যুবদলের দু-গ্রুপের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র বাঙালিপাড়া

নিউজ

।। সুরমা রিপোর্ট ।।
লণ্ডন, ৫ মার্চ – যুক্তরাজ্য বিএনপির অঙ্গ সংগঠন যুক্তরাজ্য যুবদলের দু’গ্রæপের মধ্যে সংঘটিত সংঘর্ষে কিছু সময়ের জন্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিলো বাঙালি পাড়া খ্যাত হোয়াইটচ্যাপেল। সংঘর্ষে তারা হকিস্টিকসহ ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পর?রের উপর ঝাঁপিয়েপড়ে। এতে ৪/৫ আহত হন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে সাথে সাথে কয়েক গাড়ি পুলিশের গাড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। সংঘর্ষের ভিডিও ও আহতদের ছবি স্যোশাল মিডিয়া ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাটি ঘটে গত ২ মার্চ, সোমবার সন্ধ্যায়। হোয়াইটচ্যাপলের একটি রেষ্টুরেণ্টে যুক্তরাজ্য যুবদলের ব্যানারে একটি মিটিংয়ের পর এই সংঘর্ষের শুরু। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ওই মিটিংয়ে যুবদল ও বিএনপি সমর্থক ৭০/৮০ জনের মতো লোক উপস্থিত ছিল। কিন্তু সেখানে যুক্তরাজ্য যুবদল-এর সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদককে দেখা যায়নি। বিবরণে জানা যায়, যুক্তরাজ্য যুবদলের পদবঞ্চিতরা ও বর্তমান কমিটি বিরোধীরা এ সভার আয়োজন করেন। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিলো যুক্তরাজ্য যুবদলের পালটা কমিটি ঘোষণা করা ও পুরানো কমিটিকে বিলুপ্ত করে ইউনিট কমিটিগুলোর নামও ঘোষণা করার। অনুষ্ঠান শুরু হলে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীরা  বক্তৃতা করতে থাকেন। ঠিক যখনই কমিটি ঘোষণার পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা চলছে তখনই বাহির দিক থেকে ১০/১৫ জনের একদল লোক এসে হোয়াইটচ্যাপল আল-হামরা রেস্টুরেন্টের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে। তারা কমিটির বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন বাণে জর্জরিত করতে করতে হঠাৎ কয়েকজন খুব উত্তেজিত হয়ে পড়ে, যা এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এতে সাবেক যুবদল নেতা আবুল খায়ের সহ ৪/৫ জন আহত হন। সাথে সাথে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তখনই সভাটি ভন্ডুল হয়ে যায় এবং যে যার মতো করে তারা প্রস্থান করে। বিভিন্নজন তাদের বক্তব্যে এ কোন্দলের পিছনে যুক্তরাজ্য বিএনপির গ্রæপিংকেই মূলতঃ দায়ী করেছেন। শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের পছন্দের নেতৃত্ব বাছাই করে আনার টার্গেট থেকে এ ঘটনা ঘটে বলে সবাই ধারণা করছেন।

বিষয়টি সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে সুরমা পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্য বিএনপি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করা হয়।  যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালেক জানান, ঘটনার সময় তিনি ম্যানচেস্টারে ছিলেন। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাজ্য যুবদলের কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ বাধেনি, এ একটি ইউনিটের কমিটি গঠন নিয়ে সভা ছিলো। তবুও বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।

যুক্তরাজ্য যুবদলের সভাপতি এমএ রহিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে জনিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। যুক্তরাজ্য যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আফজালের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি, তিনি ফোন কল রিসিভ করেননি।

অপরদিকে, কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের অনেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের বিলেতে থাকা অবস্থায় এধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনাকে মোটেই ভালো চোখে দেখছেন না। তদের মতে, তারেক রহমানের নিরবতা এবং দলকে কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ না করার কারনেই যুবদলের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে সাহস পেয়েছে। যা বিলেতের মতো সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার দেশে বাংলাদেশীদের ভাবমূর্তিকে কলঙ্কিত করেছে বলে মন্তব্য করেন।

কমিউনিটি ল্যাগুয়েজ সার্ভিস রক্ষায় পার্লামেন্টে প্রস্তাব এমপি আফসানার

লণ্ডন, ৫ মার্চ – বরাবরের মতো স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ দাবী-দাওয়া নিয়ে সোচ্চার ও সক্রিয় ভ‚মিকা রেখে চলেছেন পপলার এণ্ড লাইমহাউজ আসনের নব-নির্বাচিত এমি আফসানা বেগম। টাওয়ার হ্যামলেটসের বাঙালি কমিউনিটির দাবীর প্রেক্ষিতে ল্যাগুয়েজ সার্ভিস চালু রাখতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন এই ব্রিটিশ-বাংলাদেশী এমপি।

গত ২৫ ফেব্রæয়ারি তিনি টাওয়ার হ্যামলেটসে কমিউনিটি ল্যাগুয়েজ সার্ভিস চালু রাখার জন্য পার্লামেন্টে একটি আর্লি ডে মোশন উত্থাপন করলে তাকে সমর্থন জানিয়েছেন আরো ১০ এমপি।

এদের ৮ জনই লেবার দলীয় এমপি। তারা হলেন- রিবারিও এড্ডি বেল, ইমরান হোসেইন, রসেল হপকিনস, পাওলা বারকার, কেইট অজবর্ণ, ইয়ান বার্নি, কিম জনসন ও ক্লাউডিয়া ওয়াবিইড এবং ১ জন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির স্টিফেন ক্রিস, এবং ১ জন ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির জিম সান্নন। এর মধ্যে ৫ জন এমপি সমর্তন ছাড়াও পন্সর করেন এবং আরো ৫ জন প্রচ্চাবটি সমর্থন করেন। পার্লামেন্টে এমপি হিসেবে আপসানা ছাড়াও আরো ৩ জন বাঙালি বংশোদ্ভুত লেবার দলীয় এমপি থাকলেও তারা এখন পর্যন্ত এতে কোনো সাড়া দেননি।

উল্লেখ্য, বাংলাসহ ১১টি ভাষা নিয়ে গঠিত টাওয়ার হ্যামলেটসের কমিউনিটি ল্যাগুয়েজ সার্ভিস দীর্ঘদিন যাবত চালু আছে। এই বারার সর্বমোট বাসিন্দার প্রায় অর্ধেক বাঙালি। বারার দুটি সংসদীয় আসনের এমপিও বাঙালি। এরপরও বাজেট কাটের অজুহাতে বাঙালি অধ্যুষিত এই বারার কমিউনিটি ল্যাগুয়েজ সার্ভিস বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাউন্সিল। গত ১৯ ফেব্রæয়ারি কাউন্সিলের পূর্ণাঙ্গ মিটিংয়ে বাতিলের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার কথা থাকলেও কমিউনিটির বিভিন্ন ভাষাভাষী বাসিন্দার দাবীর প্রেক্ষিতে পীকার কাউন্সিলার ভিক্টোরিয়া ওবেজা ২৮ দিনের ভেতরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে কাউন্সিলকে নির্দেশ দিয়েছেন। কার্যত এর ফল একই হবে বলে ধারণা করছেন এলাকার বাসিন্দারা।

প্রসঙ্গতঃ, এমপি নির্বাচিত হবার আগেও কমিউনিটি ল্যাগুয়েজ সার্ভিস রক্ষার দাবীতে সক্রিয় ছিলেন আফসানা বেগম। আফসানা বেগম লেবার পার্টি থেকে নবনির্বাচিত একজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত এমপি। নিজ এলাকা তথা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পার্লামেন্টে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে বিতর্ক হলে ব্যাপকভাবে এর পক্ষে মতামত সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন তিনি। আপসানা বেগম এমপি বলেন, টোরি সরকারের ফান্ডিং কাটের প্রভাবে সারা দেশে বিভিন্ন সার্ভিসের উপর প্রভাব পড়ছে। তবে সমাজের সেবামূলক বিষয়াদি ও কমিউনিটির মানুষের পেশাগত দিক ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতাকে গুরুত্ব দিয়ে পার্লামেন্টে কথা বলেন তিনি।