নিউজ

“ষড়যন্ত্রমূলক” ধর্ষণ মামলায় ভিপি নুর গ্রেফতার, অতঃপর মুক্তি!

সুরমা ডেস্ক
লণ্ডন, ২১ সেপ্টেম্বর – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরকে কথিত একটি ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার অতঃপর কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে তাকে মুক্তি দেয়া নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। তার এই গ্রেফতারকে অনেকেই ষড়যন্ত্রমূলক মনে করছেন। ভিপি নূরও সামাজিক মাধ্যমে দেয়া দীর্ঘ বক্তব্য এই মামলাকে তার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশে বলে অভিহিত করেছেন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদ সূত্র মতে, সোমবার রাতে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ থেকে নূরসহ সাতজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রাত সোয়া ৮টার দিকে তাকে রাজধানীর শাহবাগ থেকে আটক করা হয়েছিল।
পুলিশের কাজে বাধা দেয়া এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে শাহবাগ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর এলেও বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন সংবাদ পরিবেশিত হতে দেখা গেছে।
মানবজমিনে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, আটকের ঘণ্টাখানেক পরে ছেড়ে দেয়া হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরকে। ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম মানবজমিনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অপরদিকে, যুগান্তর সংবাদ করেছে যে এ বিষয়ে রমনা জোনের এডিসি হারুন অর রশিদ তাদেরকে বলেন, তাকে ছেড়ে দেয়া হবে কি না সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
একই সংবাদে ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান জানান, নুরুল হক নুরসহ আমাদের সহযোদ্ধারা এখনও পুলিশের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন কিনা, সেই বিষয়ে আমরা নিশ্চিত করে কিছু জানি না।
উল্লখ্য, রোববার নুরসহ কোটা সংস্কার আন্দোলনের ৬ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। মামলার এজহারে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারী ধর্ষিত হওয়ার অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান আল মামুনকে। ধর্ষণে সহযোগী হিসেবে ভিপি নুরকে করা হয়েছে ৩ নম্বর আসামি।
মামলায় একই সংগঠনের অন্যান্যদের মধ্যে নাজমুল হাসান সোহাগ, সাইফুল ইসলাম, নাজমুল হুদা ও আবদুল্লাহ হিল বাকির নাম রয়েছে।
গত ৩ জানুয়ারি ধর্ষণ এবং এতে সহযোগিতার অভিযোগ এনে লালবাগ থানায় তাদের নামে এ মামলা করা হয়।
ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্ল, ভিপি নুরসহ কয়েকজন বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ধর্ষণ মামলার প্রতিবাদে ছাত্র-ছাত্রীরা বিক্ষোভ মিছিল করার সময় নূরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় পুলিশের সাথে ব্যাপক বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয় প্রতিবাদকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

মামলা বিষয়ে ভিপি নুরের বক্তব্য:

ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে রাজধানীর লালবাগ থানায় রুজু করা একটি মামলা বিষয়ে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন ভিপি নুর।
মামলার বিষয়ে তেমন কিছু জানেন না এবং বাদী সেই নারীকেও তিনি চেনেন না বলে দাবি করেন ভিপি নুর।
মামলাটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করছেন ভিপি নুর।
মামলার পর এক লাইভ ভিডিওতে ভিপি নুর বলেন, লালবাগ থানায় না কোথায় মামলা হয়েছে সেটি আমি জানি না। এমনকি কোন মেয়ে মামলাটি করেছে তাকেও চিনি না। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা তো নতুন কিছু নয়। এসব মামলা-হামলা ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ।
কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে উঠে আসা এই ছাত্রনেতা বলেন, আমার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা হয়েছে। চুরির মামলা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলাও হয়েছে।
ভিপি নুর বলেন, এসব মামলা মূলত আমাদের চরিত্র হনন করার ষড়যন্ত্র। এসব মামলায় আমরা বিচলিত নই। দেশবাসী সবকিছু বোঝেন এবং জানেন। মামলা দায়েরকারীকে আমি চিনি না।
নুর বলেন, এসব মামলা করে লাভ নেই। আমি মামলা-হামলার ভয় পাই না। জনগণকে তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার লড়াই চলবেই। মনে রাখতে হবে- এই দিন দিন নয়, আরও দিন আছে।
মামলার বিষয়ে লালবাগ থানার ওসি কেএম আশরাফ উদ্দীন যুগান্তরকে জানান, রোববার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। গত ৩ জানুয়ারি ১০৪, নবাবগঞ্জ রোডের একটি বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থী। মামলার এজাহারে ৬ জনকে আসামি করা হলেও ধর্ষণকাণ্ডে ডাকসু ভিপি একাই জড়িত ছিলেন বলে দাবি ওই শিক্ষার্থীর।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close