নিউজ

টাওয়ার হ্যামলেটসে মেয়র প্রশ্নে লড়াই তুঙ্গে

*৬ মে বৃটেনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন
*লণ্ডন মেয়র: জরিপে সাদিক খান এগিয়ে
*পোস্টাল ভোটে ভাগ্য নির্ধারণের সম্ভাবনা
*প্রচারণায় প্রধান ভরসা স্যোশাল মিডিয়া
*স্যোশাল ডিস্টেন্সিং বহাল থাকবে
*ফলাফল প্রকাশে সময় লাগবে বেশী

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ৯ এপ্রিল : আগামী ৬ মে বৃটেনের লোকাল গভর্ণমেন্ট বা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এক মাসেরও কম সময় বাকী এবং করোনার মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকারের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন। ল-ন মেয়র নির্বাচনসহ অধিকাংশ বারার জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হবেন ওইদিন। প্রায় ৫০ মিলিয়ন লোক ভোট দানে সক্ষম হতে পারেন এবং বিভিন্ন কাউন্সিলেম ৫ হাজারেরও বেশী প্রার্থী বিভিন্ন পজিশনের জন্য লড়বেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ওইদিন স্কটল্যাণ্ড এবং ওয়েলসের জনগণ তাদের পার্লামেন্ট মেম্বার (এমপি) নির্বাচিত করবেন। ভোটাদের অবস্থানের উপর নির্ভর করবে তাকে কিসের ভোট দেবেন। কোনো কোনো বারায় ডাইরেক্টলি মেয়র ও কাউন্সিলারদের জন্য ভোট অনুষ্ঠিত হবে। কোথাও মেয়র, কাউন্সিলারদের পাশাপাশি পুলিশ এণ্ড ক্রাইম কমিশনার্স নির্বাচনের জন্যও ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাচনও হবে আগামী বছর ২০২২-এ। এই নির্বাচনে ভোটাররা লণ্ডন মেয়র, লণ্ডন এসেম্বলী মেম্বার এবং কীভাবে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল চলবে সেই প্রশ্নে অনুষ্ঠিতব্য রেফারেণ্ডামের (ইয়েস/নো) ভোটসহ মোট তিনটি ভোট প্রদান করতে হবে। মূলতঃ রেফাণ্ডামকে ঘিরেই বারার নির্বাচনী আমেজ সরগরম। আর এবারকার রেফারেণ্ডামেই ঠিক হবে নির্বাচনে মেয়রাল সিস্টেম বা নির্বাহী মেয়র ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে নাকি লিডারশিপ ব্যবস্থা ফিরে আসবে। মেয়রাল সিস্টেম চাইলে ‘ইয়েস’ আর লিডারশীপ সিস্টেম চাইলে ‘নো’ ভোটের জায়গা চিহ্নিত করতে হবে ভোটারদের। আর কারণে বলা যায় ‘ইয়েস/নো’ নিয়ে লড়াই তুঙ্গে। টাওয়ার হ্যামলেটসে এটাই ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বেশী আলোচ্য বিষয়। তাই করোনা পরিস্থিতিতেও এব্যাপারে প্রচারণার কমতি নেই। তবে ডোর টু ডোর কড়া নেড়ে সরাসরি প্রচারণা না করলেও চলছে লিফলেট বিতরণ। স্যোশাল মিডিয়ায় সবচেয়ে বেশী প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসমূহে বিভিন্ন ভিডিওবার্তা আপলোড করে স্ব স্ব অবস্থানের পক্ষে যুক্তি ও প্রতিশ্রুতি প্রচারের মাধ্যমে ভোটারদের মনযোগ আকর্ষণের জোর চেষ্টা চলছে। ব্যক্তিগতভাবে ফোনকল ও টেক্সট ম্যাসেজের মাধ্যমেও ভোটারদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন উভয় গ্রুপের ক্যাম্পেইনাররা। এছাড়া টিভি ও অনলাইন মাধ্যমে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন টকশোতে স্ব স্ব পক্ষে যুক্তি তুলছেন উভয় গ্রুপের আলোচকরা। সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, টাওয়ার হ্যামলেটসে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মূল আলোচনা রেফারেণ্ডামকে ঘিরে।

এ সপ্তাহের সুরমা প্রিণ্ট কপি

ইয়েস তথা মেয়রাল সিস্টেমের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে কমিউনিটি কোয়ালিশন নামের একটি গ্রুপ। তাদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মাঠে নেমেছেন সরাসরি জনরায়ে নির্বাচিত টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রথম নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান। সাবেক এই মেয়র ইতোমধ্যে মেয়রাল সিস্টেমের পক্ষে বারার জনগণের কাছে খোলা চিঠিতে এই সিস্টের সুবিধা তুলে ধরেছেন। আর নো অর্থাৎ লিডারশীপের পক্ষে প্রচারণায় বর্তমানে কাউন্সিলের নেতৃত্বদানকারী লেবার পার্টি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে টাওয়ার হ্যামলেটসে লিডারশীপ ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়ে রেফারেণ্ডাম অনুষ্ঠিত হয়। ওই ভোটের ফলেই এ বারায় নির্বাহী মেয়র পদ্ধতির প্রচলন হয়। তখন মেয়র সিস্টেমের পক্ষে রায় দেন বারার বিপুলসংখ্যক মানুষ। একটি রেফারেণ্ডামের পর আরেক রেফারেণ্ডাম আয়োজন করতে গেলে ১০ বছর অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু ১০ বছর পার হতেই আবারও কেন লিডারশিপ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবীতে রেফারেণ্ডাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে — তা এক বিরাট কৌতুহলের সৃষ্টি করেছে।

এদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান আকর্ষণ লণ্ডন মেয়র নির্বাচন। এই নির্বাচনে ছোট বড় বিভিন্ন দল এবং স্বতন্ত্র মিলিয়ে ২০ জন প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। তবে প্রধান দুই দল লেবার ও কনজারভেটিভ পার্টির দুই প্রার্থীই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। লেবারের প্রার্থী বর্তমান মেয়র সাদিক খান এবং সরকারী দল কনজারভেটিভ পার্টির সোয়ান বেইলি। এরই মধ্যে লেবার প্রার্থী সাদিক খানের দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন জরীপের ফলাফলই এর প্রমাণ দিচ্ছে। সম্প্রতি এক পোল জরীপে সাদেক খান সম্ভাব্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সোয়ান বেইলি থেকে ৪৭ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি মাইল এণ্ড ইন্সটিটিউশনের জন্য ইউগভ পরিচালিত জরীপে এই পরিসংখ্যান ওঠে আসে। জরীপে ২৬ শতাংশ লোক কনজারভেটিভ প্রার্থী সোয়ান বেইলিকে সমর্থন করেন। আর বিএএমই কমিউনিটির ৬৩ শতাংশের সমর্থন করেন সাদিক খানকে। এক্ষেত্রে মাত্র ১৫ শতাংশ কনজারভোটিভ ইয়ূথ ওয়ার্কারদের সমর্থন সোয়ান বেইলির প্রতি।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রার্থীরা হলেন — গ্রীন পার্টির সিয়ান বেরী, লিবডেমের লুইজা পরিট, ইউকিপের ড. পিটার গ্যামন্স, রিক্লেইম পার্টির লরেন্স ফক্স এবং উইমেন্স ইক্যুয়ালিটি থেকে মাণ্ডুরীড। এছাড়াও সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিনের ভাই পিয়ার্স করবিনসহ স্বতন্ত্র হিসেবে আরো কয়েকজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

করোনার কারণে ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি কম সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া মুসলমান অধ্যুষিত এলাকাসমূহে রমজান মাসের কারণে অনেক ভোটার ভোটকেন্দ্রে যেতে আগ্রহী নাও হতে পারেন। এক্ষেত্রে পোস্টাল ভোটই বেছে নেবেন অনেকে। আর তাই নির্বাচনী ফলাফলে পোস্টাল ভোটই হতে পারে প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারক। আর পোস্টাল ভোট রেজিস্ট্রেশন করার ডেডলাইন ১৯ এপ্রিল বিকাল ৫টার মধ্যে। করেনার কারণে ভোট প্রদানের সময় স্যোশাল ডিস্টেন্সিং মেনে চলতে হবে ভোটারদের। এক্ষেত্রে ভোটারদেরকে নিজেদের কলম বা পেন্সিলও সাথে নিয়ে যেতে উৎসাহিত করা হতে পারে।

এছাড়া, এবার ফলাফল প্রকাশেও বিলম্ব হতে পারে। কারণ ভোট গণনাসহ সব কার্যক্রম সমাপ্ত করতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এবার সময় বেশী লাগার কারণেই এই বিলম্বের সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close