নিউজ

মুনিয়া খুন: আবারো ঢাকা মাফিয়া হ‍্যাশট‍্যাগ ভাইরাল

*প্রশাসন ও মিডিয়া প্রশ্নবিদ্ধ
*অভিযুক্ত বসুন্ধরা গ্রুপ এমডি আনভীর কোথায়?
*দেশত‍্যাগে নিষেধাজ্ঞা
*হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন
*আরেক ভাইয়ের খুনের মামলা ধামাচাপা
*মুনিয়ার মৃত‍্যু নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
*মুনিয়াকে খুন করা হয়েছে অভিযোগ বোনের

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন ২৯ মে : ভালোবাসার নামে ঝরে পড়লো গোলাপের পাপড়ির মতো বেড়ে উঠা এক সুন্দরী তরুণী। ঢাকার নিকটবর্তী জেলা শহর কুমিল্লার মেয়ে মোশারাত জাহান মুনিয়া। মা-বাবা মারা গেছেন আগেই। বাবা ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ভাগ্যের সন্ধানে এসে প্রলোভনে পড়েন শিল্পপতি-ব্যবসায়ী নামধারী এক চরিত্রহীন লম্পটের। দুই বছর নিজের আয়ত্বে রেখে সর্বস্ব লুটে নেন এক মাফিয়া ডন বসুন্ধরা গ্রূপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীর। পাওনা টাকার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মৃত্যুমুখে ঠেলে দেন সম্ভাবনাময়ী এই তরুণীকে। এই মৃত্যুকে অতি উৎসাহী মহল হত্যাকান্ড বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। তবে গত দুদিনের প্রাপ্ত তথ্যমতে প্রশ্ন উঠেছে মুনিয়ার মর্মান্তিক মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত করা হোক- এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা। হত্যা অথবা আত্মহত্যা উভয় ক্ষেত্রে এমন একটি তাজা প্রাণের মৃত্যুর জন্য মাফিয়া ডন আনভীরের দায়-দায়িত্ব নিরুপন জরুরি। প্রশ্ন উঠেছে হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুলের দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার ঘটনায় সরকার ও প্রশাসন যে তৎপরতা দেখিয়েছে, এমনকি একটি বৃহৎ সংগঠনকে তছনছ করে দিয়েছে, সেখানে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় এই মর্মান্তিক ও নৃশংস মৃত্যুর ঘটনায় এক শতাংশ তৎপরতাও দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে, মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান কানাডা ভিত্তিক অনলাইন ‘ফেস দ‍্যা পিপুল উইথ সাইফুর সাগর’ মিডিয়ায় এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছেন, তার বোনকে হত‍্যা করা হয়েছে। তিনি মুনিয়ার ঝুলুন্ত যে লাশের বিবরণ দেন তাতে খুনের আলামত স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মুনিয়ার পা বিছানা স্পর্শ করেছিল, বিছানা ছিলো পরিপারিটি এবং পাশে একটি টুল রাখা ছিলো যা সোজা ছিলো।

প্রিণ্ট ভার্সন

কানাডা ভিত্তিক অনলাইন ব্রডকাস্টিং প্লাটফর্ম নাগরিক টিভি এই ঘটনায় বেশ কিছু অনুসন্ধানী তথ্য প্রকাশ করেছে। এইসব তথ্যের ভিত্তিতে এই মৃত্যুকে নিয়ে বহু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মুনিয়ার সংগে আনভীরের টেলিফোন সংলাপ থেকে একথা স্পষ্ট যে মেয়েটির অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে দিনের পর দিন তার সর্বস্ব লুটে নিয়ে শেষে ৫০ লাখ টাকা দাবী করেছে আনভীর। প্রতারণা, হুমকি, চাঁদাবাজি এবং মৃত্যু মুখে ঠেলে দিতে প্ররোচনার অভিযোগ এসব তথ্য প্রমানে স্পষ্ট হয়েছে। তবে কোনো সূত্র এই ঘটনাকে সুষ্ঠু তদন্ত করলে এমনকি হত্যার আশংকাকেও সম্ভাবনার মধ্যে রাখতে চান. ঘটনার দিন টেলি সংলাপ, দুপুরের পর আনভীরের ওই বাড়িতে গমন এবং ঘটনার মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে লাপাত্তা হয়ে যাওয়ার মধ্যে আরও বড় ধরণের সংগঠিত অপরাধের আশংকা রয়েছে বলেও ধারণা করছেন অপরাধ বিষয়ক সাংবাদিকতায় জড়িত অনেকে। তাঁরা বলছেন, সরকারের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক বসুন্ধরা গ্রূপের। গত কয়েক বছরে সরকারি আনুকূল্যে বসুন্ধরা তিনটি পত্রিকা, একটি টিভি, একটি রেডিও স্টেশন ও একটি নিউজ পোর্টালের অনুমোদন পেয়েছে। তাদের ব্যবসায়ীক ও ক্ষমতার প্রভাব এতোটাই কঠিন যে ঢাকার গণমাধ্যম এই ঘটনার অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ দূরে থাকুক, অনুসন্ধানও করতে পারবে না।

সোমবার ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় গুলশান-২ এর ১২০ নম্বর রোডের একটি ফ্ল্যাট থেকে কলেজছাত্রী মুনিয়ার ঝুলন্ত মৃতদেহ পুলিশ উদ্ধার করে। পরে রাতে মামলা করেন ওই তরুণীর বোন নুসরাত জাহান। মামলায় বসুন্ধরা গ্রূপের এমডি সায়েম সোবহানের বিরুদ্ধে ‘আত্মহত্যার প্ররোচনার’ অভিযোগ আনা হয়। 

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
পুলিশের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা হলে বিচারক শহিদুল ইসলাম তা মঞ্জুর করেন। তবে নাগরিক টিভি’র অনুসন্ধানে বলা হয়েছে মামলার অভিযুক্ত সায়েম সোবহান আনভীন ঘটনার পরপরই কার্গো বিমানে দুবাই পালিয়েছে। তার দেশছাড়ার উপর নিষেধাজ্ঞার আগে কি পরে তিনি দেশ ছেড়েছেন, সেটা এখনো নিশ্চিত নয়. তবে বুধবার হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানানো হয়েছে এবং তা’ পরদিন একটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় ১৪ নম্বর ক্রমিকে শুনানির জন্য এসেছে। ভার্চুয়াল আদালতে অভিযুক্ত কোথা থেকে অংশ নিবেন, যেখানে আগাম জামিনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে দেশে উপস্থিত বাধবাধকতা রয়েছে, সেটা এখনো নিশ্চিত নয়.
বসুন্ধরা মিডিয়া নীরব:এতো বড়ো ঘটনায় দেশ বিদেশে ও পাবলিক ডোমেইনে তীব্র সমালোচনার মাঝে বসুন্ধরা মিডিয়া অনেকটা নীরবতার মধ্যেই আছে. একমাত্র কালের কণ্ঠ পত্রিকা ‘গুলশানে ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের’ খবর দিলেও এই ঘটনার নেপথ্যে মূল আলোচনার তথ্যগুলোকে এড়িয়ে গেছে। এছাড়া বসুন্ধরা এমডি সায়েম সোবহান কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এইব্যাপারে কোনো বক্তব্য দেয়া হয়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যম আনভীরের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে। একারণেই তাকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগ জনমনে বদ্ধমূল বিষয় হিসেবে ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

মামলায় যা বলা হয়েছে:
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২১ বছর বয়সী মোসারাত জাহান মুনিয়া মিরপুর ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। তাদের বাড়ি কুমিল্লার মনোহরপুরে; বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান।

মামলার বাদী নুসরাত জাহান এজাহারে বলেছেন, দুই বছর আগে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের (৪২) সঙ্গে মুনিয়ার পরিচয় হয়। পরে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় তারা দেখা করতেন এবং মোবাইলে কথা বলতেন। এক পর্যায়ে তাদের ‘প্রেমের সম্পর্ক’ গড়ে ওঠে।

“২০১৯ সালে উক্ত আসামি আমার বোনকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে। ২০২০ এর ফেব্রুয়ারিতে আসামির পরিবার আসামি ও মুনিয়ার প্রেমের সম্পর্কের কথা জানতে পেরে… এক নারীর মাধ্যমে আসামির মা ডেকে ভয়ভীতি দেখায় এবং ঢাকা থেকে চলে যেতে বলে। তখন আসামি আমার বোনকে কৌশলে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেয়। পরে বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দেয়।

নুসরাত জাহানের অভিযোগ, গত ১ মার্চ তার এবং তার স্বামীর এনআইডি ব্যবহার করে ঢাকায় বাসা ভাড়া নিতে মুনিয়াকে প্ররোচিত করেন আসামি সায়েম সোবহান আনভীর। পরে গুলশানের ১২০ নম্বর রোডের ১৯ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া হয় এবং মুনিয়াকে ‘ফুসলিয়ে’ ঢাকায় নিয়ে আসেন আসামি।  

ওই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে আসামির সঙ্গে মুনিয়ার ‘স্বামী-স্ত্রীর মত ছবি’ তুলে বাঁধিয়ে রাখা হয়েছিল জানিয়ে বাদী এজাহারে বলেন, “আমার বোনের মাধ্যমে আমি জানতে পারি, আসামি আনভীর মুনিয়াকে বিয়ে করে দেশের বাইরে সেটেল করবে। কারণ বাংলাদেশে যদি আসামির বাবা-মা মুনিয়ার সাথে সম্পর্কের কথা জানতে পারে, তাহলে আনভীরকে কিছু করবে না, মুনিয়াকে তার বাবা-মা মেরে ফেলবে।”

মুনিয়াকে ‘বলা’ আনভীরের কথা থেকে উদ্ধৃত করে এজাহারে বলা হয়, “তোমার আর এখানে থাকা যাবে না। আমি ২৭ তারিখ দুবাই যাচ্ছি। তুমি কুমিল্লায় চলে যাও। কারণ আম্মা জানতে পারলে তোমাকে মেরে ফেলবে।” 

এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১ মার্চ থেকে মুনিয়াকে ওই ফ্ল্যাটে রেখে মাঝেমধ্যে সেখানে আসা-যাওয়া করতেন আসামি আনভীর। এর মধ্যে গত শুক্রবার মুনিয়া তার বোনকে ফোন করে বলেন, ফ্ল্যাটের মালিকের বাসায় গিয়ে ইফতার করায়, ছবি তোলায় আনভীর তাকে ‘বকা দিয়েছেন’, কারণ ফ্ল্যাট মালিকের স্ত্রী ফেইসবুকে সেই ছবি পোস্ট করেছেন এবং তার এক বান্ধবী সেই ছবি দেখেছেন। সেই বান্ধবী আনভীরের মাকে সব জানিয়ে দেবেন বলে তার আশঙ্কা।

এরপর ২৫ এপ্রিল মুনিয়া আবার ফোন করে কান্নাকাটি করে জানিয়ে তার বাদী এজাহারে লিখেছেন, আনভীর আর মুনিয়াকে ‘বিয়ে করবেন না’ বলে জানিয়েছেন।

“আমাকে (মুনিয়া) চিৎকার করে কান্না করে বলে, ‘আনভীর আমাকে ধোঁকা দিয়েছে’, তিন চারবার বলে, ‘এবং যে কোনো সময় আমার কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তোমরা তাড়াতাড়ি ঢাকায় আস।’”

এজাহারে বলা হয়, নুসরাত জাহান তার আত্মীয়দের নিয়ে সোমবার দুপুরে কুমিল্লা থেকে ঢাকার পথে রওনা হন। আসার পথে মুনিয়াকে বারবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি। গুলশানের ওই বাসায় পৌঁছে দরজায় নক করলেও কেউ খোলেনি।

ভেতরে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে নিরাপত্তারক্ষীর কক্ষ থেকে ফ্ল্যাটের ইন্টারকমে ফোন করেন মুনিয়ার বোন। পরে ফ্ল্যাটের মালিককে জানানো হলে মিস্ত্রি এনে তালা ভেঙে ঘরে ঢোকেন তারা।

নুসরাত জাহান এজাহারে লিখেছেন, তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর তিনি দেখেন, তার বোনের দেহ শোবার ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলছে। পা ‘খাটের উপর লাগানো এবং সামান্য বাঁকানো’ অবস্থায় ছিল। পরে পুলিশ এসে ওড়না কেটে মুনিয়ার মৃতদেহ নামায়। আসামির সঙ্গে মুনিয়ার ছবি, প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে লেখা মুনিয়ার ডায়েরি এবং দুটি মোবাইল ফোন পুলিশ আলামত হিসেবে নিয়ে যায়। আসামির ‘প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায়’ ২৬ এপ্রিল বেলা ১১টা থেকে বিকেল সোয়া ৪টার মধ্যে কোনো এক সময় মুনিয়া মারা যান বলে এজাহারে দাবি করেছেন তার বোন নুসরাত জাহান। 

জব্দকৃত তথ্যপ্রমাণ :
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে যে মোবাইল উদ্ধার করেছে তা থেকে সায়েম সোবহানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, ওই বাসায় যাতায়াত, মুনিয়ার সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক রক্ষা, এক পর্যায়ে সম্পর্কে ভাঙ্গন ইত্যাদির প্রমান পাওয়া যায়। ফ্ল্যাট মালিকের বাসায় ইফতার করতে যাওয়াকে কেন্দ্র করেই তাদের মধ্যে মতদৈত্বতা দেখা দেয়। একপর্যায়ে মুনিয়াকে জোরপূর্বক কুমিল্লা পাঠাতে চাপ দিতে থাকে। দীর্ঘদিন বিয়ের কথা বলে সম্পর্ক রক্ষা করে আকস্মিক মুনিয়াকে কুমিল্লায় যেতে বাঁধ করার চেষ্টা, ৫০ লক্ষ টাকা দাবি, ঘটনার দিন টেলিফোনে গালাগালি ও হুমকি প্রদর্শন এবং ঘটনার আগে ওই ফ্ল্যাটে যাওয়াকে কেন্দ্র করে আনভীরের প্রতি সন্দেহের তীর এই আশঙ্কাও তৈরি করেছে যে শেষ পর্যন্ত এটা নিছক আত্মহত্যা নাও হতে পারে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে পুলিশের সুষ্ঠু তদন্তের উপর.আরেক ভাইয়ের খুনের মামলা ধামাচাপা সায়েম সোবহানের আরেক ভাই ২০০৩ সালে একজন আইটি ইঞ্জিনিয়ারকে ধাক্কা দিয়ে ছাদ থেকে ফেলে ঠান্ডা মাথায় খুন করে. সেই খুনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাবরকে ২০ কোটি টাকা ঘুষ দেয় বলে ১/১১ সরকারের সময় তদন্তে প্রকাশ পায়. সেই মামলা কোনোদিন আলোর মুখ দেখেনি।
আবারো ঢাকা মাফিয়া হ্যাশট্যাগ ভাইরাল সর্বত্র চাঞ্চল্য স্মৃতি করেছে উচ্ছল-উজ্জল এক প্রাণবন্ত তরুণীর অকাল মৃত্যুকে ঘিরে। দাবি উঠেছে সুষ্ঠু তদন্তের। সকল প্রভাবের ঊর্ধ্বে বিচারবিভাগের গ্রহণযোগ্য তদন্তের ভিত্তিতে মুনিয়ার জন্য সুবিচার নিশ্চিত করার। এই দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে #JusticeForMunia ছড়িয়ে পড়েছে সবার মাঝে।

নাগরিক টিভি’র অনুসন্ধান  
নাগরিক টিভি তাদের অনুসন্ধানী রিপোর্টে বলছে, কিভাবে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর মুনিয়া নামের মেয়েটিকে দিনের পর দিন ব্যবহার করেছে সেগুলোর বিস্তারিত উপাখ্যান তাদের হোয়াটস্যাপ চ্যাট এর বিস্তারিত পড়লেই বোঝা যায় সম্পর্কের নামে কিভাবে প্রতারিত হয়েছিল মুনিয়া। তারা বেশকিছু স্ক্রিনশট তাদের রিপোর্টার সঙ্গে প্রকাশ করে। উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই গণমাধ্যমটি আরও দাবি করেছে, নাগরিক টিভির সত্য উন্মোচনের চাপ সইতে না পেরে সায়েম সোবহান আনভীর সরকারের মদদে অবশেষে কার্গো প্লেনে করে দুবাইতে গা ঢাকা দিলো। শেষ খবরে জানা গিয়েছে ওখানে নিজের প্রাইভেট বোটে একজন বাংলাদেশী স্বনামধন্য প্রথমসারির নায়িকার সাথে “রঙ্গলীলায়” মেতে আছেন এই ধর্ণাঢ্য শিল্পপতি! মুনিয়ার মৃত্যুর পরবর্তী মামলা দায়েরের পর থেকেই সেই ফ্ল্যাট বাড়ির থেকে জব্দকৃত সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করছে তদন্তকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তদন্তের কাজে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে নাগরিক টিভিকে জানিয়েছেন মেয়েটিকে মৃত অবস্থায় যেদিন উদ্ধার করা হয় সেদিনও আনভীর তার নিজস্ব রোলস রয়েস গাড়িতে করে মুনিয়ার বাসায় গিয়েছিলো। সিসিটিভিতে আনভীরের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। তাছাড়া মুনিয়ার সাথে সর্বশেষ সাক্ষাতের পর নিজের গাড়িতে উঠে আনভীর একটি সেলফি তুলেছিল। আনভীরের স্ত্রীর হঠাৎ দুবাই যাত্রা: নেপথ্যে নায়িকা পরীমনি? নাগরিক এক্সক্লুসিভ ওপর এক রিপোর্টে বলেছে, আনভীর দুবাই পৌঁছাবার এক দিন যেতে না যেতেই আনভীরের স্ত্রী সাবরিনাও দুবাই গেলো। খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা নামের এক নারী আনভীরের স্ত্রী সাবরিনাকে জানান তার স্বামী আনভীর দুবাইতে নিজের প্রাইভেট বোটে বাংলা চলচ্চিত্রের নায়িকা পরীমনিকে নিয়ে একান্তে সময় কাটাচ্ছে।
উল্লেখ্য, আনভীরের সাথে পরিমনির ঘনিষ্ঠতা সম্পর্কে তার স্ত্রী আগে থেকেই জানতো। তাছাড়া ফেসবুকে পরীমনি দুবাইতে একটি প্রাইভেট বোট এ নিজের কিছু ছবি আপলোড করেছেন যা দেখে আনভীরের স্ত্রীর সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়। স্বামীকে তাই নিজের নজরদারিতে রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে সাবরিনা সোবহান দুবাই পাড়ি জমালেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় গত দুই দিন এই মর্মান্তিক ইস্যুটি দেশ বিদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। রাহাত নামে ফেইসবুক থেকে জনৈক রাহাতের অভিমত তুলে ধরে প্রতিক্রিয়া কিছুটা বোঝা যাবে। রাহাত লিখেছেন—”যারা বলছিলেন যে মুনিয়ার আজকের এই পরিণতির জন্য মেয়েটির মা-বাবা দায়ী তাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি, মেয়েটির মা বাবানেই। আরো অনেক আগেই মেয়েটি তার মা-বাবাকে হারিয়েছেন। পরিবারের বাকি তার বড় ভাই ও বড় বোন তাদের বৈবাহিক সংসার নিয়েই ব্যস্ত। তাছাড়া ভাই-বোনদের মাঝে ব্যক্তিগত সম্পর্কেও কিছুটা টানাপোড়েন ছিল বলে জানা যায়। একজন ইন্টারমিডিয়েট পড়ুয়া মেয়ের মধ্যে কতটুকু ম্যাচুরিটি গ্রোথ হয় তা বুঝার জন্য পিএইচডি ডিগ্রি লাগে না। এই বয়স আপনি ও পার করে এসেছেন ভাবুন তো আপনি ঐ বয়েসে কি কি ভুল/ছেলে মানুষী করেছেন। ইন্টারমিডিয়েটের এই বয়সটাই একজন তরুণ-তরুণীর জন্য জীবনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এই বয়সে সঠিক গাইডলাইন বা পরিচর্যা না পেলে বিপথে যাওয়ার সম্ভবনাটাই বেশি। কারণ এই বয়সেই নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি তরুণ-তরুণীদের মোহ সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে অভিযুক্ত সায়েম সোবহান আনভীর একজন উচ্চ শিক্ষিত প্রাপ্ত বয়স্ক বৈবাহিক পুরুষ। তিনি সব কিছু জেনে বুঝে অর্থ-সম্পদ ও ক্ষমতার মোহে একজন ইম্যাচিউর ও #মা-বাবা’ #হীন তরুণীর জীবন নষ্ট করে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছেন। একজন মুনিয়া মারা যাওয়ায় হয়তো এই বিষয়টি আমাদের আলোচনায় এসেছে, কিন্তু সায়েম সোবহানদের মতো শিল্পপতিদের পাল্লায় পরে এরকম কত #শতশত#মুনিয়া#অর্থ-সম্পদ ও #ক্ষমতার#মোহে নিজেরদের জীবনের করুণ পরিণতি ডেকে আনছেন তার কোন হিসেব নেই।তবে মেয়েটাকে পতিতা বানিয়ে আপনার আর কি লাভ? লাভ হতে পারে সোবহান ফ্যামিলির। এসব লোম হর্ষক ও হৃদয় বিদারক ঘটনার লাগাম ঠেকাতে রাষ্ট্রীয় আইনের চেয়ে ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা অনেক বড্ড বেশি প্রয়োজন।প্রয়োজন সন্তানরা কোথায় কি করছে কার সাথে মিশছে তার খোঁজখবর নেওয়া।পারতপক্ষে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত সন্তানকে নিজ এলাকায় পরিবারের তত্বাবধাণে শিক্ষা দেওয়া।ভিক্টিম ও অভিযুক্তের একটি ফোনালাপের অডিও রেকর্ড ( নিজের স্বার্থ হাসিলের পর ঐ মেয়েকে ৫০ লাখ টাকা চুরির অপবাদ, চরিত্রহীন ও পতিতার ট্যাগ দিয়ে মানসিক নির্যাতন ও মামলার ভয় দেখিয়ে সম্পর্ক বিচ্ছেদের চেষ্টা) সহ ইতিমধ্যে যেসকল তথ্য প্রমাণ ইতিমধ্যে পাবলিকলি ওঠে এসেছে, তার প্রেক্ষিতে এটা বলাই যায়, মুনিয়ার আত্মহত্যা বা ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে থাকার ঘটনাটি একটি উপলক্ষ মাত্র, এই লাশের পিছনে পর্দার আড়ালের মূল অপরাধী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক/ তার পরিবার।পরিশেষে বলতে চাই, এটি এমনি ঘটনা যেখানে মানুষ লাশ হওয়ার মতো জঘন্য ঘটনা ঘটেছে। এর চেয়ে বড় অপরাধ আর কিছু নেই। ভিক্টিম কেমন ছিল না ছিল এসব অহেতুক বিতর্কিত টেনে এনে যারা লাশের বৈধতা দিচ্ছেন, #তাদের আর সায়েম সোবহানের মধ্যে নূন্যতম #পার্থক্য নেই, আপনারা কেবল সুযোগে অভাবে সায়েম সোবহান হয়ে ওঠতে পারেন নি। আসল গল্পে আসি, কেন মুনিয়াকে কেন লাশ হতে হলো? আমি সেটার বিচার প্রশাসনের কাছে চাই। মূল অভিযুক্ত সায়েম সোবহান আনভীরকে দ্রুত গ্রেফতার দেখতে চাই।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close