ফিচার

গ্রীষ্মের ছুটিতে ইংল্যাণ্ডের সুন্দর শহরগুলোতে ঘুরে বেড়ানোর অন্যরকম অভিজ্ঞতা ও ভিন্ন রকম আনন্দ

মো. রেজাউল করিম মৃধা

পরদিন সকালে হোটেল থেকে বিদায় নিয়ে এবারের উদ্দেশ্য Whitehaven town আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই সাংবাদিক সুজাত মুনসুর ভাইর সাথে দেখা করা এবং হুয়াইটহ্যাভেন সহ আরো কয়েকটি শহর দেখা।প্রতিটি শহরেই রয়েছে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট ও আলাদা সুন্দর্য। যাবার পথেই আরো দুটি শহর দেখে নিলাম। Cockermouth , Maryport , Aspatrain সহ আরো কয়েকটি শহর।

হুয়াইটহ্যাভেন সত্যি এক অপরুপ শহর। একাধারে সমুদ্র , সমুদ্র ডগ যেখানে ছোটবড় সব ধরনের জাহাজ এসে নৌঙ্গর ফলে। বিশেষকরে মাছ ধরার ট্রলার বিকেল হতে আসতে থাকে রাত্রী যাপন করে আবার ভোর বেলা চলে যায়। মাছ সহ অন্য মালপত্র উঠানামার ব্যস্ততায় মুখরিত হয়ে উঠে পুরো বন্দর। সাগর কন্যা আমাদের প্রতি বিমুখ ছিলেন। আবহাওয়া ঘন ঘন পরিবর্তন । এই রোদ এই বৃস্টি।

এ সময় এলেন ঐ এলাকার মসজিদের ইমাম  হাফেজ মাওলানা মিজানুর রহমান । দুপুরের খাবার শেষে ইসলাম সম্পর্কে আলোচনা বেশ জমে উঠলেও হুজুর কে বিদায় নিতে হলো।ঐ এলাকায় হুজুরদের চলাফেরা ইস্ট লন্ডনের মত নিরাপদ নয় বলে মনে হলো।

এর ই মাঝে সুজাত মুনসুর ভাই ফিরে এলেন কার ছেলে সহ রাকবি খেলা দেখে। এবার আমাদের বাইরে যাবার পালা। আগেই বললাম আবহাওয়া অনুকূলে নয়। তারপর ও বের হলাম । এখানে পাহাড়ের সংখা বেশী বলে মনে হচ্ছে । নেই কোথাও সমতল। গাড়ী উঠছে নামছে ঘুরছে পাহাড়ের কোল ঘেসে। চলে গেলাম ST BEES  Beach এ সমুদ্রে পা ভিজানোর আগেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃস্টি শুরু হলো। এর পর গেলাম  বৃটেনের বিশিস্ট কৌতুক অভিনেতা মিস্টা বিন এর স্কুল দেখতে। যে স্কুলে তিনি লেখাপড়া করেছেন।এ স্কুল টি দেখার আগ্রহ পর্যটক দের অনেক বেশী। বৃস্টির কারনে গাড়ীতে ঘুরে ঘুরে অনেক অনেক কিছুই দেখলাম। নতুন জায়গা, নতুন শহর দেখতে ভালোই লাগছে। বাসায় এসে খোস গল্প ভালোই লাগছে। কখন যে মধ্য রাত পার হয়েছে মনের অজান্তেই । কৃতজ্ঞতা সুজাত ভাই , ভাবী, সহ পরিবারের সবাইকে  তাদের আপ্যায়নে আমরা মুগ্ধ।

 পরের দিন নাস্তা সেরে কিছুটা সময় সমুদ্র পারে ঘুরে এবার ফিরে চলা বারমিংহাম এর উদ্দেশ্য । পথ মধ্য দেখে নিলাম, Sprinkling Tram, House of Garden,Kendal,Penrith City . তবে ২/৪ দিনে লেক ডিস্টিকট ঘুরে দেখা সম্ভব নয় । বিশাল এরিয়া অনেক কিছুই দেখার আছে। তবে স্বল্প সময় মেইন মেইন স্থান দেখেছি এতেই সান্তনা।

লেক ডিস্টিক থেকে বারমিংহাম দুই আড়াই ঘন্টার পথ। বারমিংহাম দুই বন্ধু গিয়াস উদ্দিন ও মনিরুজ্জামান মনির এর বাসায় বেড়াব প্রথমে গিয়াস উদ্দীনের বাসা আমার বহু পুরানা বন্ধু রোমে এক সংগে ছিলাম বহুদিন।আগেই ফোনে কথা হয়েছে। এছাড়া ও বারমিংহাম এ সাংবাদিক বন্ধুরা আছেন তাদের সাথে ও দেখা হবে। তবে মেইন টারগেট সাফারি পার্ক এ যাওয়া। আমার ছেলে সাফারি পার্ক দেখবে।আমাদের ইচ্ছে।  রাতেই অন লাইনে টিকিট কাটা হলো। পর দিন নয় তার পর দিন । পরদিন বারমিংহাম শপিং এর জন্য গেলাম। পোষাকের দাম লন্ডনের কিছুটা কম মনে হলে। কেনা হলো পছন্দ মত পোষাক। রাতে আবার আর এক বন্ধু মামুনের বাসায় দাওয়াৎ । দাওয়াৎ শেষে এবার মনিরের বাসায় গিয়ে গল্প । মনির ও পরিবার সন্তান সহ সাফারি পার্কের অন লাইনে টিকিট কেটে নিলো। অন লাইনে টিকিট কাটলে কিছুটা ডিস্কাউন্ট এবং লাইন দিতে হয় না তাই প্রায় সকলে অন লাইনে টিকিট কাটেন।বুধবার সকাল রওয়ানা হলাম সাফারি পার্কের উদ্দেশে। বারমিংহাম থেক ওয়েস্ট মিডল্যান্ড সাফারি পার্ক ঘন্টা খানেকের পথ মাত্র।সাফারি পার্ক প্রবেশ বিশাল লাইন অবশ্য ৫/৬ টি কাউন্টার সারি সারি গাড়ী দীর্ঘ অপেক্ষার পর গেটে টিকিট দেখিয়ে প্রবেশ করতেই বিশাল এলাকা গাছ গাছালি  মাঝে ফাঁকা বিশাল মাঠ মাঠের মাঝ দিয়ে রাস্তা রাস্তার পাশদিয়ে বন্যপ্রানী অবাধে চলা ফেরা করছে। রাস্তা পাশে নিচু জায়গায় গন্ডার ও অপর পাশে জলহস্তী । হরিণ জেব্রা গাড়ীর পাশে আসছে । গাড়ীর কাঁচ খুলে খাবার দিচ্ছে এরা খেতে আসছে । শিশুরা নিজ হাতে পশুরে খাবার খাওয়াত পেরে আনন্দে আত্বহারা হয়ে যাচ্ছেন।

এর পর  বড় মাঠ পেরিয়ে গাড়ী চলছে সামনের দিকে হিংস্র থেকে হিংস্র প্রানী এখানে প্রবেশের সতর্কতা লেখা । গাড়ীর কাঁচ খোলা যাবেনা। আফ্রিকা, আমেরিকা এবং বাংলাদেশের রয়েল বেঙ্গল টাইগার। দেখলাম তবে তখন বেশীর ভাগ বসে বসে অথবা মাচায় শুয়ে আরাম করছে। একটু সামনে আফ্রিকার বন্য কুকুরের এক দল ছেড়ে দিল এবং কিছু মাংসের টুকরা যে যার মত দৌড়িয়ে নিয়ে নিল। দৃশ্য সত্যি ভয়ংকর ।

আরো সামনে আরো ভয়ংকর অনেক গুলি গেইট অতিক্রম করে যেতে হয়। হাতে বাম পাশে লোহার বড় বড় খাচায় বসে আছে রয়েল

সম্পরকিত প্রবন্ধ

এছাড়াও চেক করুন
Close
Back to top button
Close
Close