নিউজ

লণ্ডন প্রবাসী শহীদুল্লাহর আবেদন: ভাই হত্যার বিচার ও সম্পত্তির পুনোরুদ্ধার চান

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ২৮ মে : মিথ্যামামলা মকদ্দমা ও হয়রানীর কারণে দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশে যেতে পারছেন না মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও তার পরিবার। দেশে জায়গাজমি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রভাসশালীদের সঙ্গে শহীদুল্লাহ ও তার পরিবার প্রতিদিন নিগৃহীত হয়ে আসছেন। সেসব নিয়ে এক পর্যায়ে শহীদুল্লাহর ভাই গিয়াস উদ্দিনকে কে বা কারা হত্যা করে লাশ ডুবায় ফেলে রাখে এবং পরবর্তীতে এই মামলা চালানোর জন্য তার ভাই শহীদুল্লাহ এখন আর দেশে যেতে পারছেন না। প্রভাশালী মহলের হুমকী ও ধমকীর মুখে এই পরিবার এখন প্রায় অসহায়।
প্রায় ত্রিশ বছর ধরে চলা জমিজামা বিষয় নিয়ে নোয়াখালীর সেনাবাগ থানার বাসিন্দা প্রবাসী শহীদুল্লাহ নিজ ভিটামাটি নিয়ে অনেক ঝামেলা পোহাচ্ছেন। স্থানীয় প্রভাশালীরা এসব ভোগ দখল করার জন্য তাকে ও দেশে থাকা তার আত“ীয়স্বজনদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। বর্তমানে শহীদুল্লাহ একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ। তিনি চাইলেও তাদের বিরুদ্ধে দেশে গিয়ে মামলা বা আইনী সহায়তা নিতে অপরাগ। এসব বিষয়ের বিস্তারিত উল্লেখ করে তিনি লণ্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনের মাধ্যমে ন্যায় বিচারের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো প্রতিকার পাননি।

কবে হাইকমিশনের মাধ্যমে প্রবাসী মন্ত্রনালয়ে আবেদন করেছিলেন — এমন প্রশ্নের জবাবে মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ সাপ্তাহিক সুরমার পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বিগত ২০/১২/২০১৮ ও ১২/১০/২০২০ সালে দুইবার অভিযোগ জানানো হয় বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে। এ আবেদন সিসিকপি হিসেবে প্রেরণ করা হয় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবর। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো প্রতিকার আমি পাইনি।
প্রবাসী মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ কোনো প্রতিকার না পেয়ে দিন দিন হতাশ হয়ে পড়েছেন। তিনি জানান, আমি এই বৃদ্ধ বয়সে আর কীইবা করতে পারি। বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে আমি বৈধভাবে আমার বৈধ সম্পত্তি ও ভাই হত্যার বিচার চাই।

শহীদুল্লাহর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই স্থানীয় ভূমিদস্যুরা তার সম্পত্তি আত“সাত করে আসছে। এবং এই চক্রই বিভিন্ন সময় মিথ্যামামলা দিয়ে তাকে দেশের যাবার পথ রোধ করে রেখেছে। উল্লেখ্য, তার সম্পত্তি দেখভাল করার দায়িত্বে ছিলেন তার ছোট ভাই মৃত গিয়াস উদ্দিন। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে গিয়াউস উদ্দিনকে হত্যা করা হয়। এই হত্যা মামলার কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া চালাতে তিনি অক্ষম কারণ, তাকে কোনোভাবেই দেশে যেতে দেয়া হচ্ছে না। জনাব শহীদুল্লাহর ধারণা, আমাকে দেশে যেতে বিরত রাখতে চায় তারাই আমার ভাইকে হত্যা করেছে। না হলে কী কারণে তারা আমাকে আমার অনুপস্থিতে মিথ্যামামলার মাধ্যমে দেশে যাওয়া প্রতিরোধ করে রাখে? তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে তিনি হয়তো আর কোনো দিন দেশে যেতে পারবেন না। এই বয়সকালে তিনি শান্তিতে দেশে গিয়ে থাকতে চান কিন্তু ভূমিদস্যুদের কারণে তিনি আজ অসহায়ভাবে দেশে যেতে পারছেন না। নিজের উপর্জানী টাকা দিয়ে ক্রয় করা সম্পত্তি যদি তিনি ভোগ করতে না পারেন তাহলে এর চে অন্যায় আর কী হতে পারে?

মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ তার অভিজ্ঞতা থেকে আক্ষেপের সুরে বলেন, প্রবাসীদের উপার্জিত অর্থই দেশের উন্নয়নের চাকাকে চলমান রেখে আসছে। যদি আমি এভাবে ভুক্তভোগী হই তাহলে না জানি আরো কতো প্রবাসী এভাবে নাজেহাল হচ্ছেন কিছু দুর্নীতিবাজ প্রসাশন ও স্থানীয় ভূমিদস্যুদের মাধ্যমে। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো একদিন প্রবাসীরা দেশে আর সম্পত্তি করার চিন্তা করবে না। কারণ, তারা যদি তা ভোগই করতে না পারে তাহলে সেখানে অর্থ ব্যয় করা অর্থহীন হয়ে যাবে। সম্পত্তিই একদিন প্রবাসীদের জীবনের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এতে দেশ হারাবে বিশাল মাপের রেমিটেন্স এবং উন্নয়নও তাতে ব্যহত হবে। দেশ ও জনগণের স্বার্থে এসব দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী।

শহীদুল্লার আবেদন তিনি চান তার সম্পত্তি পুনরোদ্ধার ও তার ভাই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার। লণ্ডন প্রবাসী শহীদুল্লাহ তার পরিবার ও নিজের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close