নিউজ

লকডাউন শিথিলে স্বস্তি, নতুন আতঙ্ক ইণ্ডিয়ান ভ্যারিয়েণ্ট

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ২২ মে : ক্রমান্নয়ে লকডাউন শিথিল মানুষের মনে স্বস্তি দিতে সক্ষম হলেও নতুন আতঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনার ইণ্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্ট বা ভারতীয় রূপ। ইণ্ডিয়ান এই ভ্যারিয়েন্টে প্রতিদিন ১ হাজার করে মানুষ মারা যাবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ হেলথ সেক্রেটারি ম্যাট হ্যানকক। বৃটেনে এযাবত এ ভ্যারিয়েন্টের ২ হাজার ৩শ‘রও বেশী কেইস শনাক্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। তাছাড়া ৪৬টি এলাকায় ৫জনেরও বেশী করে আক্রান্ত হয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, ঘোষিত রূপরেখা অনুযায়ী ১৭ মে, সোমবার থেকে ইংল্যা-ে লকডাউন আরও শিথিল করা হয়েছে। এ দফায় রেস্টুরেন্ট ও পাবে বসে খাওয়া, অন্যের ঘরে বেড়ানোর অনুমতিসহ খুলে দেয়া হয়েছে সিনেমা হল, থিয়েটার এবং বিভিন্ন ইনডোর ক্রীড়া কার্যক্রম।
সরকার ৮ মার্চ থেকে মোট ৫ দফায় লকডাউন তুলে নেয়ার রূপরেখা ঘোষণা করেছিলো। সোমবার সেই রূপরেখার চতুর্থ দফা বাস্তবায়ন করা হলো। এরপর শেষ দফায় আগামী ২১ জুন লকডাউনের সকল বিধি-নিষেধ তুলে নেয়ার কথা রয়েছে এবং ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এমন ইঙ্গিতই দেওয়া হচ্ছে।
টানা ৬ মাসের মত লকডাউনের পাশাপাশি দেশবাসীকে টিকাদানে বড় ধরণের সাফল্যের কারণে লকডাউন তুলে শিথিল করার এ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তবে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনার ভারতীয় রূপ। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ভারতীয় ধরণ তুলনামূলক দ্রুত ছড়াচ্ছে এবং মারাত্মক। এটি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ২১ জুন পুরোপুরি লকডাউন তুলে নেয়া সম্ভব হবে না।
কিন্তু করোনার ভারতীয় ধরণ ছড়িয়ে পড়ার জন্য বরিসের সরকারকেই দায়ী করছেন সমালোচকরা। কেননা, করোনার প্রবেশ ঠেকাতে গত ৯ এপ্রিল বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানকে লাল তালিকাভূক্ত করে এসব দেশের সঙ্গে ভ্রমণ বন্ধ করে যুক্তরাজ্য। কিন্তু ভারতে করোনা পরিস্থিতি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের চাইতে ভয়াবহ হওয়া সত্ত্বেও ভারতকে লাল তালিকাভূক্ত করা হয়নি এবং ভারতের সঙ্গে ভ্রমণ অব্যাহত রাখে। সর্বশেষ চাপে পড়ে গত ১৯ এপ্রিল ভারতকে লাল তালিকাভূক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে সেটির বাস্তবায়ন হয় ২৩ এপ্রিল থেকে। কিন্তু এর আগেই যা সর্বনাশ হওয়ার হয়ে গেছে। হাজার হাজার ভারতীয় করোনা নিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন। ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্ত ১৪শ’রও বেশী লোকের ক্ষেত্রে ভারতীয় ধরণ শনাক্ত হয়েছে।

যা কিছু শিথিল হলো:
১৭ মে সোমবার থেকে ঘরের বাইরে ৩০ জন লোক দলবেঁধে একসাথে সাক্ষাত করতে পারবে। ঘরের ভেতরে বিভিন্ন পরিবারের ছয় জন সদস্য অথবা দুটি পরিবারের সকল সদস্য মিলিত হতে পারবে। বিবাহ, অভ্যর্থনা এবং এবং অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে ৩০ ব্যক্তি একই স্থানে সমবেত হতে পারবে। জানাজা, শেষকৃত্য এবং এ ধরনের অন্যান্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকের সংখ্যা আর নির্দিষ্ট থাকবেনা, তবে অনুষ্ঠানস্থলের আয়তনের সাথে লোকসমাগম মানানসই হতে হবে।
সোমবার থেকে নিকটাত্মীয় এবং বন্ধু-বান্ধবদের সাথে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাকে ব্যক্তিগত বিচার-বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে ঘনিষ্ঠভাবে সাক্ষাত করার ক্ষেত্রে (যেমনঃ আলিঙ্গন) সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে সরকারি নির্দেশনায়।
তবে সোশ্যাল কেয়ার, হাসপাতাল, সুপার মার্কেট, হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হবে।
পাব, বার এবং রেস্টুরেন্টগুলো তাদেও ভেতরের আসন ও সুবিধাগুলো ব্যবহার শুরুর অনুমোদন পেয়েছে। জাদুঘর, সিনেমা এবং শিশুদের খেলার স্থানগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। নাটকের মঞ্চ, সঙ্গীতানুষ্ঠানের মিলনায়তন, সম্মেলনস্থল এবং খেলার স্টেডিয়াম খুলে দেয়া হয়। হোটেল, হোস্টেল এবং বেড এ- ব্রেকফাস্টগুলোও খুলেছে।
সেকেণ্ডারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের স্কুলে মাস্ক পরিধান করতে হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে মুখোমুখি পাঠদান পুরোপুরি শুরু হয়েছে। বৃটেনের সবুজ তালিকায় থাকা দেশে ভ্রমণে গেলে বৃটেনে ফিরে এসে কোয়ারেনটাইন করতে হবে না।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close