কাউন্ট ডাউন ১০ ডিসেম্বর

আওয়ামী লীগকে খালেদা জিয়ার কাছে মাফ চাইতে বললেন আলাল

লন্ডন, ৬ ডিসেম্বর: ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ নিয়ে আপনাদের ‘এত কেন ভয়? চালাতেই যদি না পারেন তাহলে রাতের অন্ধকারে খালেদা জিয়ার কাছে গিয়ে মাফ চান। তাকে বলুন, অনেক অন্যায় করেছি মাফ করে দেন এবং দেশের সমস্যা সমাধানের জন্য আসুন একসঙ্গে কাজ করি।’ আওয়ামী লীগকে ‘ভালো হয়ে যাওয়ার’ পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন দলটির নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। ভালো না হলে কীভাবে ভালো করতে হয়, সেটিও জানা আছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব। আওয়ামী লীগের উদ্দেশে আলাল বলেন, ‘ভালো হয়ে যান। এখনও সময় আছে। ভালো না হলে ভালো কীভাবে করতে হয় বাংলাদেশের মানুষ তা জানে।’

সরকার বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ভয়ে কাঁপছে বলেও মনে করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘এত কেন ভয়? চালাতেই যদি না পারেন তাহলে রাতের অন্ধকারে খালেদা জিয়ার কাছে গিয়ে মাফ চান। তাকে বলুন, অনেক অন্যায় করেছি মাফ করে দেন এবং দেশের সমস্যা সমাধানের জন্য আসুন একসঙ্গে কাজ করি।’

বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে মিথ্যা মামলায় তাকে সাজা দেয়ার অভিযোগও করেন আলাল। বলেন, ‘আট হাজার মাইল দূরে রয়েছে তারেক রহমান। তাকে নিয়েও এত ভয়। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও নেতারা তারেক তারেক বলতে বেহুঁশ হয়ে যায়।

‘আতঙ্ক এমনভাবে পেয়ে বসেছে যে কোথায় বসে তারেক রহমান একটি শব্দ করলেন বা হাঁচি দিলেন, সঙ্গে সঙ্গে এখানে কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে যায়। গণভবনের ফ্লোর কাঁপে, বঙ্গভবনের চেয়ার কাঁপে।’

বিএনপির কর্মসূচিতে ব্যাপক লোকসমাগমের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় যেতে নয়, মানুষের কষ্ট কমাতে আন্দোলনে নেমেছে। দ্রব্যমূল্যের অসহনীয় ঊর্ধগতি, জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য কমানোর দাবিতে আমাদের এই কর্মসূচি চলছে। আমরা তো বলিনি বিএনপি এই মুহূর্তে ক্ষমতায় যাবে। আমরা তো বলিনি খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী করতে হবে কিংবা তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করতে হবে।

‘আমরা তো মানুষের কষ্টের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছি। সেই কষ্ট মানুষ অনুভব করতে পেরেছে বলেই বিএনপির সমাবেশগুলোতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ‘আপনাদের তিন দফার ক্ষমতার দুঃশাসনের হাত থেকে মানুষ মুক্তি চায়। আর প্রকৃত প্রমাণ হচ্ছে সমাবেশগুলো। মানুষের বেঁচে থাকার যে আকুতি সেই জায়গায় কোনো বিভেদ নাই সমাবেশগুলোতে।’

এক বছরে ৩৩ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ কীভাবে হয়? প্রশ্ন রেখে পরে আলাল নিজেই কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ব্যাংক মালিক ও পোশাক কারখানা মালিকদের যোগসাজশে এই টাকা লোপাট হয়েছে। আর তারা আওয়ামী লীগের তহবিলে সবচেয়ে বড় জোগানদাতা।

বিএনপি নেতা আলাল বলেন, ‘গার্মেন্টস যারা মালিক তারা আবার একই সঙ্গে ব্যাংকের মালিক, ইন্ডাস্ট্রিজের যারা মালিক তারা আবার একই সঙ্গে ব্যাংকের মালিক। তারাই আবার আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় নেতা, আওয়ামী লীগের তহবিলের তারাই সবচেয়ে বেশি টাকা দেয়। তারপরেও এই অর্থবছরে ৩৩ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ কেন?’

তিনি বলেন, ‘যারা ব্যাংকের টাকা মেরে খেয়েছেন, মানুষের গচ্ছিত সঞ্চয়ের টাকা মেরে খেয়েছেন; সাধারণ মানুষের রক্ত শোষণ করেছেন আপনারা। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর বেগম খালেদা জিয়া।’

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, নির্বাহী কমিটির সদস্য আনিস আহমেদ, আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হুমায়ূন আহমেদ ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাওলাদার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close