ফিচার

একজন প্রধানমন্ত্রী

।। আবু হোসেন ।।
লেখক: শিক্ষক ও কমিউনিটি এক্টিভিস্ট

নিউজিল্যাণ্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিণ্ডা আর্ডেন যুগান্তকারী ভোট পেয়ে (৬৪%) আবার তার দেশের লেবার দলের বিজয় ছিনিয়ে আনেন এবং প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন । গতবছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে ১৫ই মার্চ ক্রাইস্ট চার্চ মসজিদে শুক্রবার জুমার দিনে যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় যেখানে ৫১ জন মানুষকে হত্যা এবং ৪০ জনকে আহত করা হয়। মূলত সেই ঘটনা থেকে পৃথিবীর মানুষের কাছে তিনি বেশি পরিচিতি লাভ করেন।

White supremacy নামে একটি বর্ণবাদী সংগঠনের সদস্য ব্রেন্টন ট্যারেন্ট নামের এক কুখ্যাত বর্ণবাদী এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের নায়ক। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রী জেসিণ্ডা আর্ডেন যেভাবে নিউজিল্যাণ্ডের মুসলিম সমাজকে হৃদয় থেকে ভালোবাসা দিয়ে, সহানুভূতি দিয়ে, সম্মান দিয়ে ঘটনাটি মোকাবেলা করেছিলেন সেজন্য পৃথিবীর লক্ষ কোটি মানুষের মনে শ্রদ্ধার আসন প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। সাথে সাথে নিউজিল্যাণ্ডে বন্দুক নিষিদ্ধ করা হয়।

তার রাজনীতিক দূরদর্শিতা, বুদ্ধিমত্তা, সততা, মানবতাবোধ সর্বোপরি মানুষের প্রতি ভালোবাসা বর্তমান পৃথিবীতে সরকার প্রধানদের মধ্যে খুবই বিরল।

করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবেলা করতে পৃথিবীর প্রত্যেকটি রাষ্ট্রপ্রধানকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কিন্তু তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে যুগোপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে তাঁর দেশে মৃতের সংখ্যা মাত্র ৩৫ জন। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে তাঁর বিখ্যাত “go hard go early” অ্যাপ্রোচ অত্যন্ত কার্যকরী হওয়ার ফলে আজ নিউজিল্যাণ্ডবাসী স্বাভাবিক জীবনযাপন
ব্যবস্থায় ফিরে এসেছে।

তিনি অত্যন্ত তরিৎ কর্মা, তাইতো দেখা যায় ইলেকশনের পরের দিনই তাঁর অফিস কাজকর্মে মুখর হয়ে গেল। ইলেকশনে পাস করেই সাথে সাথে তার সিনিয়র এমপিদের সঙ্গে কফি আপ্যায়নে মিলিত হন। যেখানে প্রত্যেকটি দেশে লকডাউনের ফলে ৬ জনের মিলিত হতে পারবেন না, বিলেতের এক পরিবারের লোক অন্য পরিবারে গিয়ে দেখা সাক্ষাৎ করতে পারবেন না, বিয়ে-শাদীতে ১৫ জনের উপরে লোক সমাগম নিষিদ্ধ।

বিলেতে যেখানে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে ফুটবল প্রতিযোগিতা হয় সেখানে নিউজিল্যাণ্ডের বিখ্যাত Bledisle Cup ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ইডেন পার্কে হাজার হাজার লোকের উপস্থিতি প্রমাণ করে নিউজিল্যাণ্ড ছোট্ট দেশ হলেও পৃথিবী থেকে আলাদা। তাদের প্রধানমন্ত্রী জেসিণ্ডা আর্ডেনের রাষ্ট্রপরিচালনা প্রমাণ করে এরকম রাষ্ট্রপ্রধান পৃথিবীতে ক্ষণজন্মা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে – নিউজিল্যাণ্ডের ৮০ বছরের মধ্যে এবার ই প্রথম এতো বেশিসংখ্যক ভোটার লেবার দলকে ভোট দিয়েছেন। তাঁর বিখ্যাত স্লোগান “Be strong be kind” মানুষের মনে মন্ত্রপাঠের মত কাজ করেছে। তিনি নিউজিল্যাণ্ডবাসীকে শক্তিশালী হওয়ার পরামর্শ দেন, সাথে সাথে দয়ালু কিংবা মানুষের প্রতি দরদ এবং মানবতাবাদের দিক্ষা দেন।

করোনা ভাইরাসের কারণে মাত্র একমাস ইলেকশন দিতে দেরী হয়েছিল বলে সমালোচকরা ট্রানজিশন নিয়ে সমালোচনা করতে দ্বিধাবোধ করেনি। তাই সাথে সাথে ইলেকশন ডিক্লেয়ার করে দেন।
জেসিণ্ডা আর্ডেনের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় তার সাফল্যের পেছনে দুটি জিনিস প্রাধান্য পায়, যখনই কোনো কিছু প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে সেটা যতো বড় শক্তিশালী হোক না কেন তিনি তড়িৎ সিদ্ধান্ত নেন, সিদ্ধান্তে অটল থাকেন এবং বাস্তবায়নে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এবারে নিউজিল্যাণ্ডের ইতিহাসের বিখ্যাত ইলেকশন প্রমাণ করে তাঁর জনপ্রিয়তার কারণেই লেবার পার্টি এত বড় সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close