নিউজ

২১ জুন লকডাউন তোলার প্রশ্নে ব‍্যবসায়ী-বিজ্ঞানীদের ভিন্নমত: চাপে সরকার

  • মৃত্যুবিহীন একদিনে আশার সঞ্চার
    * সংক্রমণ বাড়ায় তৃতীয় তরঙ্গের শঙ্কা

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ৪ জুন : প্রস্তাবিত লকডাউন শিথিলের সরকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে কি হবে না — তা নিয়ে দোলাচলের সৃষ্টি হয়েছে। লকডাউন শিথিলে সরকার ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী ২১ জুন বৃটেনে করোনাকালীন জারিকৃত বিধিনিষেধ সম্পূর্ণরূপে ওঠে যাওয়ার কথা। সেই হিসেবে সবাই অধীর অপেক্ষায় চলাফেরায় স্বাধীনতা পাবার পরম মুহূর্তটির, যখন থেকে সরকারী আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে ওঠে যাবে সব বিধিনিষেধ। একবছর পর ১ জুন, মঙ্গলবার বৃটেন এই প্রথম করোনায় মৃত্যুবিহীন একদিন অতিবাহিত করার পর আশার সঞ্চার করেছে। পরদিন বুধবারের প্রায় সবকটি ব্রিটিশ মিডিয়াতেও ছিলো করোনায় শূন্য মৃত্যুতে আশা জাগানিয়া সংবাদ শিরোনাম। কিন্তু করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বা ধরণ নিয়ে চিন্তিত করে তুলছে সায়েন্টিসদের। মৃত্যুহার দিন দিন কমতে থাকলেও ক্রমশ সংক্রমণ বাড়ায় তৃতীয় তরঙ্গের আশঙ্কা করছেন তারা। সেই আশঙ্কা থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেবার ঘোষিত ডেডলাইন স্থগিত করার অনুরোধ জানাচ্ছেন অনেক চিকিৎসাবিজ্ঞানী। অপরদিকে, ব্যবসায়ী নেতারা বিশেষ করে লকডাউনে প্রায় ভেঙ্গে পড়া হসপিটালিটি সেক্টরের ব্যবসায়ী নেতারা ঘোষিত ডেডলাইনের ব্যাপারে কোনো ধরণের হেরফের না করার ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক করে যাচ্ছেন। তাই সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে চরম চাপে রয়েছে সরকার। তাই স্বাভাবিকভাবেই ২১ জুন সব বিধিনিষেধ সম্পূর্ণরূপে তুলে নেওয়া হবে কিনা তা এই মুহূর্তে কারো পক্ষেই বলা সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ থেকে ৫ দফায় লকডাউন তুলে নেয়ার রূপরেখা ঘোষণা করে সরকার। সেই রূপরেখা অনুযায়ী ২১ জুন লকডাউন পুরোপুরি তুলে নেয়ার কথা।

নতুন করে সংক্রমণ বাড়ার সবচেয়ে বেশী দায়ী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে করোনার ভারতীয় ধরণ। ২৮ মে পর্যন্ত বৃটেনে ৭ হাজারের বেশী করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে যারা করোনার ভারতীয় ধরণের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছে। সরকার বলছে, লকডাউন শিথিল করার কারণে করোনার সংক্রমণ কিছুটা বাড়বে সেটি অনেকটা প্রত্যাশিত। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তির হার বেড়ে যাওয়া উদ্বেগজনক। মূলতঃ যারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন তাদের বেশীরভাগই ভারতীয় ধরণে আক্রান্ত। পূর্ব নির্ধারিত ২১ জুন লকডাউন পুরোপুরি তুলে নেয়ার ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে করোনার ভারতীয় ধরণ বড় ধরণের উদ্বেগ তৈরী করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন যে, পরিস্থিতি অবনতির দিকে ধাবিত হতে থাকলে ২১ জন পুরোপুরি লকডাউন তুলে নেয়া সম্ভব হবে না। তবে ১৪ জুন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। পরিসংখ্যান বলছে, ২৮ মে পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার জনের মধ্যে কোভিডের ভারতীয় ধরণ শনাক্ত হয়েছে। যা এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ভারতে বিরাজমান করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য এই ধরণটিকেই দায়ী করা হয়।

এক সপ্তাহ আগ পর্যন্ত বৃটেনে ভারতীয় ধরণে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছিলো ৩ হাজার ৫৩৫ জন। গত সপ্তাহে সেটি বেড়ে হয়ে যায় ৬ হাজার ৯৫৯ জন। সাধারণত ভাইরাসটি প্রতিনিয়ত তার রূপ পরিবর্তন করে। এর বেশীরভাগ রূপান্তরগুলোই হয় খুব সাধারণ। তবে কিছু রূপান্তর ভাইরাসকে আরও সংক্রামক করে তুলতে পারে। যুক্তরাজ্যে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট হিসেবে পরিচিত বি.১.৬১৭.২ ভাইরাসটি শীতে আতঙ্ক ছড়ানো কেন্ট ভ্যারিয়েন্টের চেয়েও অধিক দ্রুত গতিতে সংক্রমিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এরইমধ্যে দুনিয়ার অন্তত ৫৩টি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে অধিক সংক্রামক এই ভ্যারিয়েন্ট।

মহামারি শুরুর পর করোনায় প্রথম মৃত্যুবিহীন দিন:
গত বছর করোনাভাইরাসের মহামারি ঘোষণার পর থেকে প্রথমবারেরে মতো একটি মৃত্যুবিহীন দিন পার করল বৃটেন। মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় করোনায় কারো মৃত্যু হয়নি বৃটেনে। হেলথ সেক্রেটারি এটাকে অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ বললেও ভাইরাসকে এখনো পরাজিত করা যায়নি বলে সতর্ক করেছেন।

করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর তালিকার ওপরে থাকা দেশগুলোর একটি বৃটেন। সরকারী হিসেব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৮২ জন। তবে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নেমে এলেও সংক্রমণ থেমে নেই। যদিও সেই সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কম। সরকারি হিসাবে, ২ জুন, মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ১৬৫ জন করোনা রোগী, যা আগের দিনের (সোমবার) ৩ হাজার ৩৮৩ জনের তুলনায় কম এবং গত মঙ্গলবারের ২ হাজার ৪৯৩ জনের তুলনায় বেশী।
এদিকে, করোনাভাইরাসের মহামারিকে পরাজিত করতে টিকা প্রয়োগের ওপর জোর দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। টিকাদানে বিশ্বেও যেসব দেশ এগিয়ে রয়েছে, তাদের একটি বৃটেন। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, গত ১ জুন, মঙ্গলবার পর্যন্ত বৃটেনে করোনার এক ডোজ করে টিকা নিয়েছেন ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৭৭ হাজার ১৫৮ জন যা প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের প্রায় ৭৫ শতাংশ। আর পূর্ণ ডোজ টিকা নিয়েছেন ২ কোটি ৫৭ লাখ ৩৪ হাজার ৭১৯ জন।

সংক্রমণ ও মৃত্যু কমার পেছনে টিকাদানের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে হেলথ সেক্রেটারি ম্যাট হ্যানকক মঙ্গলবার বলেছেন, টিকা নিশ্চিতভাবে কাজ করছে। আপনাদের, আপনাদের আশপাশের লোকজনকে এবং আপনাদের প্রিয়জনদের সুরক্ষা দিচ্ছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close