বাংলাদেশমুক্তচিন্তা

এমপি সালমান রহমান সমীপে

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী এলাকা দোহার-নবাবগঞ্জ। এলাকার সংসদ সদস্য মি. সালমান এফ রহমান জাতীয় পর্যায়ে একজন নীতি নির্ধারক ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। জাতীয় পর্যায়ে তাঁর ব্যস্ততার সুযোগে সাধারণ মানুষ কিভাবে মাদক আর নানা সামাজিক সমস্যায় জর্জরিত তার উদাহরণ, নীচে প্রকাশিত এই খোলাচিঠি। দেশে বহু গণমাধ্যমে ধর্ণা দেয়ার পরেও এলাকাবাসি তাদের এইসব অভিযোগ কোথাও তুলে ধরতে পারেনি। এলাকায় জনপ্রিয় ও জননন্দিত সালমান এফ রহমান যাদেরকে এলাকার দেখভালের দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন, তারা এমপির সঙ্গে জনতার মাঝে আকাশ সমান দেয়াল তুলে রেখেছেন। উপায় না দেখে এলাকাবাসী লন্ডনে সাপ্তাহিক সুরমার কাছে পাঠিয়েছেন তাদের খোলাচিঠি। জনস্বার্থে তাদের এই খোলা চিঠি আমরা হুবহু প্রকাশ করছি। আমরা জানিনা ভুক্তভোগী জনতার এই চিঠি সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের গোচরীভূত হবে কিনা? তবে আমরা আশা করতে চাই- এই খোলা চিঠির জের ধরে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে এলাকাবাসী তাদের প্রিয় জনপদকে মাদক আর অপরাধমুক্ত রাখতে সক্ষম হবেন- সম্পাদক।     

তারিখ :২০/০৫/২০২১বরাবর,
মাননীয় সংসদ সদস্য
ঢাকা-১(দোহার-নবাবগঞ্জ) l

বিষয়: মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গেl

প্রিয় এমপি মহোদয়,
আমাদের সশ্রদ্ধ সালাম ও শুভেচ্ছা নেবেন। আমরা সত্যি ভাগ্যবান,আপনার মত স্বনামধন্য বিশ্ববরেণ্য একজন ব্যক্তিকে আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য হিসেবে পেয়েছি। আমরা গর্বিত যে, আপনার ঐতিহ্যবাহী পরিবারের কয়েক জেনারেশন ধরে আমাদের এই অঞ্চলের সেবা করে আসছেন। তাই আপনার কাছে আমাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি অনেক।
কিছু দুষ্ট চক্র, আপনার মহানুভবতা ও উদারতার সুযোগের অপব্যবহার করছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা 

আপনার সদয় অবগতির জন্য বারুয়াখালী ইউনিয়নের উদাহরণ তুলে ধরা হলো:
গণমাধ্যমে প্রকাশিত,গত১১ই মে ১৯ রাত সাড়ে ৯ টার সময়ে,নবাবগঞ্জ উপজেলার, বারুয়াখালী ইউনিয়নের, মাদলা চক্রাকার একটি বিলের পাড়ে বসে ইয়াবা সেবন সময় চারজনকে আটক করে । আটককৃত চারজন হল উপজেলা মাগুরা গ্রামের মৃত ধিরেন বিশ্বাসের ছেলে সুভাষ বিশ্বাস, বারুয়াখালী গ্রামের আফসার ছেলে বিপ্লব সিকদার, মৃত জহিরউদ্দিন দেওয়ানের বড় ছেলে শামীম দেওয়ান ও মুরাদ । এলাকাবাসী জানান বিপ্লব সিকদার স্থানীয় চেয়ারম্যান চাচাতো ভাই এবং শামীম চেয়ারম্যানের মোটরসাইকেল চালক ও মুরাদ তাদের ঘনিষ্ঠ । তাদেরকে ছাড়িয়ে নেয় চেয়ারম্যান লোকজন।নবাবগঞ্জ থানা তথ্যবিবরণীতে শুধু সুভাষ বিশ্বাস কে ২৫টি ইয়াবা সহ আটক দেখানো হয়। এই নাটোকিও ঘটনার পর থেকে এলাকার মানুষ মুখ খুলতে ভয় পায়।
তাদের কাছ থেকে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জমাদি ও জুয়া খেলার সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
মাঝে মধ্যে দিনের বেলা চেয়ারম্যানের দেখা মিললেও চেয়ারম্যানের সাংগ পাংগের দুর্ব্যবহারে যেন অতিষ্ঠ সেবা প্রত্যাশীরা। এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভিত স্থানীয়রা। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সাথে চেয়ারম্যানসহ জড়িতদের বিচার সকলের প্রানের দাবি।
ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান শিকদার নিজেকে এমপি মহাদয়ের খাস লোক বলে পরিচয় দিয়ে দাপটের সাথে সকল অপকর্ম করেন।
মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি গ্রামে ৫-১০জনের বাহিনী করে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলার।

ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান শিকদার এলাকার কোনো উন্নয়ন করেননি। অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শুধু নিজে সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

প্রসঙ্গত, ইউপি চেয়ারম্যান আরিফের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে শূণ্য থেকে সল্প সময় কোটিপতি হওয়ার আভীযোগ রয়েছে।
সন্ত্রাসের মাধ্যমে এলাকার একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে ওঠেন তিনি। এ অঞ্চলের মাদক ব্যবসাও নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন তিনি। এভাবে অবৈধ সম্পদ অর্জন করে পর্যায়ক্রমে বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ব্যবসা, জায়গা-জমির মালিক বনে যান তিনি।
পাল্লা ভারি করতে জামায়াত-বিএনপি থেকে লোকজনকে নিজ দলে ভেড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হওয়ার পর আরিফ শিকদার তার বাহিনী দিয়ে এলাকার মানুষকে জিম্মি করে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও অত্যাচার করে আসছে।

এলাকার কেউ তার অপকর্মের প্রতিবাদ করলে কিংবা ফেসবুকে লিখলে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হামলা ও খুন-জখমের হুমকি প্রদান করে।
এছাড়াও চেয়ারম্যান আরিফ ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ ও প্রকল্পের নামে আসা সরকারি চাল, প্রাপ্য দের না দিয়ে তার বাহিনীর মাঝে বিতরণ করেন।
সর্বোপরি ইউনিয়নের সকল প্রকল্পসমূহে দুর্নীতি করা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য বানাচ্ছেন। গরিব-অসহায় মানুষের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত ঘরের বরাদ্দে স্বজনপৃতি ও অনিয়ম করেন।দুস্থদের ভাতার কার্ড বিতরণে, সেই সঙ্গে বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, শিশু কার্ড বিতরণে এবং বরাদ্দের চাল আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে জুয়ার আসরের সুনির্দিষ্ট অভিযোগও আছে।
বিগত ২০১৯-২০ অর্থবছরে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ অর্থসহায়তা প্রদান করা হয়েছিল সেখানেও চরম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

গৃহহীন মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী যেসব ঘর দিয়েছেন চেয়ারম্যান সেসব ঘর তার স্বজনদের নামে বরাদ্দ দিয়েছেন। এ ধরনের দুর্নীতি আওয়ামী লীগকে অজনপ্রিয় করার জন্য যথেষ্ট।

চেয়ারম্যান আরিফ ঘোষণা দেন যে তার ইউনিয়নে দান নেয়ার মতো কোনো গরিব মানুষ নেই। তাহলে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ, চাল, গম সহ ত্রাণ সামগ্রী গেল কোথায়?

আর তাহলে অত্র ইউনিয়নের হতদরিদ্রের তালিকা সহস্রের উপরে কেন?

ভিকটিম যারা, তারা বিষয়টি প্রশাসনের কাছেও জানাতে ভয় পাচ্ছে। আরিফ নিয়মিত ইউনিয়নের অফিসে না আসার কারণে জনসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

গ্রামের নিরীহ মানুষ মাদক ব্যবসায়ীদের ভয়ে টু-শব্দটি করতে পারে না।ইউনিয়নে এই বাহিনীর দাপটে অসহায় এখানকার সাধারণ মানুষ। তাছাড়া ঘটেছে একাধিক খুনের ঘটনাও। দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে এই বাহিনী। গোটা ইউনিয়নের মানুষ এখন জিম্মি এই বাহিনীর কাছে।
মাদকের ভয়াবহ ছোবলে তরুন প্রজন্ম বিপর্যস্ত।

চেয়ারম্যান আরিফ নিজেকে এমপি মহাদয়ের খাস লোক বলে পরিচয় দিয়ে দাপটের সাথে সকল অপকর্ম করছে।

তরুন সমাজে প্রভাব:মাকদের কারনে বেড়ে যাচ্ছে সামজিক অবক্ষয় ,তরুন সমাজে ক্ষয়ে যাচ্ছে নৈতিক মূল্যেবোধ । ভেঙ্গে পড়ছে পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে আস্থা-বিশ্বাস ,সামজে তৈরি হচ্ছে আতন্ক । কাঁপন জাগছে সর্বস্তরের মানুষের মনে ঘরে ঘরে । মাদক কেড়ে নিচ্ছে তরুনের জীবন,মাদকের কারনে ভাই খুন করছে ভাইকে ,বোনও নিরাপদ নয় মাদকাসক্ত ভাইয়ের কাছে,স্বামী খুন করছে স্ত্রীকে ,ছেলে খুন করছে বাবাকে, মাও ভাড়াটিয়া খুনি দ্বারা খুন করছে তার সন্তানকে । মাদকাসক্তির কারণে বাড়ছে পারিবারিক সহিংসতা,বাড়ছে নারী নির্যাতনও বিবাহ বিচ্ছেদ ,বাড়ছে আত্মহননও ।

একইভাবে তারা বিভিন্নভাবে আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে গুরুতর অসদাচরণ করে চলেছেন বলে আমরা মনে করি। আমরা নানা বিধ দুর্নীতি ও অনিয়ম সহ চেয়ারম্যানদের গুরুতর অসদাচরণের কয়েকটি ক্ষেত্রে আপনার সদয় অবগতির জন্য তুলে ধরেছি। সেই সাথে চেয়ারম্যান আরিফ আপনার খাস লোক বলে পরিচয় যেন না দিতে পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।

নিরীহ মানুষের পক্ষে আমরা বর্তমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আমাদের উত্থাপিত এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত উপরোল্লিখিত সুনিদৃষ্ট অনিয়ম দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে আপনাকে সকল প্রকার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।

আমরা বিশ্বাস করি, আপনার গৃহীত পদক্ষেপ অত্র এলাকার, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য যাবতীয় জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করাসহ অপরাধমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবে।

বিনীত
নিরীহ ইউনিয়ন বাসীর পক্ষে
মাহবুবুর রহমান

সম্পরকিত প্রবন্ধ

এছাড়াও চেক করুন
Close
Back to top button
Close
Close