মুক্তচিন্তা

জিয়াউর রহমানের কলমীলতা

|| ফজলে এলাহী ||

লেখক: এক্টিভিস্ট

স্বাধীনতার ঘোষক, সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের রুপকার, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের স্থপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চেয়েছিলেন আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে আগামীর প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে,  তাই তো বাংলাদেশের সর্ব প্রথম চলচ্চিত্র “ওরা ১১ জন” থেকে শুরু করে পরবর্তীতে মমতাজ আলীর “রক্তাক্ত বাংলা”, সুভাষ দত্তের “অরুণোদয়ের অগ্নিস্বাক্ষী” সহ আরও একাধিক মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণের  নেপথ্য সহযোগীতায় জিয়াউর রহমান জড়িয়ে আছেন যে কথাটি অনেক জাতীয়তাবাদীরাও জানেনা। ঠিক তেমনই জিয়াউর রহমান এর অনুপ্রেরণায় ও সহযোগিতায় নির্মিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র “কলমীলতা”। 

“বাংলাজাশিস” অর্থাৎ “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শিল্প সংস্কৃতি” এই নামে বাংলাদেশের শিল্প সংস্কৃতিকে পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য একটা প্রতিষ্ঠান তৈরী করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।  সেই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে প্রথম নির্মিত  চলচ্চিত্রের নাম “কলমীলতা” যা নির্মানের জন্য কবি ও সাহিত্যক শহীদুল হক খানকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।  “কলমীলতা” র কাহিনীটাও বলে দেন জিয়াউর রহমান যা ছিলো মুক্তিযুদ্ধের সময়কার একটি অভিজ্ঞতারই বর্ণনা।  পরে তা  কাহিনী বিন্যাস করেন শহীদুল হক খান,  চিত্র পরিচালক জহিরুল হক ও চিত্রগ্রাহক রফিকুল বারী একত্রে সম্মিলিত ভাবে। ছবিটি নির্মাণের জন্য জিয়াউর রহমান সরকারীভাবে  আর্থিক অনুদানও দিয়েছিলেন অর্থাৎ জিয়াউর রহমান এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সার্বিক সহযোগিতায় নির্মিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র “কলমীলতা”। 

কলমীলতার কাহিনীটি ছিলো এমন — বিধবা রোজী সামাদ দুই সন্তান বেণু ( কবরী) ও মতি (শিশুশিল্পী শাকিল) নিয়ে জীবন যুদ্ধ করে যাচ্ছেন।  যদিও কবরীরা হলো গ্রামের সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত ও প্রভাবশালী পরিবার তালুকদার বংশের কিন্তু পিতার মৃত্যুর পর তার চাচা গোলাম মোস্তফা জমিজমা ভোগ দখল করায় তাদের অবস্থা আজ খারাপ।  গোলাম মোস্তফার উপর রোজীর অনেক ক্ষোভ তাই তো মোস্তফার কথার জবাবে রোজী বলে “বেঁচে থাকার জন্য যা যা করা প্রয়োজন তারা তাই করছে কিন্তু কোন অন্যায় কিছু করছে না”।  গোলাম মোস্তফা গ্রামের মাথা,  সবকিছু তার কথামতো চলে। গ্রামের আরেক পরিবার মাষ্টার পরিবার যার প্রধান হলেন আরিফুল হক।  আরিফুল হক গ্রামের স্কুলের মাষ্টার যার দুই ছেলে বুলবুল ও ইলিয়াস কাঞ্চন।  বুলবুল একদম বাউন্ডুলে বাউল স্বভাবের আর কাঞ্চন ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে।  বুলবুল ভালোবাসে কবরীকে কিন্তু কিছু বলতে পারেনা।  গোলাম মোস্তফা মনে মনে ঠিক করে মাষ্টারের ছোট ছেলে কাঞ্চনের সাথে তার একমাত্র মেয়ে সুচরিতার বিয়ে দিবে। …. এভাবেই সবকিছু ঠিকঠাক মতো চলছিল  কিন্তু দেশে  হঠাৎ যুদ্ধ শুরু হওয়ায় সব এলোমেলো হয়ে যায়।  গ্রামে পাকিস্তানী সৈন্যরা হানা দেয়।  গোলাম মোস্তফা সৈন্যদের সহযোগিতা করে।  বেণুদের ঘরবাড়ি সহ বহু মানুষের ঘড়বাড়ি পুড়িয়ে দেয়।  কবরী ধর্ষিত হয়।  গ্রামের মানুষেরা অন্য গ্রামে আশ্রয় নেয়। কিশোর মতি,  বুলবুল,  ইলিয়াস কাঞ্চনসহ গ্রামের যুবকেরা যুদ্ধে যায়। তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে বাঙালি এক মেজরের নেতৃত্বে (সোহেল রানা) সেনাবাহিনীর একটি দল। একদিন একটা অপারেশন সফল করতে মতি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি ব্রীজ উড়িয়ে দেয় কিন্তু পাকিস্তানি সৈন্যদের গুলিতে মতি শহীদ হয়।… এভাবে একদিন দেশ স্বাধীন হলে বুলবুল, কাঞ্চনরা গ্রামে ফিরে আসে। বুলবুল কবরীকে বিয়ে করতে চাইলে কবরী বলে “আমি কথা দিচ্ছি, যেদিন সব কলংক মুক্ত হতে পারবো সেদিন আমি তোমার কাছে ফিরে আসবো”। কিন্তু বুলবুল ও কবরীর মিলন আর হয়না।  জমিজমা নিয়ে গোলাম মোস্তফার সাথে বিরোধে পরবর্তীতে লাঠিয়াল বাহিনীর হাতে বুলবুল ও কবরী নিহত হয়। 

ছবিটিতে মেজর চরিত্রটি ছিলো মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানেরই ছায়া যে চরিত্রে অভিনয় করেন সোহেল রানা। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক অন্য চলচ্চিত্রগুলোর চেয়ে এই চলচ্চিত্রটি কিছুটা ব্যতিক্রম।  কারণ এই চলচ্চিত্রে গ্রাম বাংলার আবহমান জীবন যাপন ও রূপ-বৈচিত্র্য তুলে ধরতে বেশ কয়েকটি গান আছে৷ মুক্তিযুদ্ধের পাকিস্তানি সেনাদের বর্বরতার চিত্র যেভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তার সাথে সাথে বাংলার সাধারণ আপামর জনতার ও বাঙালী সেনাবাহিনীর  মুক্তিযুদ্ধ সময়কালিন যে মিলিত বীরত্বের  প্রচেষ্টায় আমাদের স্বাধীনতা সেটাও তুলে ধরা হয়েছে।  দেশপ্রেমিক একটি অবুঝ কিশোর থেকে শুরু করে ছাত্র, কৃষক,  পেশাজীবি সহ  সেনাবাহিনীর স্বাধীনতাকামী সদস্যদের সকলের মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছে সেটাকে তুলে ধরাটাই ছিলো চলচ্চিত্রটির মূল উদ্দেশ্য। মুক্তিযুদ্ধ  কোন একটা দল বা গোষ্ঠির একক কৃতিত্ব নয়, এটা ছিলো সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক মানুষদের মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। জিয়া হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে একদিন এদেশে কোন দল বা  গোষ্ঠী নিজেদের একক কৃতিত্ব বলে দাবি করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করবে তাই তো তিনি নির্মাণ করে গেছেন “কলমীলতা”। তাই তো বারবার বলি জিয়াউর রহমানকে ভালোবাসতে শিখলে দেশটাকে ভালোবাসতে শিখবেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪০তম শাহাদত বার্ষিকী তে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close