মুক্তচিন্তা

কেন লিখবো, কেন লিখবো না

সূচনা আনন্দে, সমাপ্তি প্রজ্ঞায়

মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদ

লেখক: কথা সাহিত্যিক ও যুগ্ম সচিব -বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

রবার্ট ফ্রস্ট প্রথাগত কবি ছিলেন না। ছন্দ-প্রকরণ এর অনুরাগীও ছিলেন না। লিখতেন আনন্দে, কথ্যরীতির ব্যবহারে।বলতে বলতে কখন যে প্রজ্ঞাবান হয়ে যেতেন— পাঠক নিজেও বুঝে উঠতে ব্যর্থ হতেন। কিন্তু একটা মোহনীয় ভালোলাগার শিহরণে আবিষ্ট হত হৃদয়। এটাই কবির সাফল্য। এজন্যই টিএস এলিয়ট বলেছিলেন–A genuine poetry communicates before it is understood.

পড়া যখন লেখার পথে বাঁধা:
“Don’t write at first for anyone but yourself”-T.S.Eliot
একজন লেখক মূলতঃ একজন পাঠক।তিনি তাঁর নিজের লেখার প্রথম পাঠক।তিনি লিখবেন নিজের আনন্দের জন্য। নিজের বেদনা নিয়ে।ভালোবাসা বা ভালোলাগা নিয়ে; যা তাঁর একান্ত স্বকীয় কিংবা নিজস্ব ।কবির আনন্দ বা বেদনা ছড়িয়ে দেন সবখানে।কবি বলতেই পারেন: তুমি যে সুরের আগুন জ্বালিয়ে দিলে মোর প্রাণে সে আগুন ছড়িয়ে দিলেম সবখানে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমসাময়িক ইংরেজি সাহিত্যের রোমান্টিক কবিকূলের পূরোধা কবি Wordsworth যখন বলেন- My heart leaps up When I behold a rainbow in the sky… তখন তাঁর পাঠকও তাঁর লেখা পড়ে আনন্দে আপ্লুত হন।তাই লেখককে প্রথমত এবং মুখ্যত সন্তুষ্ট হতে হবে তাঁর লেখা নিয়ে।
লেখক যে শুধু নিজের আনন্দের তরে লিখবেন, সেটুকুই মাত্র নয়।লেখকের উদ্দেশ্য হবে-লেখার মধ্য দিয়ে অন্যকে আনন্দ দেয়া।একজন প্রখ্যাত লেখক বলেছিলেন, The first Line of the doctor’s Hippocratic oath is , “First, do no harm”. And I think for the writers it would be,”First,entertain.” এতো কথা বলা হলো বই মেলায় অসংখ্য লেখা প্রকাশের মহোৎসব দেখে।

লেখার আগে লিখতে শেখা :
প্রসঙ্গত: আমার বন্ধু তালিকায় থাকা দুইজন বোদ্ধা পাঠকের দেয়াল হতে সংগৃহীত দু’টি পোস্ট হতে উদ্ধৃত করছি: “বই লিখেছেন ভালো কথা, সে বই কেনার জন্য ইনবক্স আর এসএমএসের মাধ্যমে ‘কপি সংগ্রহের’ যে কথা বলছেন তা কতটা শোভন সেটা কি একবার ভেবে দেখেছেন?
নিজের ওয়ালে অটোগ্রাফ দিতে দিতে আপনার হাত ব্যাথা হয়ে যাচ্ছে এমন ছবি হাজারটা পোস্ট করুন কোন আপত্তি নাই, শুধু এদিকটায় অহেতুক টোকাটুকি না করলেই খুশি থাকবো।
মনে রাখবেন আমরা এখনো আবুল হাসানদের কবিতার বই হন্যে হয়ে খুজে কিনে পড়ি।
ওই রকম কিছু করুন, এসব কিছু লাগবেনা।”
আরেকজন বোদ্ধা পড়ুয়া লিখেছেন: “জনপ্রিয় আর জনপরিচিত দুটো দুই বিষয়। জনপ্রিয় হলেই ন্যূনতম সাহিত্যজ্ঞান ছাড়া বই লিখে ফেলা উচিত নয়, আর জনপরিচিত হলেতো প্রশ্নই আসেনা।
বাংলাদেশ এমন একটা দেশ … এখানে সবাই নিজেকে হূমায়ুন আহমেদ এর চেয়ে বড় রাইটার হতে পারতো বলে মনে করে।বিষয়টা খুবই উপভোগ্য।”

লেখককে নিয়ে এমন বিরক্তি অনেকের মাঝেই লক্ষ্য করি আজকাল। পাঠকের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে লিখতে হলে প্রথমেই লেখকের বুঝতে হবে নিজের যোগ্যতার বিষয়টি। একটি বৃত্তান্ত বলি, খলিফা হারুন অর রশীদ এর রাজ্যের এক প্রান্তে একবার বৃষ্টি হলো। সচরাচর সেখানে বৃষ্টি হত না।এক প্রজা বেজায় খুশী হয়ে ভিস্তি পূর্ণ করে ঐ পানি নিয়ে গেলেন খলিফার দরবারে। আর উপহার দিলেন খলিফাকে ।খলিফা আনন্দিত চিত্তে গ্রহন করলেন ভিস্তিপূর্ণ বৃষ্টির পানি। সহস্র মূদ্রা এনাম দিলেন।রাজদরবারে উপস্থিত মন্ত্রী, উজির,নাজির সকলে বিস্ময়ে হতবাক। দজলা-ফোরাতের পানির তুলনায় এ পানি তো কিছুই না। খলিফা ততক্ষণে তার সিপাহিদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন ঐ প্রজা দজলা-ফোরাতের তীরে না যেতে পারে। দজলার তীরে গেলে প্রজা বুঝে যাবে তার বহনকৃত পানি আসলে কিছুই নয়।তখন প্রজা তার নির্বুদ্ধিতায় লজ্জিত হবে। বৃত্তান্তটির মূল বক্তব্য হতে পারে এই যে, আপনি যখন অতি উতকৃষ্ট কিছুর সন্ধান লাভ করেন, তখন সমজাতীয় নিকৃষ্ট বিষয় নিয়ে মেতে থাকলে আপনি নিজেই লজ্জিত হবেন। বই পড়া ও লেখার ক্ষেত্রেও এ ধারণাটি বুঝি যথাযথ। বৃত্তান্তটা এজন্য বলা যে, পাঠক হিসেবে একটু পরিণত হওয়ার পর একজন লেখক নিজের থেকেই বুঝতে পারবেন নিজের সীমাবদ্ধতা । নিকৃষ্ট লেখক হওয়ার চেয়ে উত্কৃষ্ট পাঠক হওয়া সহজ ও আনন্দের । নিজের আনন্দের জন্য ও অন্যের কল্যাণের জন্য।সচেতনভাবেই বলছি অন্যের কল্যাণ এর কথা।কারণ বর্তমান সময়ে পাঠযোগ্য বই এর তুলনায় অপাঠ্য ট্র্যাশ প্রকাশিত হয় ঢের বেশি।
জন মিল্টন অ্যারিওপ্যাজিটিকায় অবাধ প্রকাশনার পক্ষে যে সকল অকাট্য যুক্তি উপস্হাপন করেছিলেন, প্রেক্ষাপট এবং প্রযুক্তির উত্কর্ষতার ফলে সে সকল যুক্তির প্রতিযুক্তিগুলোই হয়তো এখন অধিকতর প্রযোজ্য।এখন অসংখ্য লেখার ভীরে আপনি হয়তো ভালো লেখাটাই খুঁজে পাচ্ছেন না।অথবা খুঁজে পেতে অহেতুক ঘেটে ফেলছেন অনেক অপাঠ্য ।এগুলো আপনার সময়ের উপর বাড়তি চাপ দিচ্ছে।

গদ্য ও পদ্যের দ্বন্দ্ব: প্রসঙ্গ বইমেলা
কমবেশি হাজার পাঁচেক বই প্রকাশিত হয় আমাদের বইমেলায় । এর বেশির ভাগই কবিতা-ছড়ার বই।এর মাঝে প্রেমের কবিতার বই হয়তো বেশি। কবিতা লিখতে যে ছন্দ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক তা হয়তো অনেকে না জেনেই বই প্রকাশ করে ফেলছেন।ছন্দের জ্ঞান যে থাকতেই হবে এমত নয়। তবুও সুখপাঠ্য তো হওয়া চাই। ফ্রস্টের লেখার মতো। কবিতা লেখা কঠিন কাজ, যদি সেটাকে প্রকৃত কবিতা বলতে চাই। এ যেমন ধরুন:
তার চেয়ে বরং দূরেই থেকো
যেমন দূরে থাকে ছোঁয়া, থেকে স্পর্শ
রোদ্দুরের বুক, থেকে উত্তাপ
শীতলতা, থেকে উষ্ণতা
প্রেমের, খুব গভীর ম্যাপে যেমন লুকিয়ে থাকে ভালোবাসা
তেমন দূরেত্বেই থেকে যেও— এক ইঞ্চিতেও কভু বলতে পারবে না কেউ
কতটা কাছা কাছি এসেছিলে বলে দূরত্বের পরিমাপ দিতে পারেনি পৃথিবী।

সম্ভবত ৮৬-৮৭ সনের দিকে পশ্চিম বঙ্গের শিশির কুমার দাশ নামের এক লেখকের লেখায় গদ্য ও পদ্যের দ্বন্দ্ব বিষয়ে একটি বই লিখেছিলেন যা পড়ে কবিতা সম্পর্কে এক সমীহ এসেছিলো মনে।তখন কিন্তু মনে হয়েছে একজন কবিকে বিন্দু মাঝে সিন্ধুকে ধারণ করতে হয়।সমারসেট মম ,যিনি নিজেও একজন গদ্যলেখক, বলেছিলেনঃ The crown of literature is poetry.It is its end aim.It is the sublimest activity of human mind.It is the achievement of beauty and delicacy.The writer of prose step aside when the poet passes. শেষ লাইনটা লক্ষ্য করুনঃ একজন কবি যখন যাবেন তখন একজন গদ্যকার পথ ছেড়ে দাঁড়াবেন। কী ভয়ংকর কথা!তবে এ ধারণাটা আমার মনেও দীর্ঘকাল বিরাজমান ছিলো।
জীবনানন্দ দাশ বলেছিলেন— সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি। তিনি আর একটি কথা বলেছিলেন— ভীরের হৃদয় পরিবর্তিত হওয়া দরকার। দুটোকে এক করলে দাড়ায় লেখক ও পাঠক -উভয়কেই শিক্ষিত হতে হবে। এ শিক্ষা ক্লাশ পাশের শিক্ষা নয় ।রবীন্দ্রনাথ নিজের থেকেই কিন্তু গদ্য কবিতা লেখার পরীক্ষা দিয়েছিলেন। একথা সত্য যে, আপনি চাইলেই কবি হতে পারেন না। কিংবা পারেন না গদ্যকার হতেও। নিজের ও পাঠকের ভালোলাগার লেখা লিখতে গিয়ে লেখার গতিপথ পরিবর্তিতও হতে পারে।যেমন, কবি শামসুর রাহমান শুরু করেছিলেন একজন গদ্যলেখক হিসেবে, কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি হয়ে উঠলেন বাংলাদেশের প্রধানতম আধুনিক কবি।আবার হুমায়ূন আহমেদের লেখক জীবনের হাতেখডি হয়েছিলো কবিতা দিয়ে, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি কবিতার ভুতটাকেই মাথা হতে তাড়িয়ে দিলেন। কবিতার ভুত তাঁর মাথা থেকে কীভাবে ছাড়ল সেটা পাওয়া যায় তাঁর আত্মকথন বলপয়েন্ট এ। হুমায়ূন আহমেদ এর গল্পঃ আমার কাব্যরোগ পুরোপুরি কীভাবে সারল সেই গল্প বলি। আমার কাব্য রোগের প্রধান ও একমাত্র চিকিৎসকের নাম হুমায়ূন কবির (কুসুমিত ইস্পাতের কবি, দেশ স্বাধীন হবার পর আততায়ীর হাতে নিহত)। আমি তাঁর কাছে তিনটি টাটকা কবিতা নিয়ে গেছি। টাটকা কারণ, গত রাতেই লেখা। চব্বিশ ঘন্টা পার হয় নি। বাসি হবার সময় পায় নি। কবিতা বাসি হতে বাহাত্তর ঘন্টা লাগে। অধ্যাপক হুমায়ূন কবির বললেন, কী চাই? আমি অতি বিনয়ের সঙ্গে বললাম, তিনটা কবিতা নিয়ে এসেছি। তাঁর কাছে কবিতা নিয়ে যাবার কারণ, তখন বাংলা একাডেমী ঠিক করেছে গল্প, প্রবন্ধ এবং কবিতার তিনটি আলাদা সংকলন বের করবে ।সংকলনগুলিতে প্রধান লেখকদের লেখা যেমন থাকবে, অপ্রধানদেরও থাকবে । অধ্যাপক হুমায়ূন কবির কবিতা সংকলনটির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কৃপায় যদি বাংলা একাডেমী সংকলনে স্থান পাওয়া যায়। হুমায়ূন কবির বললেন, আপনার কবিতা কি কোথাও ছাপা হয়েছে? আমি বললাম, জি-না । ছন্দ সম্পর্কে কোনো জ্ঞান আছে? জি-না। অন্যের কবিতা পড়েন? জি-না। তিনবার জি-না শোনার পর তিনি ছোট্ট একটা বক্তৃতা দিলেন। বক্তৃতা শুনে মনে খুব কষ্ট পেলেও তাঁর প্রতিটি কথাই ছিল সত্যি । অবশ্যই কবিতা কোনো সস্তা বাজারি বিষয় নয়। কবিতা লিখতে যে মেধা ও মনন লাগে, তার জন্ম এই ভুবনে না। কবিতার ছন্দ শিখতেই লাগে দশ বছর। তাহলে, বুঝ হে সুজন! আনন্দের মধ্যদিয়ে দর্শনে নিয়ে যাওয়া দুরূহ কাজ কিনা। কোন একটি লেখা লেখকের আনন্দ দিয়ে শুরু হলেও মহৎ সৃষ্টির কিন্তু পরিসমাপ্তি ঘটবে একটি দার্শনিক শিক্ষা দিয়ে। রবার্ট ফ্রস্ট লিখেছিলেন— “A poem begins in delight but ends in wisdom.” অর্থাৎ সূচনা আনন্দে সমাপ্তি প্রজ্ঞায়। ব্যাখ্যা হতে পারে নানান কথায়। তবে আনন্দের উৎসভূমি লেখকের নিজস্ব মনোভুমি। আবার দুঃখের কথা যদি বলি, কবি শামসুর রাহমানের কথায়— কবিকে দিও না দুঃখ দিলে সে-ও জলে স্থলে হাওয়ায় হাওয়ায় নীলিমায় গেঁথে দেবে দুঃখের অক্ষর…।

ফ্লবেয়ার, মাদাম বোভারি ও লেখকের দায়:
না, শুধু কবিতা নয়।আপনি যাই লিখুন না কেন তা যেন পাঠককে সম্মান জানায়। পাঁচ বছর।একটি উপন্যাস লিখতে সময় নিয়েছিলেন ফ্লবেয়ার।উপন্যাসটির নাম-মাদাম বোভারি।এটি তাঁর ডেব্যু উপন্যাস এবং প্রকরণগত দিক থেকে বিশ্ব সাহিত্যের নিখুঁততম ফিকশন।এ উপন্যাসের কোন কোন অংশ লিখেছিলেন অসংখ্যবার, নিজের মনপুত না হওয়া পর্যন্ত।উপন্যাস হলেও এটি হয়ে উঠেছিলো কাব্য।এর উৎকর্ষ বিচারে ভ্লাদিমির নবোকভ বলেছিলেন,”stylistically it is prose doing what poetry is supposed to do”. হাস্যরস, ছড়া কিংবা মননশীল বই মায় ভ্রমণকাহিনী সব ধরণের বই এরই পাঠক রয়েছে কিন্তু। খুশবন্ত সিং যেমন Delhi, A Train to Pakistan, I shall not hear the Nightingales লিখেছেন, লিখেছেন ছোট গল্প; তেমনভাবেই সংকলন করেছেন The Big Fat Jokes. আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কী লিখেন নি?

মিল্টনের অ্যারিওপ্যাজিটিকা ও প্রকাশকের দায়:
১৬৪৪ খ্রিস্টিয় সনে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট বই প্রকাশের আগে লাইসেন্স গ্রহনের বিধান প্রবর্তন করে।ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম সেরা কবি জন মিল্টন ছিলেন স্বাধীন লেখার সবচেয়ে বড় সমর্থক।লেখা প্রকাশের অধিকার ও লেখকের স্বাধীনতার সপক্ষে তিনি লিখেছিলেন এক অনবদ্য ভাষণ, যা তিনি পার্লামেন্টে পড়েও শুনিয়েছিলেন।মিল্টনের এ বক্তৃতাটি মিল্টনের অন্যান্য লেখার মতোই মহাকাব্যিক।এর মূল সুরটি ছিল— মতের, বিবেকের বা লেখার স্বাধীন প্রকাশ বা unlicensed printing right of a book. স্বাধীনভাবে লেখা প্রকাশের স্বপক্ষে এ যাবত পৃথিবীতে যত নিবন্ধ ছাপা হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, সর্বাপেক্ষা কালজয়ী এবং বিদগ্ধতম লেখাটিতে মিল্টন লিখেছিলেন:

  • “Give me the liberty to know, to utter, and to argue freely according to conscience, above all liberties.” …
  • “A good book is the precious life-blood of a master spirit, embalmed and treasured up on purpose to a life beyond life.”

এ দুটি উদ্ধৃতিকে পাশাপাশি উপস্থাপনের কারণ বইমেলায় গিয়ে সবচেয়ে বড় যে বিড়ম্বনায় পড়েছি সেটি হচ্ছে বই পছন্দ করা।প্রতিষ্ঠিত লেখকের বই তো কিনবই, কিন্তু নবীন যারা লিখছেন ভালো, তারা যদি ভীরে হারিয়ে যান, তাঁদের বই কিনবো কী করে? এখানে প্রকাশকদের দায়িত্ব রয়েছে। বইটি প্রকাশের আগে এর গুণগত মান তো অবশ্যই বিবেচ্য।

পক্ষে বলার যুক্তি:
মেলায় তো নানান রুচির মানুষেরা আসবেন; তাঁদের সকলের দিকটা তো দেখতে হবে।অবশ্যই হবে।কিন্তু তাই বলে ভুল বানানে, অশুদ্ধ বাক্য গঠনে, বিষয়বস্তুহীন রামগডুরের ছানা প্রকাশও যৌক্তিক নয়।এর ফলে ক্রেতা বিভ্রান্ত হতে পারেন এবং এতে গ্রেশামের মুদ্রাতত্ত্বের লক্ষণ প্রকাশিত হবে-Bad books drive the good books out. মিল্টনের Aereopagitica হতে আবারও উদ্ধৃত করছিঃAsssuredly we bring not innocence into the world, we bring impurity much rather: that which purifies us is trial, and trial is by what is contrary… They are not skillful considerers of human things who imagine to remove sin by removing the matter of sin. For … it is a huge heap increasing under the very act of diminishing…. Good and evil we know in the field of this world grow up together almost inseparably… It was from out of the rind of one apple tasted, that the knowledge of good and evil, as two twins cleaving together, leaped forth into this world. And perhaps this is that doom which Adam fell into of knowing good and evil, that is, of knowing good by evil.” ― John Milton, Areopagitica বলা যেতে পারে এত বই প্রকাশের ভীরে এ ট্রায়ালের দায়িত্বটা প্রকাশককেই নিতে হবে।

পাঠকের বিবেচনাই চূড়ান্ত :
এতো বইয়ের মাঝে ভালো বই বাঁছাই করা আসলেই কষ্টকর । পৃথিবীতে যখন পাঁচ দশটা বই ছিলো তখন হয়তো সবগুলোই পড়ে শেষ করা যেতো।বর্তমান বিশ্বে কাজটা অসম্ভব । সে কারনেই পাঠককেই ঠিক করতে হবে -কী পড়বেন আর কী কিনবেন।এ ক্ষেত্র ফ্রান্সিস বেকনকে স্মরণ করা যেতে পারে- Some books are to be tasted, others to be swallowed, and some few to be chewed and digested.

সম্পরকিত প্রবন্ধ

এছাড়াও চেক করুন
Close
Back to top button
Close
Close