জানেন, এটি আগে কখনও করা হয়নি তাই আমরা সত্যিই জানি না।”
সূত্র: বিবিসি ও  নিউ ইয়র্ক টাইমস

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close