সম্পাদকীয়

গণভোটই কাশ্মীর সমস্যার টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান

কাশ্মীর সমস্যা বৃটিশ শাসকদের রেখে আসা একটি সমস্যা। ১৯৪৭ সাল থেকে এ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের অনেক রক্তক্ষয় হয়েছে এবং শাহাদত বরণ করেছে কাশ্মীরের অসংখ্য নারী-পুরুষ ও শিশু।

ভারতীয় লোকসভায় ৫ আগষ্ট ‘জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল ২০১৯’ পাসের মধ্য দিয়ে বিলুপ্ত হয়েছে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫ (এ) ধারা। এর মাধ্যমে কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা এবং কাশ্মীরের ভারতীয় ইউনিয়নে যুক্ত থাকার শর্ত বিলুপ্ত হলো। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ কাশ্মীরি জনগণ তাৎক্ষণিকভাবে আন্দোলন শুরু করতে না পারে সে কারণে নরেন্দ্র  মোদির সেখানে সেনাসংখ্যা রাতারাতি বৃদ্ধি করলেন।

স্বাধীন কাশ্মীর রাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় ইউনিয়নে যোগদান করেছিল ১৯৪৯ সালের ২৭ মে কাশ্মীরি গণপরিষদে পাস হওয়া একটি বিলের মাধ্যমে। প্রস্তাব পেশ করার সময় বলা হয়েছিল যদিও ভারতভুক্তি সম্পন্ন হয়ে গেছে, তা সত্ত্বেও ভারতের তরফ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে যে পরিস্থিতি তৈরি হলে গণভোট নেওয়া হবে এবং গণভোটে ভারতভুক্তি যদি গৃহীত না হয়, তাহলে “আমরা কাশ্মীরকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করবো না।”  অলিখিত চুক্তি ছিল, যোগদানের সময়কালীন প্রতিশ্রুতি রক্ষিত না হলে, দু’ পক্ষই নিজেদের পূর্বতন অবস্থানে ফিরে যেতে পারবে।

১৯৪৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কাশ্মীরে গণভোট হয়নি, সেখান থেকে ভারতীয় সৈন্যদের অপসারণও হয়নি। উপরন্তু ভারতীয় লোকসভায় ৫ আগষ্ট ‘জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল ২০১৯’ পাসের মধ্য দিয়ে বিলুপ্ত হয়েছে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫ (এ) ধারা। এর মাধ্যমে কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা এবং কাশ্মীরের ভারতীয় ইউনিয়নে যুক্ত থাকার শর্ত বিলুপ্ত হলো। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ কাশ্মীরি জনগণ তাৎক্ষণিকভাবে আন্দোলন শুরু করতে না পারে সে কারণে নরেন্দ্র  মোদির সেখানে সেনাসংখ্যা রাতারাতি বৃদ্ধি করলেন।

যে জাতি তাদের শহীদদের জন্য কবর প্রস্তুত রাখে, যে প্রজন্ম স্বাধীনতার স্লোগান দিতে দিতে বড় হয় তাদেরকে দমানো যায় না। কাশ্মীরে স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলোর সাথে এখন যোগ দিবে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোও। যারা এতদিন রাজনৈতিকভাবে সমাধান চাইতো তারাও সশস্ত্র হতে বাধ্য হবে। অনেক বেশী বিক্ষিপ্ত, চোরাগুপ্তা ও গেরিলা আক্রমণের শিকার হতে হবে ভারতীয় বাহিনীকে। শুধু কাশ্মীরে নয় সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়তে পারে এই ধরণের চোরাগুপ্তা হামলা। বিমান ছিনতাই, রাজনৈতিক নেতাদের গুমের মত ঘটনাও ঘটতে পারে।

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত ইসরাইল ও আমেরিকার বন্ধুত্ব দিয়েজাতিসংঘকে নিয়ন্ত্রণ করলেও চিরশত্রু চীন ও পাকিস্তানকে নিবৃত্ত করা সহজ নয়।  চীনের শ্যোন দৃষ্টি পড়ে রয়েছে অরুণাচল প্রদেশ ও আকসাই চীনের উপর। ইতিমধ্যে দু-দু’টি যুদ্ধে তারা জড়িয়েছে! মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়াসহ অনেকগুলো মুসলিম দেশে রয়েছে ভারতের প্রায় এক কোটি শ্রমিক। যাদের রেমিটেন্সে ভারতের অর্থনীতির চাকা ঘুরে। এসব মুসলিম দেশের সুবিধাবাদ সরকারগুলো সবসময়েই তার পাশে থাকবে না। দীর্ঘদিন কাশ্মীরকে দখলে রাখা ভারতের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। যেমন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন মার্কিনীদের আফগানিস্তানে টিকে থাকা।

ভারতের মনে রাখা দরকার, কাশ্মীর উত্তপ্ত হলে সে আগুন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। বৃহৎশক্তি এবং অস্ত্রব্যবসায়ী আমেরিকা, ইসরাইল এবং রাশিয়া এখানে জড়িত হবে। পরিণতিতে ক্ষতিগ্রস্থ হবে ভারত ও পাকিস্তানের কোটি কোটি ভূখা-নাঙ্গা মানুষ। ১৯৪৯ সালের ২৭ মে তারিখে কাশ্মীরি গণপরিষদে পাস হওয়া বিলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে গণভোটের ব্যবস্থা করা ছাড়া কাশ্মীর সমস্যার শান্তিপূর্ণ কোন বিকল্প নেই। ভারতের উচিত সে পথে অগ্রসর হয়ে উপমহাদেশের শান্তি নিশ্চিত করা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close