নিউজ

করোনা: ভয়াবহ রূপে দ্বিতীয় আঘাত

ইংল্যাণ্ডে নতুন করে তিন স্তরের বিধি-নিষেধ আরোপ
লেবার পার্টি দেশব‍্যাপী লকডাউনের দাবী জানিয়েছে

।। সুরমা প্রতিবেদনম ।।
লণ্ডন, ১৫ অক্টোবর – ভয়াবহ রূপে করোনা দ্বিতীয় দফায় ধেয়ে আসছে। প্রতিদিন হাজার হাজার করে বাড়ছে সংক্রমণ, একই সাথে মৃতের হারও। ইতোমধ্যে ব্রিটিশ সরকারের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেশ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, অক্টোবরে প্রতিদিন ৫০ হাজার লোক আক্রান্ত হবেন এবং নভেম্বরে প্রতিদিন প্রায় ২শ করে মানুষ মারা যাবেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে পরিস্থিতি সেই ভয়াবহতার দিকেই এগুচ্ছে।

সরকারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী এরই মধ্যে প্রায় ২০ হাজার লোক আক্রান্ত হয়েছেন। ১৪ অক্টোবর, বুধবার নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৯,৭২৪ জন। আগের দিন মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৭,২৩৪ জন। ২৪ ঘন্টায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় আড়াই হাজার (১৪%)। বুধবার নতুন করে মৃত্যু হয়েছে ১৩৭ জনের এবং আগের দিন মঙ্গল মৃত্যু হয়েছিলো ১৪৩ জনের। করোনা আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪ হাজারের অধিক মানুষ। তম্মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ভেন্টিলেশনে আছেন ৪৬৮ জন।
করোনার ভয়াবহতার বিষয় অনুভব করার পাশাপাশি সরকারের নেয়া পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় মন্তব্য করে দেশব্যাপী ‘সার্কিট ব্রকার’ লকডাউনের দাবী জানিয়েছে বিরোধী দল লেবার। এছাড়া অর্ধেকের বেশী (৫৪%) মানুষ আবার দেশব্যাপী লকডাউনের পক্ষ তাদের মতামত ব্যক্ত করছেন বলে ইউগোভ পরিচালিত এক পরিসংখ্যানে ওঠে এসেছে।
এদিকে, মহামারি কোভিড-১৯ এর বিস্তার ঠেকাতে পূর্ব-ঘোষণা অনুযায়ী ইংল্যা-জুড়ে নতুন করে তিন স্তরের বিধি-নিষেধ কার্যকর হয়েছে। বেশিরভাগ এলাকায় নি¤œ তথা মাঝারি পর্যায়ের বিধিনিষেধ চালু হলেও নর্থ এবং মিডল্যা-ে কয়েক মিলিয়ন মানুষের পারিবারিক যোগাযোগ নিষিদ্ধ ছাড়াও জারি করা হয়েছে অতিরিক্ত কিছু বিধি-নিষেধ।
সবচেয়ে কঠোর অর্থাৎ সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিধিনিষেধ জারি হয়েছে লিভারপুল অঞ্চলে। অঞ্চলটির যেসব বার ও পাবস খাবার সরবরাহ করে না সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
গ্রেটার ম্যানচেস্টার, ল্যাঙ্কাশায়ার এবং আরও কিছু অঞ্চলে কঠোর অর্থাৎ সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিধিনিষেধ জারি করা যায় কিনা এ নিয়ে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন সরকারের ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পরপরই লিভারপুল শহরে অনেক মানুষকে একসঙ্গে দেখলেই তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিচ্ছে পুলিশ।
এ দিকে সোমবার থেকে অর্ধমেয়াদে স্কুল বন্ধের সময়সীমা বৃদ্ধি করতে যাচ্ছে উত্তর আয়ারল্যান্ড। এ ছাড়া ভাইরাসের বিস্তার ঠকাতে আরও কিছু বিধিনিষেধও কার্যকর হতে যাচ্ছে।
ইংল্যাণ্ডের সর্বত্র তিন স্তরের নতুন এই বিধিনিষেধের মধ্যে কোথাও মাঝারি কোথাও উচ্চ কিংবা কোথাও আবার অতি উচ্চ মাত্রার বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
মাঝারি পর্যায়ের বিধিনিষেধের আওতাধীন এলাকাগুলোতে এখন জাতীয়ভাবে জারি বিধিনিষেধ চালু আছে। এর মধ্যে ঘরে কিংবা বাইরে ছয় জনের বেশী একত্রিত হতে পারবেন না। রাত ১০টায় বন্ধ হবে পাব, বার ও রেস্টুরেন্ট।
এ ছাড়া উচ্চ পর্যায়ের বিধিনিষেধ জারি রয়েছে নর্থ-ইস্ট ইংল্যাণ্ড, নর্থ-ওয়েস্টের বেশিরভাগ এলাকা এবং মিডল্যাণ্ডের কিছু এলাকায়। এসব অঞ্চলে এক পরিবার অন্য পরিবারের সঙ্গে মিলিত হতে পারবে না।
অতি-উচ্চমাত্রার এলাকাগুলো আবার অতিরিক্ত বিধিনিষেধের আওতাভুক্ত। এক্ষেত্রে ঘরের ভেতর, অনুষ্ঠানস্থল কিংবা উন্মুক্ত এলাকাগুলোতেও এক পরিবারের অন্য পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার অনুমতি নেই।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close