নিউজহোম

“বাংলাদেশে কোনো সরকার নাই-প্রত্যেকটা লোকের নাভিশ্বাস অবস্থা”

ঢাকা পরিস্থিতি সম্পর্কে ঢাবি শিক্ষকের মূল্যায়ন

শামসুল আলম লিটন।
লন্ডন ১১ আগস্ট। টেলিফোনে কথা হচ্ছিল ঢাকায় একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের সঙ্গে। সরকার সমর্থক এই শিক্ষক যেভাবে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মূল্যায়ন করছিলেন; নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করেই হুবহু টেলি সংলাপটি তুলে ধরা হলো:

সুরমা: স্যার, ঢাকায় কেমন আছেন? অনেকে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি আশঙ্কা করছেন।আপনি পরিস্থিতিকে কিভাবে দেখছেন।

:: প্রতিদিন নতুন নতুন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। আমাদের দেশ তো শ্রীলংকা থেকেও খারাপ অবস্থা। বিপিসি’র চেয়ারম্যান প্রেস কনফারেন্স করে বলছে ১৬দিনের তেল আছে। ১৬ দিনের পর কি হবে? সরকারের পতন হয়ে গেছে ধরে নেন। শুধু পেট্রোল ডিজেলের দাম যে বাড়ছে তা তো না।  বাজারে হু হু করে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। ডাবল হয়ে গেছে সবকিছুর দাম।  মানুষের ইনকাম তো এক টাকা বাড়ে নাই। আইএমএফ এর টাকা দিয়ে তো সমস্যার সমাধান হবে না। এখন তো মানুষ কিনা কমিয়ে দিবে। দাম বাড়ানোর পর আমরা ক্যাম্পাসের বাইরে আর যাই না।  প্রতি সপ্তাহে ২-৩ বার আমরা ক্যাম্পাসের বাইরে যেতাম।

সুরমা: আজ ঢাকার রাজপথে কি দেখলেন?

:: আজকে বিএনপির মিটিংয়ে দুই/আড়াই লাখ লোক হইছে। মিটিং ছিলো বেলা ২ টায়, আর সকাল ১০টা থেকে রাস্তায় লোক আসে, ১২টার মধ্যে ফকিরাফুল থেকে কাকরাইল রাস্তা ভর্তি হয়ে যায়। দেখেন আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই কি হয়? এই যে গণতন্ত্র মঞ্চ করছে আসম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, নুরুল হক নূর তারা। সেখানেও আজকে দুই তিন হাজার লোক ছিলো। বাট এটা খুব ইম্পর্টেন্ট। কারণ শুধু বিএনপি’র বিশাল সমাবেশ মানে মানুষ মনে করে বিএনপি আওয়ামী লীগের গন্ডগোল। কিন্তু অন্যদের রাস্তায় নামার ব্যাপারটা খুবই ইম্পরট্যান্ট। বিএনপিকে পিটায়, কিন্তু এদেরকে তো পিটাতে পারে না। এদের কারণে আন্দোলন আরো মাত্রা পাচ্ছে।

সুরমা: সাধারণ মানুষ কি বলছে? কি করছে?

::আইনজীবীরা ও সম্ভবত আন্দোলনে যোগ দিবে দুই এক দিনের মধ্যে। এবার আন্দোলন হাইকোর্ট থেকে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ইউনিভার্সিটি থেকে আগে আন্দোলন হতো। এখন আর মনে হয় না। আইনজীবীদের মধ্যে হয়তো অপরিচিত নতুন তরুণ, এরাই রাস্তায় নামার সম্ভাবনা বেশি।তবে বেশি পরিচিতরা সামনে আসলে মানুষ তো আবার হয়তো ভাববে সেই বিএনপি আওয়ামী লীগের সমস্যা। তবে শ্রীলংকার মত সাধারণ মানুষ নামার সম্ভাবনাই বেশি। তাদের কোন দল থাকবে না। তবে হয়তো ক্ষমতা রাজনৈতিক দলই যাবে। বিএনপি বড় দল । তারাই যাবে। কিন্তু মানুষ কোন দল দেখবে না।  রাস্তায় নামতে আজকে যারা রাস্তায় নামছে এরা কিন্তু সবাই বিএনপি’র সাপোর্টার না, আমজনতা আছে। কেন যাচ্ছে? এই মানুষ তো কষ্ট পাইতেছে‌। মানুষ ভীষণ কষ্টে আছে। প্রত্যেকটা লোকের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে।

সুরমা: মানুষের অসন্তোষের মূল কারণগুলো কি?

:: লুটপাট করছে তো সরকারি কর্মচারীরা।  সরকারি লোকেরাই সবচেয়ে বেশি লুটপাট করছে। রাজনীতিবিদরা অত বেশি করতে পারে নাই। কাস্টমস ইন্সপেক্টর টেক্স -ভ্যাট, ভূমি, পুলিশ বিদ্যুতের লোকগুলা মানুষরে চুষে ফেলছে। পুলিশ সেটা দেখা যায়, কারণ মানুষকে তারা কষ্ট দিছে এজন্য। যে কোন অফিস মানুষের নাভিশ্বাস উঠিয়ে দিয়েছে। একজন সাব ইন্সপেক্টর ওসি তাদের বাড়ি কানাডা ইউরোপ আমেরিকা। এতদিন টের পাওয়া যায় নাই। এখন প্রত্যেকটা মানুষ সাফার করছে। মানুষের হাড্ডি লেগে যাচ্ছে। প্রত্যেকটা মানুষ সাফারার। বিএনপি আওয়ামী লীগের উপর মানুষের আস্থা নাই। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষমতা তো রাজনৈতিক দলই পাবে। মানুষ যে বিএনপির সমর্থক তা কিন্তু না। এটা যেহেতু আওয়ামী লীগের কারণে হয়েছে সুতরাং মানুষ বিএনপির দিকে চলে যাবে এটাই স্বাভাবিক। ভালো ব্যবসা-বাণিজ্য যারা করতো, সে যে দলেরই হোক; তারা ফকির হয়ে গেছে। কেউ কেউ বেঁচে থাকতে ভিক্ষা করতে হইবো দুইদিন পর।
সমস্ত ব্যবসায়ীর ব্যবসায় ধ্বস নেমে গেছে। ধরেন একটা দোকানের কর্মচারী অথবা গার্মেন্টসের কর্মচারী ৮ হাজার দশ হাজার বেতন পায়।  এই বেতন ঠিকমতো পায় কিনা! পাইলেও সে টাকা দিয়ে কেমনে চলবে? কিভাবে চলবে? কি খাবে? কেমনে বাসা ভাড়া দিবে? কেমনে চলাচল করবে? আপনাদের ইংল্যান্ড আমেরিকাতে দাম বাড়লে সরকার নানা সাহায্য করে। মানুষকে হেল্প করে। কিন্তু এই ধাক্কায় বাংলাদেশে মানুষকে সাহায্য করে? কোন সাহায্য নাই।

সুরমা: মানুষের অসন্তোষকে সরকার কিভাবে দেখছে?

:: সরকার আছে কিনা এটাই সন্দেহ।  বাস্তব অবস্থাটা হচ্ছে সরকার নাই। বাংলাদেশে আদৌ কোনো সরকার নাই। এটাই হচ্ছে আমার অবস্থা দেখে ফিলিংস । না হলে সিদ্ধান্তগুলো, এসব আসছে কোথা থেকে? সিদ্ধান্ত কারা দিতেছে? শেখ হাসিনা বলছে পেট্রোল আর অকটেন আমাদের আমদানি করতে হয় না। আমাদের বাই প্রোডাক্ট হিসেবে হয়। তাহলে এসবের দাম বাড়াইতে হয় কেন?

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close