ফিচার

শ্রমজীবী শিশুদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনে বৃটিশ বাংলাদেশী এডুকেশন ট্রাস্টগুলোর করনীয় কি?

।। নজরুল ইসলাম বাসন ।।
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট
সুরমার সাবেক সম্পাদক।

শ্রমজীবী শিশুদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনে বৃটিশ বাংলাদেশী এডুকেশন ট্রাস্টগুলো কি করনীয় কি হতে পারে? এ নিয়েই আমার আজকের এই প্রতিবেদন। তবে তার আগে কিছু কথা বলে নেই। কয়েকদিন আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনিসেফ প্রতিনিধি মি: শেলডেন ইয়েট বৃটিশ বাংলাদেশী চেম্বার অব কমার্সের এক নেটওয়ার্কিং সভায় এসেছিলেন। মি: শেলডেন ইয়েটের কাছে সভায় শ্রমজীবী শিশুদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনে বৃটিশ বাংলাদেশী এডুকেশন ট্রাস্টগুলো কি করনীয় কি হতে পারে? ইউনিসেফের সাথে পার্টনারশীপের মাধ্যমে কিছু করা যায় কি না? এ কথাটাই তুলে ধরেছিলাম তাকে অবহিত করার জন্যে। সভা শেষে কিছুক্ষনের জন্যে আমার সুযোগ হয়েছিল তার সাথে বিলেতে গঠিত সিলেটের উপজেলা ভিত্তিক বাংলাদেশি এডুকেশন ট্রাস্টগুলোর বর্তমান কর্মসুচি ও তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি হতে পারে এ নিয়ে কথা বলার। তিনি আগ্রহ নিয়ে আমার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শোনেছেন,তার সাথে এ নিয়ে আলোচনা করার জন্যে যোগাযোগ করার জন্যে  বলে গেছেন।

মি: শেলডন ইয়েট সম্পর্কে কিছু কথা বলে নেই, তিনি ১৯৭৭ সাল থেকে তিনি ইউনিসেফে কর্মরত রয়েছেন, উন্নয়ন কার্যক্রম ও মানবিক জরুরী মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় তার দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশে যাওয়ার আগে বিশ্বের আরো বিভিন্ন দেশে ইউনিসেফের উন্নয়ন ও জরুরী মানবিক কার্যক্রম বিষয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দীপপুঞ্জের রাস্ট্রগুলোতে ইউনিসেফের প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করেছেন, ২০২১ সাল থেকে তিনি ইউনিসেফের বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিজ্ঞ এই ইউনিসেফ কর্মকর্তা জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ও রিড কলেজ থেকে ব্যাচেলর অফ আর্টস ডিগ্রি শেষ করে সাংবাদিকতা পেশায় যোগ দিয়েছিলেন। মি: শেলডেন ও এক সময় মিডিয়ায় ছিলেন আর আমি ও লন্ডনে মিডিয়ায় তিন দশকের বেশী সময় ধরে কাজ করেছি সেই সুবাদে আমি লক্ষ্য করেছি বৃটিশ বাংলাদেশী এডুকেশন ট্রাস্ট গুলোর কার্যক্রম। আমি দেখে আসছি ট্রাস্টগুলো যে জায়গা থেকে শুরু করেছিল এখন ও সেই একই জায়গায় আটকে আছে।  যেমন ট্রাস্টগুলো ফিক্সড ডিপোজিটের টাকা থেকে প্রাপ্ত সুদ থেকে স্কলারশীপ দেয়া শুরু করেছিলেন। এখনও তারা স্কলারশীপ দিচ্চেছন।

এডুকেশন ট্রাস্টগুলো যদি স্কলারশীপ না দিয়ে তাদের আওতাধীন এলাকার শিশুদের বা শ্রমজীবী শিশুদের শিক্ষার ব্যাপারে ইউনিসেফ বা বৃটিশ কাউন্সিলের মত আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে পার্টনারশীপের মাধ্যমে কাজ করত তাহলে গ্রামের শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি হত। এডুকেশন ট্রাস্ট গুলো এ ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ তিনি উত্সাহি হবেন বলে আশা রাখি।

ইউনিসেফ এর কর্মসুচীর সাথে ছোট এনজিও গুলোকে কিভাবে সহযাত্রী করা যায়?

ইউকে বাংলাদেশে এডুকেশন ট্রাস্টের রয়েছে একদল দক্ষ কমীর্বাহিনী তারা শিক্ষা, প্রশিক্ষন দিতে পারদশীর্। শ্রমজীবী শিশুরা যাতে লেখাপড়ায় ঝরে না পড়ে সেজন্যে তাদের পরিবারে উপার্জনক্ষম সদস্যকে কাজের ব্যবস্থা করে দেয়ার উদ্যেগ ও নেয়া হয়েছে। অভিভাবকদের দেয়া হয় ক্ষুদ্র ঋণ। এই ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে অভিভবাকরা ছোট ছোট ব্যবসা করে থাকে। ইউকে বাংলাদেশ এডুকেশন ট্রাস্টের কমীর্বাহিনীর কাজ হল উপরোক্ত বিষয়গুলোকে সুচারুরুপে তদারক করা।

সিলেটের হাউজিং এস্টেটে অবস্থিত আইটি প্রশিক্ষন কেন্দ্র ক্রিয়েটর ল্যাবের সাথে আকবেটের রয়েছে কাজের সম্পর্ক, ক্রিয়েটর ল্যাবের লাইফ স্কিল ও ফ্রিল্যান্সার কোর্সের জন্যে ইউকে বাংলাদেশ এডুকেশন ট্রাস্ট ছাত্র যোগান দিয়ে থাকে, ইউকে বাংলাদেশে এডুকেশন ট্রাস্ট বা আকবেট কিছু ছাত্রের কোর্সের ব্যায় ভার ও বহন করে থাকে। পার্টনারশীপের এই অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায় ইউনিসেফ, বৃটিশ কাউন্সিল, বিলেতের বৃটিশ বাংলাদেশী এডুকেশন ট্রাস্টগুলো ইউকে বাংলাদেশ এডুকেশন ট্রাস্টের এই মডেল অনুসরন করতে পারলে গ্রামাঞ্চলে শিশু ও শ্রমজীবী শিশুদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনে বিরাট পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

গ্রামাঞ্চলের নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে উদ্যেগ নেয়া যেতে পারে :

গ্রামাঞ্চলের নারীদের ক্ষমতায়নে ও ইউকে বাংলাদেশী এডুকেশন ট্রাস্টগুলো বিরাট ভুমিকা রাখতে পারে। এখানে উদাহারন স্বরুপ বলা যায়, গত বছর (২০২১) সিলেট নগরীর টুকেরবাজার এলাকায় আকবেটের উদ্যেগে আয়োজিত নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে একটি সেলাই প্রশিক্ষন কোর্স সফল ভাবে শেষ করা হয়েছে। ট্রেনিং প্রাপ্তদের মহিলাদের টেইলারিং এ কাজ ধরিয়ে দেয়া হয়েছে এবং একটি করে সেলাই মেশিন তাদের দেয়া হয়েছে যাতে তারা ঘরে বসে সেলাই করে অর্থ উপার্জন করতে পারে। এ ছাড়া ও ৮ জন মহিলাকে দিয়ে বিউটিশিয়ান কোর্স করানো হয়েছে, যাদেরকে দেয়া হয়েছে সাজানোর কিট ব্যাগ ট্রেনিং প্রাপ্ত মহিলারা ক্লায়েন্টের বাসায় গিয়ে সাজানোর কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। খাদিম নগরের দলই পাড়ায় রয়েছে ক্যাফে বিডি এর মাব্বিপারপাস ট্রেনিং সেন্টার। ইউকে বাংলাদেশ এডুকেশন ট্রাস্ট বা আকবেট দলইপাড়ার সেলাই প্রশিক্ষন সেন্টারে ৭টি সেলাই মেশিন ও ওভারলুক মেশিন দিয়েছে শহরতলির  মেয়েরা সেখানে ট্রেনিং নিচ্চেছন।

বৃটিশ বাংলাদেশী এডুকেশন ট্রাস্টগুলোর ইউনিসেফের পার্টনারশীপ করার যায় কি না?

দীর্ঘদিন ধরে অনাবাসি বাংলাদেশীরা পার্টনারশীপের মাধ্যমে ব্যবসা বানিজ্য করেছেন। এখন সময় এসেছে এনআরবিদের দক্ষতা বিনিময় করে সামাজিক উদ্যেগগুলোকে সহায়তা দেয়া। ইউনিসেফ ও বৃটিশ কাউন্সিল সহ যেসব সংগঠন ও ব্যাক্তি বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগি হিসাবে কাজ করছে এদের সাথে বৃটিশ:বাংলাদেশী এডুকেশন ট্রাস্টগুলো শিক্ষার উন্নয়নের সহযোগী হতে পারে। এখানে উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের জাতীয় সংগঠন গণস্বাক্ষরতা অভিযান, পরিবেশবাদী সংগঠন বাপা, বৃহত্তর সিলেটের সবচাইতে বড় এনজিও  এফআইভিডিবি, ইউকে বাংলাদেশ এডুকেশন ট্রাস্ট বা আকবেট, ইনোভেটর (সিলেটে বইপড়ার আগ্রহ সৃষ্ঠি করার সংগঠন), বিশ্ব সিলেট সম্মেলন, জালালাবাদ এসোসিয়েশন ইউকে, জাস্ট হেল্প ফাউন্ডেশন সহ যেসব সংগঠন সিলেটে সমাজের উন্নয়নে কাজ করছে তাদেরকে বৃটেন বাংলাদেশী সংগঠনগুলো সহযোগিতা করার উদ্যেগ নিতে পারে।

সিলেটে কর্মরত এনজিও কমীর্দের সাংগঠনিক দক্ষতা বাড়ানোর জন্যে ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। বৃটেন বাংলাদেশী এডুকেশন ট্রাস্টের প্রকল্পগুলোতে লায়ন্স ও রোটারির সাথে জড়িত তরুনদের কে অংশীদার করলে প্রকল্পগুলো ভিন্নমাত্রা পাবে। শিশুশ্রম বন্ধ ও নারীর ক্ষমতায়ন,ইংরেজী শিক্ষকদের প্রশিক্ষন দেয়ার ব্যাপারে   এখন তথ্য প্রযুক্তির যুগ, আন্তর্জাতিক বিশ্বের সাথে কাজ করতে হলে ইংরেজী ভাষা জানাটা আবশ্যক। সম্প্রতি বিশ্বনাথ এডুকেশন ট্রাস্টের ট্রাস্টিরা তাদের উপজেলার ২০ জন ইংরেজী বিষয়ের  শিক্ষককে টিচার নলেজ টেস্ট ট্রেনিং করিয়েছেন ইউকে বাংলাদেশ এডুকেশন ট্রাস্ট আকবেটের মাধ্যমে। প্রশিক্ষিত শিক্ষকরাই ভালো শিক্ষা দিতে সক্ষম হবেন।

অনাবাসি নতুন প্রজন্মের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগাতে হবে:

বৃটেন ,ইউরোপ ও আমেরেকিার নতুন প্রজন্মের পেশাজীবী অনাবাসি বাংলাদেশীরা বাংলাদেশের শিক্ষার উন্নয়নে নিজ নিজ এলাকায় ভুমিকা রাখছেন এমন খবর ও পাওয়া যায়, এটি আমাদের জন্যে খুব ভাল সংবাদ যে যাদের বাবা মাম্বরা বাংলাদেশের জন্যে কাজ করছেন তাদের ছেলে মেয়েরাও মা বাবার কাজ দেখে উ্সাহিত হচ্চেছ বা হয়েছে, মা বাবার পদাংক অনুসরন করছে। দু:খের সাথে বলতে হয় অনাবাসিদের মূল্যায়ন করা হয় তারা দেশে কি পরিমান রেমিট্যান্স পাঠালেন তা দিয়ে, এটি আসলে খুবই দৈন্যতার লক্ষন।  অনাবসি নতুন প্রজন্ম রেমিট্যান্সের জায়গায় তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজে লাাগতে পারছে তাদের উদ্যেগকে মূল্যায়ন করলে অনাবাসিদের উদ্যেগকে সম্মানিত করা হবে।

লণ্ডন, ২০ জুন ২২

নিউজ

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close