সম্পাদকীয়

জরুরী ভিত্তিতে জেলখানা সংস্কার করুন

এ সপ্তাহের সম্পাদকীয় ।। ইস্যু ২২৬১

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটা ঘটনা ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে। এটা গল্প হলেও সত্য, অথবা উল্টোভাবে বলতে গেলে সত্য গল্প। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ বিরোধীতার অভিযোগে দালাল আইনে গ্রেফতার করা হয়েছিল পাকিস্তানের সাবেক স্পিকার জাতীয় পরিষদের স্পিকার ফজলুল কাদের চৌধুরী। তিনি জেলখানায় ভিআইপি মর্যাদায় ছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমান একসময় তার সান্নিধ্য এবং আতিথিয়তা পেয়েছেন। পাকিস্তানে গেলে শেখ মুজিব সবসময়ই গ্রেপ্তার আতঙ্কে থাকতেন। তাকে যাতে গ্রেফতার করা না হয় তার জন্য স্পিকার ফজলুল কাদের চৌধুরী এয়ারপোর্ট নিজের গাড়ি পাঠাতেন। ওই সম্মানের কথা শেখ মুজিব কখনো ভোলেননি। ঢাকার জেলখানায় ফজলুল কাদের চৌধুরীর কক্ষে সিলিং ফ্যান লাগিয়ে দেয়া হয় শেখ মুজিবের নির্দেশে। একবার বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ফুজলুল কাদের চৌধুরীকে ৩২ নম্বরে নেয়ার ব্যবস্থা করেন শেখ মুজিব। বিশেষ আপ্যায়নেরও ব্যবস্থা হয় সেখানে।প্যারোলে রাজবন্দীকে  আপ্যায়ন একটা ঐতিহাসিক ঘটনা। সেখানে মুজিব তার কাছে একটাই অনুরোধ করেন, বাংলাদেশকে মেনে নিলে তিনি তাঁর মুক্তির ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু ফজলুল কাদের চৌধুরী এতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তিনি বাংলাদেশের বিরোধিতা করেননি, বরং পাকিস্তানের অখণ্ডতায় বিশ্বাস করতেন। কারণ পাকিস্তান কোন রাষ্ট্র নয়, একটা আদর্শ। সুতরাং মেনে নেওয়া বা না নেওয়ার কোন বিষয় নয়। যাই হোক শেখ মুজিব রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর পরামর্শ চান। জবাবে ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেছিলেন— দেশের মানুষ যাকে জাতির পিতা বলে, তাকে পরামর্শ দেওয়ার সাধ্য তার নেই। তিনি  বললেন, জনগণের আস্থা আর ভালোবাসা নিয়ে গেলে সাফল্য আসবেই। জেলে ফেরার সময় হলো। তিনি মুজিবকে বললেন, তবে একটা কথা। আমি স্পিকার ছিলাম, জেলখানার অবস্থা এত খারাপ কেউ আমাকে কখনো বলেনি। এটা ঠিক নয়। তাছাড়া, রাজনীতি করলে যেকোনো সময় জেলে যেতে হতে পারে। যেমন এখন আমি আছি। তোমাকেও যেকোনো সময় জেলে যেতে হতে পারে। দেশের যা অবস্থা!!

 অমাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি নিশ্চয়ই এই ঘটনাটা জানেন। সুতরাং আপনারও উচিত অবিলম্বে জেলখানার পরিবেশ উন্নতি করা। জেলখানাকে বসবাস উপযোগী করা। জেলখানায় অতিরিক্ত গাদাগাদি এবং খুব সামান্য অপরাধে অথবা বিনা অপরাধে হাজার হাজার মানুষকে জেলে আটক রাখা অমানবিক ও বেআইনি। এর অবসান হওয়া উচিত। কারণ জেলখানা যত উন্নত হবে রাজনীতিকদের জন্য কখনো যদি জেলে যেতে হয় সেটা হবে মোটামুটি আরামপ্রদ। অন্তত সাধারণ বসবাসের উপযোগী। সর্বজনীন অর্থে যেহেতু আপনি রাজনীতি করেন ব্যতিক্রম না হলে আপনার জেল যাপন অনিবার্য। যেমনি ভাবে একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে ১/১১র মধ্যে আপনি দুর্নীতির অভিযোগে এক বছর জেল খেটে নিয়েছিলেন। মইনুদ্দিনদের বিশেষ অনুগ্রহে সে সময় আপনাকে ঢাকার জেলখানায় যেতে হয়নি যেখানে নির্জন কারাগারে আপনি খালেদা জিয়াকে অত্যন্ত করুন এবং একাকিত্বের মধ্যে বসবাসের বাধ্য করেছেন জেলখানার নামে সলিটারি কনফাইনমেন্ট অথবা ফাঁসির আসামিদের কনডেন্স ছেলের মত করে খালেদা জিয়ার জেল জীবন ও পরিবেশের বর্ণনা ইতিমধ্যে সকলেই অবহিত। গত ১৪ বছরে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক মানুষের উপর যে নির্দয় আচরণ জেলখানা ও বাইরে করা হয়েছে তাতে আগামী দিনের রাজনীতিকদের জেল যাপন কতটা নির্মম হতে পারে, সেটা অমাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি স্বপ্নেও অনুমান করতে হয়তো ব্যর্থ হবেন। আমরা গণমাধ্যম গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অধিকারের পক্ষে থাকি বলে সময়মতো আপনাকে এই পরামর্শ দিচ্ছি। কারণ যদি এই জরুরী কাজটি করতে আপনি ব্যর্থ হন তাহলে আপনার সম্ভাব্য জেল জীবন হতে পারে অত্যন্ত কষ্টদায়ক। আপনি কিংবা অন্য রাজনীতিকরা সাপ্তাহিক সুরমার এই আগাম সতর্কতার কথা ভাববেন আর অনুশোচনায় ভুগবেন। রাজনীতিক হিসেবে আপনার কিংবা আপনার সহযোগীদের অনুশোচনা কোনভাবেই কাম্য নয়। 

আবারও অনুরোধ— প্রধানমন্ত্রী জরুরী ভিত্তিতে জেলখানা উন্নয়নে মনোযোগ দিন। জেলখানার উন্নতি করুন। পরামর্শটি কেউ না কেউ নিশ্চয়ই আপনাকে পৌঁছে দেবেন।আপনি শুনুন বা না শুনুন; সময়মতো পরামর্শটি দিয়ে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি। এই সুযোগটি দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close