নিউজ

শাহরিয়ার কবির ও মাওলানা আব্বাসী বাহাস: প্রসঙ্গ নাস্তিকতা

।। অনুলিখন: সৈয়দ জাকারিয়া ।।
লণ্ডন, ৩০ ডিসেম্বর – গত ২০ ডিসেম্বর, রোববার ”Facebook page. ”Face the people”-এ সাইফুর সাগরের সঞ্চালনায় একটি লাইভ ডিবেইড অনুষ্ঠিত হয়। (অনুষ্ঠানটির রিয়ল টাইম ভিউয়ারস ছিল প্রায় ২৩ হাজারের মতো যা এযাবৎ কালে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যা)। এতে উপস্থিত ছিলেন ড. সায়িদ এনায়েত উঁব্ধ­াহ আববাসি ও ঘাদানিক সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

শুরুতেই উপস্থাপক সাইফুর সাগর শাহরিয়ার কবিরের কাছে জানতে চান— ইসলাম ধর্মের কোন বিষয়কে বাংলাদেশর মানুষের জীবন ব্যবস্থার মধো সাংগষির্ক বলে আপনি মনে করেন এবং কেন করেন?
জবাবে শাহরিয়ার কবির বলেন, ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম, এই উপমহাদেশে ইসলাম প্রচার করেছেন অনেক সুফি সাধকরা শান্তি পূর্ণভাবে পলিটিকাল ইসলাম ছাড়া। সমস্যাটা হচ্ছে পলিটিকাল ইসলাম বা ধর্মের নামে রাজনীতি। তিনি বলেন, এই উপমহাদেশে ধর্মের নামে রাজনীতি শুরু করেন প্রথমে আবুল আলা মওদুদি যেটা তিনি মিশরের হাসান আল বান্নার কাছ থেকে ধার করে আনেন। হাসান আল বান্না “আল ইখওয়ানুল মুসলিমিন” প্রতিষ্ঠা করেন ১৯২৮ সালে আর মুওদুদি সাহেব ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন “জামাতি ই ইসলামি হিন্দ”। এর পরবর্তিতে আমরা দেখতে পাই ১৯৪৭/৭১-এ সবধরণের মানবাধিকার লংঘনে যেমন হত্যা, গুম, খুন, ধর্ষন ইত্যাদিতে জামাতে ই ইসলামির প্রত‍্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে। এই জঘন্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা মানবতা বিরোধী অপরাধকে তারা জায়েয বলে মনে করে। এই হলো মওদুদির ধর্মের নামে রাজনীতি বা পলিটিকাল ইসলাম।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে আমরা এই দেশটাকে মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীন করেছি। একটি ধর্মনিরপক্ষ, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের জন্য। এই জন্য বঙ্গবন্ধু ৭২ সংবিধানে চারটি মুলনীতির একটি ধর্মনিরপক্ষতা অন্তর্ভুক্ত করেন যা তিনি ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সনের ভাষণে বিষয়টি পরিস্কার করেন। যারফলে ৭১-এর পরাজিত শক্তি জামাতি মৌলবাদিরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সব নীতি পরিচালিত হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধর্মনিরপক্ষতা অনুযায়ী। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে আমাদের এখনো, জামাতি, ওয়াহাবি, সালাফিরা ধর্মের নামে রাজনীতি, প্রতিহিংসার রাজনীতি তথাকতিথ জিহাদের রাজনীতি, উন্মাদনার রাজনীতি, মোল্লা ওমরের আফগান বানানোর রাজনীতি করেই যাচ্ছে।
সাইফুর সাগর এনায়াত উল্লাহ আব্বাসির কাছে প্রশ্ন রাখেন, পৃথিবী যখন বিজ্ঞানভিত্তিক, টেকনলজিকাল লাইফ স্টাইলের উপর উল্কাগতিতে ধাবিত হচ্ছে। সেখানে আপনারা ১৪শ বছরের পুরানা ধর্মীয় কিতাব দিয়ে কিভাবে আপনারা এবং অন্য জাতিগোষ্ঠীকে পরিচালিত করবেন?
জবাবে ড. এনায়াত উল্লাহ আব্বাসি, হামদ ও দুরুদ পাঠ শেষে বলেন, জনাব শাহরিয়ার কবির সাহেব তার বক্তব্যে বুঝালেন ইসলামের প্রতি তার যথেষ্ট শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্ত ইসলাম সম্পর্কে শ্রদ্ধা থাকলেও স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে ইসলাম সম্পর্কে তার মৌলিক জ্ঞানের অভাব রয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে তিনি আবুল আলা মওদুদিকে এই উপমহাদেশের ইসলামি রাজনীতিতে টেনে আনছেন। অথচ শতকরা ৮০ ভাগ মূল ধারার আলিম আবুল আলা মওদুদির বিরোধিতা করেন।
মূলতঃ উপমহাদেশে ইসলামি রাজনীতির সূচনা করেন শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদদিসে দেহলবি (র) যা মওদুদি সাহেবের জন্মের শত বছর পূর্বে। পরবর্তিতে ওলামায়ে দেওবন্দ ইসলামি রাজনীতির ধারাবাহিকতায় প্রচার ও প্রসার ঘটিয়েছেন। ইসলামি চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই ওলামায়ে দেওবন্দ ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলন করেছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবিরা ইসলামকে বিভিন্ন নামে ডকেন। কেউ বলেন, রাডিক্যাল ইসলাম, কেউ বলেন মর্ডান ইসলাম অথচ ইসলামকে বিভক্ত করার অথিরিটি ইসলাম কাউকে দেয়নি।
তিনি বলেন, ইসলাম কোন গতানুগতিক প্রথাসর্বস্য অন্যান্য ধর্মের মত নয় বরং ইসলাম হচ্ছে একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান যা আল্লাহ সোবহানাহু ওয়াতালা তার রাসুল (সা)-এর মাধ্যমে চৌদ্দশত বছর পূর্বে জানিয়ে দিয়েছেন। একজন মুসলিমের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন কেমন হবে তা সুস্পষ্টভাবে কোরআনুল কারিমের সুরা নুরের ৫৫নং আয়াতে ও সুরা হাজজের ৪১নং আয়াতে বলে দিয়েছেন।
তিনি সহিহ মুসলিম-এর ২৪৪৫নং হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, পূর্বেকার সকল নবীগন রাজনীতি করেছেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা)ও রাজনীতি করেছেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। মুহাম্মদ (সা) হচ্ছেন সর্বশেষ নবী, কিয়ামত পর্যন্ত আর কোন নবী আসবেন না। নবী (সা) বলেছেন, আমার উন্মতের মধ্য যারা খলিফা তারা রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিবে।
এভাবে কোরআন ও হাদিসে অসংখ্য সুস্পষ্ট প্রমাণ ও দলিল দারা প্রমাণিত ইসলামি রাজনীতি ও ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থার কনসেপ্ট কোরআন ও হাদিসের মাঝে আছে।
এনায়াত উল্লাহ আব্বাসি বঙ্গবন্ধুর হত্যা সম্পর্কে বলেন, আমি জনাব শাহরিয়ার কবির সাহেবকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, স্বাধীনতার পর ৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত কারা বঙ্গবন্ধুর সুনাম সুখ্যাতির উপর আঘাত করছিল, কারা বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজাতে চেয়েছিল, বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর কারা টেংকের উপর উঠে নাচানাচি করছিল, তাদেরকে আমরা এমপি-মন্ত্রী বানিয়েছি, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের সুযোগ সুবিধা দিয়েছি।
আজকে যারা অতিমাত্রায় ধর্মনিরপক্ষতার কথা বলেন তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ্যভাবে বঙ্গবন্ধুর হত্যায় জড়তি ছিলেন। কারণ, বঙ্গবন্ধু একজন ধার্মিক মুসলিম ছিলেন। (চলবে)

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close