নিউজ

সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেনের পিতা, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা জাহিদুল হকের ইন্তেকাল: বিভিন্ন মহলের শোক

লণ্ডন, ১১ এপ্রিল : বিবিসি বাংলায় কর্মরত সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেনের পিতা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় সংগঠক এবং চট্টগ্রামের ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের অন্যতম নেতা, চট্টগ্রাম বিদ্যুৎশ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি জাহিদুল হক ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাহি রাজিউন। গত ১লা এপ্রিল বৃহস্পতিবার অপরাহ্নে তিনি চট্টগ্রামের এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হওয়ার পর গত দুই সপ্তাহ ধরে তিনি চট্টগ্রামের ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি একই সঙ্গে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। ওইদিন, বৃহস্পতিবার রাতেই তাঁকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলি উপজেলার দৌলতপুরের কাজী বাড়ীর পারিবারিক গোরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে।

বর্ণাঢ্য জীবন:
জাহিদুল হক ছিলেন আজীবন চট্টগ্রামে ধর্মনিরপেক্ষ এবং প্রগতিশীল রাজনীতির একজন সামনের কাতারের সৈনিক। ষাটের দশকে চট্টগ্রামে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন সংগঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত জহুর আহমেদ চৌধুরী (স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শ্রমমন্ত্রী) এবং তিনি মিলে গড়ে তোলেন চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ শ্রমিক ইউনিয়ন। জহুর আহমেদ চৌধুরী ইউনিয়নের সভাপতি এবং জাহিদুল হক এর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী এবং মৌলভী সৈয়দের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তার অভিযোগে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী তাকে চট্টগ্রামের মনসুরাবাদে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দফতর থেকে ধরে সেনানিবাসে নিয়ে আটকে রাখে। পরে এক পাঞ্জাবী সহকর্মীর সহায়তায় তিনি মুক্তি পান।
সত্তর এবং আশির দশক জুড়ে তিনি পর পর বহু মেয়াদে চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। এসময় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মীদের অধিকার এবং স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক শাসনামলে চট্টগ্রামে এর বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ শুরু হয়, তার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯৭৭ সালে “চট্টগ্রাম ষড়যন্ত্র মামলায়” তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগের পক্ষে তথ্য প্রমাণ হাজির করতে ব্যর্থ হলে এই মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পান। একই অভিযোগে আটক হওয়া মৌলভী সৈয়দ নিরাপত্তা গোয়েন্দা বাহিনীর নির্যাতনে নিহত হন।
সক্রিয় কর্মজীবন থেকে অবসর নেয়ার পর থেকে তিনি একেবারেই নিভৃত জীবন-যাপন করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন অমায়িক, সজ্জন এবং পরোপকারী ব্যক্তি হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক কন্যা, তিন পুত্রসহ বহু আত্মীয়-স্বজন গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার একমাত্র কন্যা মর্জিনা আক্তার একজন গৃহিনী, জ্যৈষ্ঠ পুত্র আমজাদ হোসেন একজন সাবেক ব্যাংকার এবং ব্যবসায়ী, লণ্ডনবাসী মেঝো পুত্র মোয়াজ্জেম হোসেন বিবিসি বাংলার সাংবাদিক এবং কনিষ্ঠ পুত্র কামাল হোসেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটি হাউজিং অথরিটির কর্মকর্তা।

লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের শোক:
লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেনের পিতার মৃত্যুত ক্লাবের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়েছে।
এক শোক বিবৃতিতে ক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জুবায়ের ও কোষাধ্যক্ষ আ স ম মাসুম বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় সংগঠক এবং আজীবন শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ে সংগ্রামী এই কৃতী পুরুষের মৃত্যুত দেশ এবং জাতি একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমী এবং মানবপ্রেমীক হারালো। তাঁর ধর্মনিরপেক্ষ এবং প্রগতিশীল রাজনীতির বর্ণাঢ্য সংগ্রামী জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, সারাটা জীবনই তিনি উৎসর্গ করেছিলেন দেশ এবং মানুষের কল্যাণে। আর দেশমাতৃকার প্রতি অঙ্গীকার রক্ষায় নানা আন্দোলন ও প্রতিরোধে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিতেও পিছপা হননি। তাঁর কর্ম, নিষ্ঠা এবং ন্যায়পরায়ণতা দেশ এবং সমাজের জন্য যুগ যুগ ধরে অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। নেতৃবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

সুরমা পরিবারের শোক:
বিবিসি বাংলায় কর্মরত সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেনের পিতা, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় সংগঠক, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা জনাব জাহিদুল হকের ইন্তেকালে সাপ্তাহিক সুরমা পরিবারের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। সুরমার প্রধান সম্পাদক ফরীদ আহমদ রেজা, সম্পাদক শামসুল আলম লিটন, সাবেক সম্পাদক আহমদ ময়েজ এবং বার্তা সম্পাদক আবদুল কাইয়ূম শোক প্রকাশ করে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

সাপ্তাহিক পত্রিকার শোক:
সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল আহমদ সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেনের পিতার মৃত্যুতে পত্রিকা পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় সংগঠক জনাব জাহিদুল হকের প্রয়াণ আমাদের জন্য বিরাট ক্ষতি। তাঁর মতো সমাজহিতৈষী ও কল্যাণকামী ব্যক্তি বর্তমান সমাজে বিরল। এই শূণ্যতা মরহুমের পরিবারের জন্যই শুধু নয় বৃহত্তর সমাজের জন্যও সহজে পূরণ হবার নয়। তবে তাঁর রেখে যাওয়া মূল্যবোধ, আদর্শ, কর্ম এবং বর্ণাঢ্য জীবন সব সময় আমাদের প্রেরণা যোগাবে।
পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মরহুমের বিদেহী রূহের মাগফেরাত কামনা করে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close