সম্পাদকীয়

শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফর ও মুন্নি সাহার ক্ষোভ

এ সপ্তাহের সম্পাদকীয় || ইস্যু ২২৬৭
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ভারত সফর করে এসেছেন। সফর শেষে তিনি এ সফরের মাধ্যমে কি অর্জন করেছেন তা গণভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারতীয় নেতত্ব, সংবাদমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তিনি বাংলাদেশের জন্য অসাধারণ প্রীতি ও সৌহার্দ্য লক্ষ্য করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, এ প্রীতির সম্পর্ককে সুসংহত করে আমরা আরো এগিয়ে যেতে চাই। প্রধানমন্ত্রী ভারতে অবস্থানকালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা গুলি করে এক বাংলাদেশী তরুণকে হত্যা করেছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের তদানীন্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে তথ্য দিয়েছিলেন, গত এক দশকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীর হাতে গুলি খেয়ে ২৯৪ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। পানির ন্যায্য হিস্যা এখনো পাওয়া যায়নি। তিস্তা নদী নিয়ে যে চুক্তি হওয়ার কথা ছিল তা ২০১১ সাল থেকে লটকে আছে।আমরা জানি, যে কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয় নির্দিষ্ট এজেণ্ডা সামনে রেখে, নিছক বিনোদনের জন্য নয়। যখন প্রতিবেশী দু দেশের সরকার প্রধানদের বৈঠক হয় তখন বিরোধমূলক বিষয়গুলো এজেন্ডায় অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা। বাংলাদেশের জন্য ৩টি বিষয় ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ — আন্তর্জাতিক নদীসমূহের পানিবন্টন, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং সীমান্ত হত্যা। আমাদের প্রশ্ন, হাসিনা-মোদী বৈঠকে দু দেশের বিরোধপূর্ণ বিষয় এজেন্ডায় কেনো রাখা হয়নি? তা হলে শেখ হাসিনার গত ভারত সফর কি ছিল নিছক বিনোদন সফর? ভারত কি যৌথ বৈঠকের এজন্ডাও আমাদের ঠিক করে দেয়? নাকি দেশের এসকল সমস্যা শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারে নেই? শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও ঢাকা থেকে ভারতে গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে সাংবাদিক মুন্নি সাহাও ছিলেন। তিনি ভারত থেকে ফিরে ফেইসবুকে লাইভে এসে কিছু কথা বলেছেন এবং সাক্ষী হিসেবে শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী আরো দু জন সাংবাদিককে লাইভে হাজির করেন। মুন্নি সাহা ভারত সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্মকর্তাগণ বাংলাদেশী সাংবাদিকদের সাথে ‘কুকুর-বিড়াল’র মতো আচরণ করেছেন। তাদের জন্য সেখানে বসার কোনো জায়গা রাখা হয়নি। ভারতীয় কর্মকর্তাগণ তাদেরকে ‘ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা’ হিসেবে গণ্য করেছেন। তিনি আরো বলেন, ভারত থেকে যে কোনো সাংবাদিক বাংলাদেশে এলে তারা শেখ হাসিনার পাশে গিয়ে ছবি তোলার পর্যন্ত অধিকার পান। আসলে সরকারের নতজানু নীতির কারণেই ভারতীয় কর্মকর্তাদের কাছে বাংলাদেশী মানুষের কোনো মূল্য বা মর্যাদা নেই। প্রধানমন্ত্রী সফর সঙ্গী বাংলাদেশী সাংবাদিকদের সাথে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের এহেন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের সাথে করা আচরণের বর্ণনা শুনে আমরা মর্মাহত এবং এধরনের আচরণের নিন্দা জানাই।সম্প্রতি শেখ হাসিনার সুপ্রিয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশী জনগণের মনে একটি প্রশ্ন উস্কে দিয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য তিনি ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছেন। অপরদিকে শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন, ‘ভারতকে আমরা যা দিয়েছি তা তারা চিরকাল স্মরণে রাখবে।’ সব কিছু দেয়ার পর এখন নির্বাচন সামনে রেখে মোদী-সরকারকে কি এ কথা বলার জন্য তিনি সেখানে গিয়েছেন,‘সকলই দিলাম তুলে তোরে বিতরে, এখন আমারে লহো করুণা করে’?

নিউজ

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close