নিউজ

আওয়ামী সরকার প্রবাসেও কণ্ঠরোধ করতে চায়

১৫ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, রাষ্ট্রীয় হুমকি

|| সুরমা প্রতিবেদন ||
লণ্ডন, ১৫ অক্টোবর : বিভিন্ন দেশে বসবাসরত সামাজিক ও গণমাধ্যমে সক্রিয় ১৫ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিককে নানাভাবে হয়রানিসহ তাদের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর তা করে যাচ্ছে বাংলাদেশে বিতর্কিতভাবে নির্বাচিত বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। একই সাথে তাতে প্রত্যক্ষ ইন্দন দিয়ে যাচ্ছে সরকারের কিছু পোষ্য মিডিয়া। বাংলাদেশের মিডিয়া জগতে নির্লজ্জভাবে বর্তমান সরকারের তোষক হিসেবে পরিচিত বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়াগুলো এসব বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকদের নিয়ে ‘সাইবার সন্ত্রাসী’ শিরোনামে সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর সরকারও এসব ভিন্œমত পোষণকারীকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ লেভেল দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছে। সমাজের সচেতন মহল মনে করছেন সরকার এবং এসব পোষ্য মিডিয়া যৌথভাবে প্রবাসেও কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ৬ অক্টোবর তারিখে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন “দেশবিরোধী ভয়ানক তিন সাইবার দুর্বৃত্ত” শিরোনামে প্রবাসে থাকা তিন বিশিষ্ট ব্যক্তি যথাক্রমে সদ্য সম্প্রচার বন্ধ থাকা চ্যানেল আই ইউরোপের এমডি রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী সোয়েব, প্যারিসে বসবাসকারী বিশিষ্ট লেখক-ব্লগার পিনাকী ভট্টাচার্য ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী তাজ হাশমীকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। উক্ত প্রতিবেদনে তাদেরকে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি হওয়া যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নেওয়া তিন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘এরা হচ্ছেন দেশবিরোধী ও দিগ্ভ্রান্ত সাংবাদিক কথিত বুদ্ধিজীবী আবু রেজা আহমেদ ফয়সল চৌধুরী সুয়েব, স্বঘোষিত ‘অজ্ঞেয়বাদী’ পিনাকী ভট্টাচার্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাস্তিক হিসেবে আখ্যায়িত ভ্রান্ত বিশ্লেষক তাজ হাশমী।’ তাদের সম্পর্কে আরো বলা হয় যে, ‘দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করা, ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা, যুদ্ধাপরাধী অপশক্তি এবং জঙ্গিবাদের পক্ষে জনসর্থন আদায় করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।’

এছাড়া গত ৪ অক্টোরব বসুন্ধরা গ্রুপের অপর সংবাদপত্র কালের কণ্ঠ “এক ডজন শীর্ষ সাইবার সন্ত্রাসীর ভয়ংকর অপতৎপরতা” শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— ‘যুদ্ধাপরাধী ও আগুন সন্ত্রাসের সিণ্ডিকেট দেশে-বিদেশে বসে বাংলাদেশবিরোধী ভয়ংকর অপতৎপরতায় নেমেছে। দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা, দেশে প্রতিষ্ঠিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দেশকে অকার্যকর ও ব্যর্থ রাষ্ট্র করার অশুভ প্রয়াস নিয়ে এই চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিশালী চক্র। এ জন্য তারা বিশাল অর্থ ব্যয়ে ভাড়া করেছে সাইবার সন্ত্রাসীগোষ্ঠী। তাঁদের কয়েকজন সেনানিবাসে অবাঞ্ছিত ও চাকরিচ্যুত সেনা কর্মকর্তা। কয়েকজন আছেন বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধের মামলায় আসামি হয়ে বিদেশে আত্মগোপন করা মুখোশধারী ও ভুঁইফোড় সাংবাদিক। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাঁদের চিহ্নিত করার পরও দেশের বাইরে থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। এই সিণ্ডিকেট প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ফেইসবুক, ইউটিউব, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু পরিবার, সরকার, বিচার বিভাগ ও দেশের বিরুদ্ধে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। কোনো ধরনের জবাবদিহি না থাকায় বেপরোয়াভাবে প্রতিনিয়ত বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে আগুন সন্ত্রাসের এই সিণ্ডিকেট। তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।’

উক্ত প্রতিবেদনে যাদের ছবিসহ নাম এসেছে তারা হলেন — সুইডেন প্রবাসী নেত্র নিউজ সম্পাদক তাসনিম খলিল, কাডানাপ্রবাসী সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর দেলোয়ার হোসেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্ণেল (অব.) শহীদ উদ্দিন খান, কানাডাপ্রবাসী ক্যাপ্টেন (অব.) শহীদ ইসলাম, যুক্তরষ্ট্র প্রবাসী মোহাম্মদ সামসুল আলম, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নাজমুস সাকিব, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ব্যারিস্টার এম রহমান মাসুম, কানাডা প্রবাসী ইউটিউবার টিটো রহমান, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক কনক সরোয়ার, সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন, যুক্তরাজ‍্য সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর ও সাংবাদিক হাসিনা আক্তার।

শুধু বাংলাদেশ থেকেই নয়। প্রবাসে থাকা সরকারদলীয় সমর্থক ও তাদের ক্যাডারবাহিনীও ভিন্নমত দমনে সক্রিয় রয়েছে। গত ১-৭ অক্টোবর সংখ্য সাপ্তাহিক সুরমার ‘বিশ্ব মিথ্যুকের খপ্পরে বাংলাদেশ’ শিরোনাম শীর্ষক সংবাদে বেজায় ক্ষ্যাপেছে বৃটেনে বসবাসকারী বর্তমান সরকারী দলের অন্ধ সমর্থক ও ক্যাডার বাহিনী। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানাভাবে সুরমার সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের হুমকি-ধমকি এবং সুরমা অফিসের হামলার ইঙ্গিত প্রদান করে আসছে। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হরমুজ আলী উস্কানিমূলক ফেইসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মীবাহিনীকে সুরমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন।

এদিকে, বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী এসব সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে কোনকিছু না করতে পেরে দেশে থাকা তাদের পরিবার-পরিজনদের নানাভাবে হয়রানি ও নিপীড়ন করে যাচ্ছে। সম্পতি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বর্তমান সরকারের সমালোচনায় সোচ্চার বিশিষ্ট সাংবাদিক ড. কনক সরওয়ারের বোনকে নুসরাত শাহরিন রাকাকে বিতর্কিত আইন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গত ৬ অক্টোবর করে গ্রেফতার করে রিমাণ্ড প্রদান করেছে। কনক সারওয়ারের কারণেই যে তাঁর বোনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা অনেকে কাছে পরিষ্কার। রাকা তাঁর নামে ফেইক আইডি খোলা হয়েছে মর্মে জানিয়ে জিডি করার পরও তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি সর্বমহলে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। রাকার আইনজীবীও বলেছেন, সাংবাদিক কনক সারওয়ার তার ভাই। বিদেশে সরকার নিয়ে আলোচনা করেন। এজন্যই বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভাই অপরাধ করলে বোনকে সাজা দিতে হবে কেন? এটা হতে পারে না। মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অপরদিকে, বাংলাদেশ সরকারও বিদেশে থেকে তাদের সমালোচনাকারীদের কঠোর হাতে দমনের সকল চেষ্টা করে যাচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমসমূহে এ মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে যে, “যুক্তরাজ্যে বসে অপপ্রচার: আইনের আওতায় আনতে চুক্তির আলোচনা” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে — ‘যুক্তরাজ্যে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীদের আইনের আওতায় আনতে দেশটির সঙ্গে পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তি করতে চায় সরকার। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যকে পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তি (এমএলএটি) সইয়ের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন সম্প্রতি এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পারমানেন্ট সেক্রেটারি ম্যাথিউ রাইক্রফটের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাসহ নিরাপত্তা সহযোগিতা, উগ্রপন্থীদেও মোকাবিলায় সহায়তা, যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে অবস্থানরত লোকজনকে ফেরাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আদলে চুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

এছাড়া স্বরাষ্ট্রী মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বিদেশে বসে যারা সাইবার ক্রাইম করছে, এগুলো দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। তারা যদি এদেশের নাগরিক হয়ে থাকে, তাহলে দেশের আইন অনুযায়ী তাদের বিচার করা হবে। তাদের বিচার করা হবে। তিনি সম্প্রতি মৌলভীবাজারে এক সমাবেশে এসব কথা বলেন।

উল্লেখ্য, বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়াগুলো এক বা একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে এই বিশিষ্ট ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে একযোগে অপপ্রচার শুরু করেছে বলে অনেকে মনে করছেন। সম্প্রতি বসুন্ধরা গ্রুপের এমডির বিরুদ্ধে মুনিয়া হত্যা ও ধর্ষণের যে অভিযোগ উঠেছে সেটা থেকে দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তারা এই সঙ্ঘবদ্ধ তথ্য সন্ত্রাস শুরু করেছে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা। তিনটি সংবাদপত্র একটি নিউজ পোর্টাল একটি রেডিও এবং অনলাইনে বিশাল সাইবার গ্যাং নিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপ সরকারকে তাদের সঙ্গে এই অপপ্রচারে যোগ দিতে বাধ্য করছে বলে জানা যায়। প্রশ্ন উঠেছে বসুন্ধরা গ্রুপের অপরাধের দায় সরকার বা সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা কেন নেবেন? একগাদা গনমাধ্যমের মালিক হয়ে দেশের ভিতরে রাজনীতিকদের সামনেও বসুন্ধরা এক মূর্তিমান আতঙ্কের পরিণত হয়েছে। রাজনীতি, সামাজিকতা, মানবাধিকার সংগঠনগুলো কেউই তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে। ৫৩ জন বিশিষ্ট নাগরিক হত্যা মামলা বিবৃতি দিয়ে জাতির বিবেকের পরিচয় দিয়েছেন। তারা মনিয়া হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবী জানিয়েছেন এবং এ ব্যাপারে সকল ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু ওই বিশিষ্ট নাগরিকদের আহবানে সরকার তিন সপ্তাহ পরেও সাড়া দেয়নি।

সুরমার প্রধান সম্পাদকের উদ্বেগ:
সাপ্তাহিক সুরমায় রাজনৈতিক হুমকি প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুরমার প্রধান সম্পাদক ফরীদ আহমদ রেজা। সোশাল মিডিয়ায় দলের বিশাল বাহিনীকে একটা পত্রিকার বিরুদ্ধে ব‍্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানানো মধ‍্যযুগীয় কায়দায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দমন ছাড়া আর কিছু নয়। বিলেতের মতো সভ‍্যসমাজে বসবাস করে এ ধরণের সন্ত্রাসী মনোভাব প্রদর্শন অনভিপ্রেত এবং অগ্রহণযোগ‍্য। বিলেতে এই হুমকীর ঘটনা সরকারের বিরুদ্ধে দেশের অভ‍্যন্তরে গণমাধ‍্যমের টুঁটি চেপে ধরার অভিযোগকে প্রমাণ করেছে। ড. কনক সরওয়ারের বোন নুসরাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নুসরাতের অপরাধ তিনি ড. কনক সরওয়ারের ভাই। এ রকম বহু ঘটনা বর্তমান সরকার করে যাচ্ছে। সরকারের এ সকল অনাচারের বিরুদ্ধে কথা বলা কি সাইবার ক্রাইম?
তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের অনির্বাচিত সরকার প্রধান বলেছেন, কিছু লোক বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। উচ্ছিষ্টভোগী কিছু সাংবাদিক সরকার প্রধানের অধিকতর পেয়ারা হওয়ার জন্য বিদেশে যারা সরকারের সমালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইমের অভিযোগ তুলেছে। গণতান্ত্রিক বিশ্বে সরকারের সমালোচনা একটা স্বাভাবিক বিষয়। বাংলাদেশ সরকার বিরোধী রাজনীতি স্তব্ধ করে দিয়েছে। দেশে বিরোধী কন্ঠকেও হামলা, মামলা ও গুমের মাধ্যমে দমিয়ে রেখেছে। বিদেশে যারা সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার তাদের ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের হীনউদ্দেশ্যে কতিপয় পত্রিকা এ সকল খবর ছাপিয়ে সরকারের দালালী করছে মাত্র।

হাসিনা আক্তারের প্রতিক্রিয়া:
টেবিল টক উইথ হাসিনা আক্তারের পরিচালক ও বিশিষ্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত হাসিনা আক্তার তালিকায় নাম প্রকাশ সম্পর্কে সাপ্তাহিক সুরমাকে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের কাগজগুলো আনভীরকে বাঁচাতে এইসব তালিকা প্রকাশ করেছে। সরকারকে তারা জড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে মাত্র। আমি এখনো বিশ্বাস করতে চাইনা, এই তালিকার সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক আছে। হাসিনা বলেন, আমি অধিকারের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কন্টেন্ট তৈরী করি, যা মানুষকে আলোড়িত করে।
যে কাজটা বাংলাদেশে হওয়ার কথা ছিলো, কিন্তু কেউ সেটা করার সাহস পায়না। তাই বিদেশে অনেক কষ্টের মধ্যেও সময় বের করে এই কাজগুলো নিঃস্বার্থভাবে আমি করছি।
বসুন্ধরার কাগজগুলো এবং সাংবাদিক নামের ধর্ষকের দালালগুলো যতই চেষ্টা করুক আমার এই প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। বরং এই ভুয়া তালিকা প্রকাশের পর আমি আরও অনুপ্রাণিত হয়েছি এটা জেনে যে, আমার কাজগুলো সঠিক পথেই আছে এবং এখন আমি ওই মাফিয়াদের আরও অনেক অপকর্ম উদঘাটনের চেষ্টা করবো।
তবে সবকিছুই করব তথনির্ভর। কারণ সঠিক ও তথনির্ভর না হলে আমরা যা-ই করি তার কোনো গ্রহণযোগ্যতা ও উপযোগিতা থাকেনা। ঢাকার গণমাধ্যম যেখানে ব্যর্থ, সিটিজেন জার্নালিজম ও এক্টিভিজম সেখানে মানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হচ্ছে। একারণেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমই এখন বাংলাদেশের প্রধান গণমাধ্যমে পরিণত নকেকে।

নাজমুস সাকিবের প্রতক্রিয়া:
প্রবাসেও সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ প্রসঙ্গে নাজমুস সাকিব বলেন, আমি মনে করি বষিয়টি সর্ম্পূণ অরাজনৈতি, কন্তু এর উদ্দেশ‍্য ছিলো, এটাকে রাজনতৈকি রং লাগিয়ে সরকাররে দৃষ্টি আর্কষণ করা। আমি এম রহমান মাসুম, টিটো রহমান, ক্যাপ্টনে শহীদ ইসলাম, অধ্যাপক তাজ হাশমী, হাসিনা আক্তার এবং রেজা আহমদে ফয়সাল চৌধুরী ব্যতীত উক্ত তালিকায় প্রকাশতি আর কেউ মুনিয়া ইস্যুতে বসুন্ধরার এমডি আনভীর সোবহানরে সমালোচনা করনেন। অথচ আমাদরে কয়কেজনকে বিতর্কিত করার জন্য তালকাটিকে লম্বা করা হলো। তাদরে মূল র্টাগটে ছিলো আনভীর সোবহানের বিরুদ্ধাচারণকারী ব্যক্তদিরেকে সরকারবিরোধী হিসেবে প্রচার করা। এ কাজটি করতে তারা সোশ্যাল মিডিয়াতে যারা তীব্রভাবে সরকারের যৌক্তিক সমালোচনা করে থাকনে, তাদরে সাথে আমাদেরকেও এক কাতারে ফেলে এটিকেও রাজনতৈকি মাইলএইজ অর্জনে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে — আনভীর ইস্যুতে সরকার এবং দেশবাসীর দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহতি করার জন্য।

তিনি আরো বলেন, এটা যতটা না বিরোধী মত দমনরে প্রচষ্টো, তার চেয়েও বেশী হলো আনভীরের বিরুদ্ধাচারণকারীদের দমন বা কণ্ঠরোধরে প্রচষ্টো। তারা মনে করছে সরকারের কাছে জাতীয় দৈনিক এবং টিভি চ্যানেল ব্যবহার করে আমাদের বিরুদ্ধে এমন ব্যাপক একটি প্রচারণা করলে আমরা হয়তো ভয় পেয়ে কথা বলা বন্ধ করে দেবো। কিন্তু আমি মনে করি, এরকম একটি অপেশাদার কাজ করে তারা মূলতঃ জনগণরে কাছেই ধিকৃত হয়েছে এবং আমাদের অসম্মান করতে গিয়ে নিজেরাই অসম্মানিত হয়েছে। তাদরে পত্রিকা বা টিভি চ্যানেলের প্রতি মানুষরে নূন্যতম আস্থা রাখার জায়গাটি তারা আর অবশিষ্ট রাখলো না।

প্রিণ্ট ভার্সন

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close