নিউজ

আলেমদের বিরুদ্ধে কথিত শ্বেতপত্র প্রকাশ বেআইনী ও রাষ্ঠ্রদ্রোহিতার শামিল

বৃটেনের সর্বদলীয় উলামা সংগঠনের নিন্দা ও প্রতিবাদ

গণধিকৃত, ভুঁইফোড় গণকমিশন কর্তৃক দেশের ১ হাজার মাদ্রাসা ও মুহাতামীম এবং ১১৬জন শীর্ষস্থানীয় পীর-মাশায়েখ, আলেম ও জনপ্রিয় ইসলামী আলোচকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও কল্পিত অভিযোগে অভিযুক্ত করে তৈরিকৃত কথিত শ্বেতপত্র দুদকে হস্তান্তরের ন্যাক্কারজনক অপকর্মের তীব্র নিন্দা এবং এর সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনানুগ দৃষ্ঠান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি জোড় দাবী জানিয়েছে বৃটেনের সর্বদলীয় উলামা সংগঠন বাংলাদেশী মুসলিমস ইউকে ।

গত ২০ মে রবিবার বাংলাদেশী মুসলিমস ইউকের উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনস্থ সেন্টার ফর ইসলামিক গাইডেন্স এর সেমিনার হলে এক প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয় । সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শায়খ ইমাদাদুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক মাওলানা শাহ মিজানুল হক এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উলামায়ে কেরামগণ বলেন,কথিত ইসলামবিরোধী গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত কথিত ‘গণকমিশন’ জনগনের মধ্যে বিভেদ-বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে দিয়ে দেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।
ইসলাম ও মানবতার দুশমন ঘাদানিক চক্র বাংলাদেশকে একটি ব্রাম্ম্যন্যবাদী রাষ্ট্র বানাতেই দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম ও কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিত্তিহীন শ্বেতপত্র জমা দিয়েছে।


উলামায়ে কেরামগণ তাঁদের বক্তব্যে আরো বলেন, কওমি মাদরাসাগুলো হচ্ছে মানুষ গড়ার কারিগর। দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম ও মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে দুদকে মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে তাঁরা বলেন, “সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের প্রদত্ত ক্ষমতা বলে কথিত গণকমিশন দেশের সম্মানিত নাগরিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত করলো ? তারা মূলত: দেশকে অস্থিতিশীল করতেই ইসলাম ও উলামায়ে কেরামকে টার্গেট করে নানান কূটকৌশলের মাধ্যমে ইসলাম বিদ্বেষী কাজ পরিচালনা করে আসছে, যা দেশ ও রাষ্ট্রের জন্য সুষ্পষ্ঠ হুমকি স্বরুপ।


উলামায়ে কেরাম বলেন, একথা অস্বীকার করার উপায় নেই, ঐতিহাসিকভাবেই কওমি মাদরাসা এবং ওয়াজ মাহফিল এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষকে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা শিক্ষায় যে অবদান রাখছে তা সরকার,সরকার প্রধানও নির্দিধায় স্বীকার করে থাকেন। বক্তারা আরো বলেন, কোন প্রকার এখতিয়ার এবং আইনী অধিকার ছাড়াই বিতর্কিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিশন ঢালাওভাবে দেশের শীর্ষস্হানীয় আলেমদের অপমান এবং অপদস্ত করতে যে রিপোর্ট দুদকে জমা দিয়েছে এটা দেশে ধর্মীয় উষ্কানির শামিল। তাদের এহেন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ও স্পষ্ঠভাষী আলেমে দ্বীন আল্লামা এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীর বিরুদ্ধে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ কর্তৃক মামলা দায়ের ও গ্রফতারের দাবী একই মহাপরিকল্পনার অংশ ।তাঁরা আল্লামা আব্বাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে মামলাটি খারিজ করার দাবী জানান।


বক্তারা দাবী করে বলেন, আমরা দেখতে চাই দুদক দেশের হাজার কোটি টাকা পাচারকারী, মজুতদার, মাদক ব্যবসায়ী , চোরাকারবারি ও কালো টাকার মালিকদের তালিকা করে আইনের আওতায় বিচারে সোপর্দ করবেন ।তাঁরা দেশে ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক উষ্কানি দেয়ার অপরাধে ‘গণ কমিশন’ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ঠদের বিচারের আওতায় আনারও দাবী জানান।

সভায় উপস্থিত উলামায়ে কেরামগণের মধ্যে বক্তব্য রাখেনঃ ইসলামি শরিয়া কাউন্সিল ইউকের চেয়ারম্যান ও দাওয়াতুল ইসলামের আমীর শেখ মাওলানা আবু সাঈদ,খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব ও ইউরোপের পরিচালক অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল কাদির সালেহ, দাওয়াতুল ইসলামের সাবেক আমীর শেখ মাওলানা এ কে এম মাওদুদ হাছান, ইষ্ট লন্ডন মসজিদের ইমাম হাফিজ মাওলানা আবুল হোসাইন খান,জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউ কের সভাপতি মাওলানা শোয়াইব আহমদ,খেলাফত মজলিসের ইউ কে সভাপতি মাওলানা সাদিকুর রাহমান,বাংলাদেশী মুসলিমস ইউক’র সভাপতি মন্ডলির অন্যতম সদস্য ও অর্থসচিব মাওলানা মুমিনুল ইসলাম ফারুকী,খেলাফত মজলিস ইউ কের সহসভাপতি হাফিজ মাওলানা হাছান নূরী চৌধুরী, হাফিজ মাওলানা আব্দুল কাদির,জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ইউকের সেক্রেটারী হাফিজ মাওলানা সৈয়দ তামীম আহমদ,বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা রফিক আহমদ রফিক,লন্ডন ইকরা একাডেমির পরিচালক মাওলানা এফ কে এম শাহজাহান,বাংলাদেশী মুসলিম ইউকের প্রচার সম্পাদক মাওলানা তায়ীদুল ইসলাম,দারুল উম্মাহ মসজিদের ইমাম ও ইসলামিসটিচার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মাওলানা আবুল হাসানাত চৌধুরী,খেলাফত মজলিস লন্ডন সিটি শাখার প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা দিলওয়ার হোসেন প্রমূখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close