নিউজ

জগন্নাথপুরের রাণীগঞ্জ সেতু মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নামে উৎসর্গের দাবী

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ১৮ সেপ্টেম্বর : একাত্তরের অন্যতম বধ্যভূমি জগন্নাথপুরের রাণীগঞ্জে নির্মিত সেতু মুক্তিযুদ্ধের স্থানীয় শহীদদের নামে উৎসর্গের দাবী জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী রাণীগঞ্জবাসী ও স্থানীয়রা। গত ১২ সেপ্টেম্বর, সোমবার ১৯৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর বৃহত্তর সিলেটের জগন্নাথপুর উপজেলাধীন ভাটি অঞ্চলের অন্যতম নৌবন্দর রাণীগঞ্জ বাজার গণহত্যা দিবস উপলক্ষে শহীদ গাজী ফাউণ্ডেশনের উদ্যোগে পূর্ব লণ্ডনের ব্রিকলেনে এক স্মরণসভায় তারা এ দাবী জানান। একই সমাথে শহীদদের স্মরণে মন্যুমেন্ট, শিশু পার্ক, গার্ডেন, দৃষ্টিনন্দন ওয়াল ও টাওয়ার নির্মাণেরও দাবী জানিয়েছেন।

শহীদ গাজী ফাউণ্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভা ফাউণ্ডেশনের চেয়ারম্যান শহীদ সন্তান সাংবাদিক আকবর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন অক্সফোর্ড এর বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা লুৎফুর রহমান, রফু মিয়া, শহীদ মিসির আলীর ছেলে এনাম আলী, আবুল হোসাইন, মঈনুদ্দিন, সাংবাদিক রহমত আলী, আনোয়ার শাহজাহান, নাজমুল হোসেন, ইয়াওর উদ্দিন, রফিকুজ্জামান, শহীদ আব্দুল মজিদ এর নাতি সাইফুল ইসলাম বিপ্লব ও হুমায়ুন কবির প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে রাণীগঞ্জ এলাকাবাসী ও শহীদ পরিবারের সন্তানেরা অংশগ্রগণ করেন। তারা নিজেদের পরিবারের সদস্যদের পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী দ্বারা নৃশংস হত্যাকাণ্ড এর কথা স্মৃতি চারণ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে বর্ণনায় সেখানে এক আবেগ ঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্মরণসভায় জুম এর মাধ্যমেও বাংলাদেশ ও ইউকে থেকে এলাকার বিশিষ্টজনেরা অংশগ্রহণ করেন। আলোকচিত্রী আবুল আসাদ আফজাল রাণীগঞ্জের উপর সম্প্রতি নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করেন। এতে গণহত্যা নিয়ে এলাকার মানুষের স্মৃতিচারণ ওঠে আসে।

সভার শুরুতে সংগঠনের চেয়ারম্যান আকবর হোসেন সবাইকে স্বাগত জানান এবং রানীগঞ্জ গণহত্যার উপর পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেনটেশন দেন। সভায় বক্তারা গণহত্যায় নিহত সকল শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এবং সদ্য সমাপ্ত রাণীগঞ্জ সেতুকে ১৯৭ ১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যার শিকার শহীদদের নামে উৎসর্গের দাবী জানান। এছাড়াও তারা শহীদ—গাজী মনুমেন্ট, শহীদ ওয়াল, শহীদ স্মৃতি শিশু পার্ক, শহীদ গার্ডেন, শহীদ টাওয়ার জাতীয় স্মৃতিফলক তৈরীরও দাবী জানান। এতে তারা শহীদ-গাজী স্মরণে স্মরণিকা প্রকাশের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
এদিকে শহীদ গাজী ফাউণ্ডেশনের উদ্যোগে একটি ওয়েবসাইট ও ডকুমেন্টারী তৈরীর কাজ চলছে বলে জানানো হয়। আগামীতে বড় পরিসরে দেশে এবং লন্ডনে বৃহৎ আকারে একটি স্মরণ সভা আয়োজনের কথাও সভায় জানানো হয়।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে লুৎফুর রহমানকে আহব্বায়ক এবং আকবর হোসেনকে সদস্য সচিব করে শহীদ গাজী ফাউণ্ডেশন ইউকে কমিটি গঠনের লক্ষে একটি আহ্বায়াক কমিটি গঠন করা। সবশেষে স্মরণসভা সফল করার জন্য শহীদ গাজী ফাউণ্ডেশনের পক্ষ থেকে সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১ সেপ্টেম্বর পাক হানাদার বাহিনী রাজাকারদের সহোযোগিতায রাণীগঞ্জ বাজারে শতাধিক মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং বাজারের দোকানপাঠ জ্বালিয়ে দেয়।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close