সম্পাদকীয়

বঙ্গবন্ধু’র বাংলাদেশ গণতন্ত্র-বাকস্বাধীনতা নির্বাসনে, সবকিছু “চাটার দলের” দখলে

সম্পাদকীয় ।। ইসু‍্য ২১৯৪
১৭ জানুয়ারটি, ২০২১।  বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। ১০১তম জন্মবার্ষিকীতে এই মহান নেতার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলী। একটি জাতির মুক্তির জন্য তিনি তাঁর জীবনের সোনালী সময় উৎসর্গ করেছেন। বিনিময়ে উপহার দিয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র জাতি রাষ্ট্র বাংলাদেশ। এই জাতির মুক্তি সংগ্রামে অসম সাহসী জাতীয়তাবাদী নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম প্রধান। তাঁর আত্মত্যাগ আর আদর্শ থেকে শিক্ষা নিতে হলে দেবত্ব আর দাসত্বের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে । জাতির মুক্তি আন্দোলনের নেতা হিসেবে তিনি যতোটা সফল, রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ততোটাই অসফল। একটি দুর্ভিক্ষ, ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা-রাজনৈতিক নেতা কর্মীর নৃশংস হত্যা, গণতন্ত্রও বাকস্বাধীনতা হরণে তাঁর ব্যক্তিগত ও দলীয় দায় কতখানি তার   নৈর্ব্যক্তিক মূল্যায়ন ইতিহাস করছে ও করবে। কারণ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের পরপরই  গণতন্ত্র-বাকস্বাধীনতা যে নির্বাসনে গিয়েছিলো, তা আজও হুমকির কবলমুক্ত হতে পারেনি। আর দুর্নীতি-অনাচার তো সর্বগ্রাসি। বঙ্গবন্ধুর ভাষায় ‘চাটার দল’ এখনো সব লুটেপুটে খাচ্ছে। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, এখনো এই জাতীয় নেতার নাম ও আদর্শের কথা বলেই জনগণের সকল মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে। আর তাই বঙ্গবন্ধুকে তাঁর প্রাপ্য জাতির সম্মিলিত সম্মাননা থেকে বঞ্চিত করছে চলমান দুঃশাসন। এইসব পর্যালোচনা এই মহান জাতীয় নেতার অবদানকে খাটো করার জন্য নয় । বরং তাঁকে আত্মঘাতী বাঙালীর নষ্ট ইতিহাস বর্ণনার আবর্জনা থেকে জ্ঞানের জগতে শুদ্ধভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে। বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্যই বঙ্গবন্ধু ও সকল জাতীয় নেতার সঠিক মর্যাদা ও সম্মাননা অপরিহার্য।

বিলাতে নারীর নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ 
বিলাতেও নারীর নিরাপত্তা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। সারাহ ইভারার্ড নাম ৩৩ বছর বয়সী নারী এক পুলিশ অফিসারের হাতে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় এই গুরুতর প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে সরকারকে। লন্ডনের ক্লেফ হ্যাম কমন এলাকায় অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারকে গ্রেফতার ও তদন্ত শুরু হলেও বিক্ষোভ কমছেনা দুটি কারণে। এক, নিরাপত্তা রক্ষার জন্য নিয়োজিত পুলিশ নিজেই কেনো হন্তারকের ভূমিকায়? তাহলে মানুষ কার কাছে নিরাপদ? এর আগেও সন্ত্রাস দমনের নাম ব্রাজিলিয়ান তরুণ মেনেজেসকে ভুল করে গুলিতে খুন করেছে লণ্ডন পুলিশ। অনেক নিরপরাধ গত দুই দশকে পুলিশের ভুল অথবা দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মের শিকার হয়েছে। দুই, নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা ইউরোপ আমেরিকাকে দুনিয়ার অন্য অংশগুলো থেকে আলাদা পরিচয় দিয়েছে। সেই স্বতন্ত্র আজ হুমকির সম্মুখীন। শুধু মেট পুলিশ নয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল, নারীর নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায়কে পাশ কাটাতে পারেন না । অতীতে বিতর্কিত বিভিন্ন ভূমিকার জন্য তিরস্কৃত প্রীতি প্যাটেল লণ্ডনে নারীর নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার জন্য অপসারণ হলে এক্ষেত্রে টোরি সরকারের অবদান দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে। তবে বরিস জনসনের মতো টোরি নেতার কাছে এই প্রত্যাশা হয় দুরাশার নামান্তর!!

মওদুদ আহমেদ: একটি নক্ষত্রের পতন
বাংলাদেশের রাজনীতিতে মওদুদ আহমেদ’র অবদান অম্লান ও অক্ষয় থাকবে নানা কারণে। একজন সফল রাজনীতিক, লেখক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি অকৃত্রি অবদান রেখে গেছেন। সমকালীন বাংলাদেশে তাঁকে সবচেয়ে মেধাবী রাজনীতিক হিসেবেও অনেকে তুলনা করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন নিয়ে অনেক বলার থাকলেও ব্যক্তিগত সততা নিয়ে খুব একটা প্রশ্ন শোনা যায়নি। এখন সবকিছুকে ছাপিয়ে তিনি প্রস্থান করেছেন অসীমের পথে। তাঁর মৃত্যুর পর জীবন ও কর্ম নিয়ে নৈর্ব্যক্তিক গবেষণা হবে, এটা নিশ্চিত। যেখানে তাঁর বারবার দলবদল, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সততা, দেশপ্রেম, স্বৈরশাসনের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা — সবকিছুই স্থান পাবে। সকল আলোচনা-সমালোচলা-পর্যালোচনার পরেও এই কথা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবেন তিনি। মওদুদ আহমেদ বেঁচে থাকবেন বাংলাদেশের ইতিহাসে আর মাটি ও মানুষের মনে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

এছাড়াও চেক করুন
Close
Back to top button
Close
Close