নিউজ

পাঁচ দফা নতুন নিদের্শনা দিয়ে হাইকোর্টের রায়: প্রবাসীদের এনআইডির পরিবর্তে পাসপোর্ট

প্রধানমন্ত্রী বরাবরে বাংলাদেশ টিচার্স এসোসিয়েশন ইউকের চিঠি
এনআরবি‘র স্মারকলিপি প্রদান
বার্মিংহামের উদ্বিগ্ন প্রবাসীদের জরুরী সভা অনুষ্ঠিত

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ২৫ জুন : সম্প্রতি দেশে মামলা রুজু সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ে উদ্বিগ্ন করে তুলেছিলো প্রবাসীদের। বাংলাদেশে হাইকোটের নতুন রুলে বলা হয়েছিলো যে, জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া আদালত ও থানায় কোনো মামলা গ্রহণ করা হবে না। এর ফলে, প্রবাসী যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। বৃটেনপ্রবাসীদের পক্ষ থেকে হাইকোর্টের এই রায় পুনর্বিবেচনার দাবিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ সভা, বিবৃতি ও স্মারকলিপি প্রদান করে তা পুনবির্বেচনা করার আহবান জানানো হয়। পাশাপাশি দ্রুত হাইকমিশনের মাধ্যমে পরিচয়পত্র প্রদানে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
এদিকে, বুধবার নতুন এক রুলের মাধ্যমে মামলা করতে পাঁচ দফা নির্দেশনা দেয় হাইকোর্ট। নির্দেশনা অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকদের এনআইডি না থাকলে পাসপোর্ট নম্বর লাগবে। আর থানায় বা আদালতে মামলা করতে অভিযোগকারীর (বাদী) পরিচয় যথাযথভাবে নিশ্চিত হতে ৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রাজধানীর শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে ‘অস্তিত্বহীন’ বাদীর করা ৪৯ মামলায় প্রতিকার চেয়ে করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এমন আদেশ দেন হাইকোর্ট বলে মানবজমিনে প্রকাশিত এক সংবাদে জানা যায়। বুধবার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। এর আগে ১৪ জুন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ সংক্ষিপ্ত আদেশ দিয়েছিলো। উল্লেখ্য, সেই আদেশের পর বৃটেনে বসবাসকারী বাংলাদেশীসহ প্রবাসীদের উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। তারা বিভিন্ন সভা, বিবৃতি ও স্মারকলিপির মাধ্যমে প্রবাসীদের এনআইডি হিসেবে পাসপোর্ট গ্রহণের দাবী জানান।
বুধবার প্রকাশিত আদেশে বলা হয়, বর্তমান সময় থেকে থানায় বা সংশ্লিষ্ট আদালত ও ট্রাইব্যুনালে এজাহার বা অভিযোগ দায়ের করার সময় অভিযোগকারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া এবং সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হলো।
এক. অভিযোগ বা এজাহারে অভিযোগকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, ক্ষেত্রমত পাসপোর্ট নম্বর উল্লেখ করতে হবে।
দুই. এজাহারকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে সেক্ষেত্রে এজাহারকারীরকে শনাক্ত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর উল্লেখ করতে হবে।
তিন. বিশেষ বাস্তব পরিস্থিতিতে পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট এভেইলেবল না হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা এজাহারকারীর পরিচয় নিশ্চিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।
চার. আদালত কিংবা ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করার ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট না থাকলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী অভিযোগকারীকে শনাক্ত করবেন।
পাঁচ. অভিযোগকারী বিদেশী বা প্রবাসী নাগরিক হলে সংশ্লিষ্ট দেশের পাসপোর্ট নম্বর উল্লেখ করতে হবে।

এদিকে, পাসপোর্ট জাতীয় পরিচয়পত্রের বিকল্প হিসেবে বিবেচনার দাবীর পাশাপাশি জানিয়ে অকিলম্বে প্রবাসীদের পরিচয়পত্র প্রদানের দাবী জানিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সভা, বিবৃতি ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। তাদের মতে, বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবী ভোটার কার্ড বা পরিচয়পত্র প্রদান করলে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান সহজ হবে।
বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের সভা থেকে, বিবৃতি ও স্মারকলিপিতে এসব সমাধান কল্পে অবিলম্বে পরিচয়পত্র প্রদানের দাবী জানিয়ে বলা হয় হয় যে, পৃথিবীর ১৬৮ দেশে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ বাংলাদেশী বসবাস করেন। তারা প্রতিবছর রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। করোনা মহামারির সময়ে গত বছর প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স। প্রবাসীদের প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে দেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে পারিবারিকভাবে অথবা আত্মীয়তার বন্ধনে।
বিভিন্ন সময় প্রবাসীরা নানা জটিলতার শিকার হন স্থানীয় প্রভাবশালীদের দ্বারা, আবার কখনো প্রতারিত হন নিজের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে। শেষ ভরসা হিসেবে প্রবাসীরা তখন আদালতের দ্বারস্থ হন। জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া মামলা করা যাবে না, আদালতের এমন নির্দেশনা প্রবাসীদের জন্য বিড়ম্বনার কারণ হবে।
বিভিন্ন সভা থেকে প্রবাসী নেতারা আশঙ্কা করে বলেন, বাংলাদেশের মহামান্য হাইকোর্ট এক আদেশে বলেছেন, এখন থেকে মামলা করতে বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই ধরণের একটি উদ্যেগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। সময়ের প্রয়োজনে এবং মিথ্যা মামলার হয়রানী ভুয়া প্রতারণামুলক, হয়রানী প্রতিরোধে এই রায় যুগান্তকারী হিসাবেই বিবেচিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
তবে দেশে বসবাসকারী নাগরিকদের জন্য এটি কষ্টসাধ্য নয় এবং প্রাপ্ত বয়স্ক সকল নাগরিকই দেশের ভোটার হিসাবে সবার কাছেই জাতীয় পরিচয়পত্র আছে। কিন্তু, প্রবাসীদেও ক্ষেত্রে আদালতের এই আদেশ সমানভাবে প্রযোজ্য হলে প্রবাসীরা হয়রানী ও প্রতারণার শিকার হবেন বলে মনে করছেন। সংবাদটি প্রকাশিত হবার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানাভাবেই নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ তাদের উদ্বেগ জানিয়েছেন।

ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশীজ এর সভা: হাইকমিশনের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয় প্রদানের দাবী
গত ২২ জুন, মঙ্গলবার রাত দশটায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের আন্তর্জাতিক সংগঠণ ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশীজ এর ভার্চ্যুয়াল সভায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবারত বাংলাদেশীদের অনতিবিলম্বে হাইকমিশনের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয় প্রদানের জোর দাবী জানানো হয়েছে ।
সংগঠণের সভাপতি ড. হাসনাত এম হোসেন এমবিইর সভাপতিত্বে ও ডিজি আ ম ওহিদ আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত জরুরী সভায় বক্তব্য রাখেন ড. ওয়ালী তছর উদ্দিন এমবিই ( স্কটল্যা-), মাহিদুর রহমান ( কেন্ট), আনোয়ারুল কবির (জার্মান ), শরাফত হোসেন বাবু (ওয়াশিংটন), হাসান আলী ( নিউইয়রক), সাংবাদিক আব্দুল মুমিত রুমেল (ফ্রান্স ), মাহতাব মিয়া, সৈয়দ নাদির আজিজ দরাজ (নিউক্যাসল), এম এ লতিফ জেপি (বার্মিংহাম ), ব্যারিষ্টার মুজিবুর রহমান (সাউথশীল্ড), সাংবাদিক শামসুল আলম লিটন, বশির আহমদ, সাইদুর রহমান রেনু, মাওলানা আব্দুল কাদের সালেহ, ডা. নুরুল আলম, হাজী হাবীব, কে এম আবুতাহের চৌধুরী (ল-ন), জসিম উদ্দিন (চেষ্টার ) প্রমুখ ।
সভায় বক্তারা বলেন Ñ স¤প্রতি বাংলাদেশ হাইকোর্টের এক রায়ে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের কোনো থানা বা কোর্টে মামলা করতে হলে ন্যাশনেল আইডি কার্ড লাগবে। এছাড়া বাংলাদেশে বেড়াতে গিয়ে প্রবাসীরা আইডি কার্ড ছাড়া ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন, জায়গা বেচাকেনা, বিমানের টিকেট ক্রয়, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগ নেয়াসহ কোনো কাজ করতে পারনে না। এমনকি মোবাইলের একটি সিম কার্ড কিনতে পারবেন না। তাই প্রবাসী বাংলাদেশীদের জাতীয় পরিচয় পত্র প্রদান অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। ল-নে দেড় বছর আগে এক সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার ও হাইকমিশনার এনআইডি কার্ড প্রদানের ঘোষণা দিলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে উল্লেখ করেন নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তৃতায় ।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, স¤প্রতি হাইকোর্টের প্রদত্ত রায়ে প্রবাসীদের সমস্যার কথা বিবেচনায় আনা হয়নি। যার ফলে প্রবাসীদের বাসা বাড়ী, জায়গা-সম্পত্তি বেহাত হওয়ার ও জোরদখলের আশংকা রয়েছে। তাই মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ইস্যুর পাশাপাশি সকল প্রবাসীকে আইডি কার্ড দিতে হবে।
ডিজিটাল পাসপোর্ট দিতে পারলে জাতীয় পরিচয়পত্র কেন দেওয়া যেতে পারেনা? প্রশ্ন রেখে বক্তারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ হাইকমিশন বা কনস্যুলার অফিস থেকে এই কার্ড ইস্যু করার জোর দাবী জানান।
বক্তারা প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উপর জোর প্রদান করেন। যে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে সে প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে গড়িমসি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

প্রধানমন্ত্রী বরাবরে বাংলাদেশ টিচার্স এসোসিয়েশন ইউকের চিঠি:
হাইকমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বরাবরে লেখা একটি চিঠি বাংলাদেশ হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে উদ্বেগ জানিয়ে তা নিরসনে প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের দাবী জানানো হয়েছে।
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, আপনার অক্লান্ত পরিশ্রম, সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ বাংলাদেশকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ গতিশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে আপনার সরকারের প্রচেষ্টাকে বাংলাদেশ টিচার্স এসোসিয়েশন ইউকে স্বাগত জানায়।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের অনন্যভূমিকার উল্লেখ করে বলা হয়, বিশ্বে করোণার আঘাতে অর্থনৈতিক মন্দার এই জটিল সময়েও বাংলাদেশের রেমিটেন্স আয় অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তাই বাংলাদেশ যখনই কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে দেশেরই স্বার্থে তা প্রবাসীদের কথা স্মরণ রেখে তাদেও দেশীয় সম্পদ, স্বার্থ এবং দেশের সাথে তাদের সুসম্পর্কবজায় রেখে নতুন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করার জোর দাবী জানানো হয়।
বিশেষ করে গত ১৪ জুন হাইকোর্ট কর্তৃক এক আদেশ বলে পরিচয়পত্র ছাড়া থানা এবং আদালতে কোনো মামলা দায়ের করা যাবে না মর্মে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তাতে আমরা প্রবাসীরা মারাত্মকভাবে উদ্বিগ্ন। তবে দেশের মানুষের জন্য অবশ্যই তা সঠিক কেননা দেশে সকলের পরিচয়পত্র আছে বলে উল্লেখ করা হয় উক্ত চিঠিতে।
চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, প্রবাসে অবস্থানরত বিশেষ করে বিলেত, ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের এবং আমাদের বংশধরদের বাংলাদেশের পরিচয়পত্র থাকাটা বিরল। তাই এই আদেশ বলে স্বাভাবিক কারণেই বাংলাদেশে প্রবাসীদের সম্পদ কিংবা সামাজিকভাবে নিপীড়িত হলে তাদের বিচারের কোনো ব্যবস্থা রইলনা। প্রবাসীদের প্রতি এই অসম আইন দেশে অবস্থানরত আত্মীয়-স্বজন কিংবা দেশের মানুষ দ্বারা প্রবাসীদের নিগৃহীত হওয়া ও সম্পত্তি হারানোর এক বিরাট ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হবে। তাছাড়া এই আইনের ফলে দেশে প্রবাসীদের আত্মীয়-স্বজন ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গকে প্রবাসীদের সম্পত্তি হরনে উৎসাহিত করবে।
অতএব ধানমন্ত্রীর কাছে প্রবাসীদের সম্পদ এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানের জন্য আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয় চিঠিতে। এজন্যে বিদেশে অবস্থানরত দেশী এবং বিদেশী পাসপোর্টধারী বাংলাদেশীদের যাদের পাসপোর্টে ‘নো ভিসা রিকোয়ারমেন্ট’ রয়েছে কিংবা যাদের পাসপোর্টে নতুন করে ‘নো ভিসা রিকোয়ারমেন্ট লাগানো হবে তাদের সাথে সাথে একটি স্থায় পরিচয়পত্র প্রদান করার দাবী জানানো হয় চিঠিতে।

এনআরবি‘র স্মারকলিপি প্রদান:
প্রবাসীদের উদ্বেগর বিষয়টি তুলে ধরে লণ্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে স্মারকলিপি প্রদান করেছে যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের সংগঠন এনআরবি।
গত ১৮ জুন, শুক্রবার সহকারী হাইকমিশনার জুলকার নাইনের কাছে এই এই স্মারকলিপি তুলে দেন সংগঠনের নেতারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিনিধি সাংবাদিক আহাদ চৌধুরী বাবু, সাংবাদিক জুয়েল রাজ, সাংবাদিক শাহ বেলাল।

বার্মিংহামে প্রতিবাদ সভা

বার্মিংহামের উদ্বিগ্ন প্রবাসীদের জরুরী সভা অনুষ্ঠিত:
সম্প্রতি বাংলাদেশের হাইকোর্টের রায়ে মামলা করতে আইডি কার্ডের নাম্বার সংযুক্তি করার নির্দেশনায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বৃটেনপ্রবাসীদের মনে। এবিষয়ে আলোচনার জন্য গত ২০ জুন, রোববার বার্মিংহামের বাংলাদেশী কমিউনিটির উদ্যোগে স্মল হীতের স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে জরুরীভিত্তিতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বাংলাদেশের হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনায় মামলা করতে আইডির কার্ডের নাম্বার সংযুক্ত করার নির্দেশনাকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি যুগান্তকরী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও এটিকে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ প্রবাসীদের জন্য উদ্বেগের বিষয় বলে অভিহিত করেন। তারা বলেন, বেশীরভাগ প্রবাসীদেরই আইডি কার্ড নেই। এতে করে প্রবাসীদের কেউ মামলা-মোকদ্দমা করতে গেলে হয়রানির শিকার এবং নিজের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায় প্রবাসীদের দ্রুত আইডি কার্ড প্রদান যেমন দরকার তেমনি সাময়িকভাবে মামলার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের পাসপোর্টকে আইডি হিসেবে গ্রহণ করার বিধান প্রবর্তনের জোর দাবী জানান তারা।

এ ব্যাপারে সরকারের উর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রবাসীদের শংকার বিষয়টি হাইকমিশনরে মাধ্যমে অবহিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন— আলহাজ্ব আজির উদ্দিন, ডা. আব্দুল খালিক, কমরেড মসুদ আহমেদ, ফয়জুর রহমান চৌধুরী এমবিই, তাফাজ্জুল হোসেন চৌধুরী, মিসবাউর রহমান, এনামুল হক খান নেপা, কয়সর আহামদ, বাংলা ভয়েস সম্পাদক মোহাম্মদ মারুফ ও বাংলামেইল সম্পাদক সৈয়দ নাসির আহমদ।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close