নিউজ

আজিজগেইট কেলেঙ্কারী

* প্রধানমন্ত্রীকে হেয় প্রতিপন্ন করাই টার্গেট : জে.আজিজ
* ইন্টারনেট থেকে ‘অল দ্যা প্রাইম মিনিস্টার’স মেন’ অপসারণে হাইকোর্টের নির্দেশ
* আল জাজিরার রিপোর্ট সামলাতে পুরোনো প্রজ্ঞাপনের তথ্য প্রকাশ
* আইন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানেন না
* ‘প্রজ্ঞাপন নাটকে’ অভিযুক্ত প্রথম আলো
* ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নজরদারি করবে সরকার’
* ‘পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আগেই’ ব‍্যবস্থা

‘৬৪ ঢাকা ল রিপোর্ট ২০১২’ — যে অনুসারে কথিত প্রজ্ঞাপনটি ভিত্তিহীন

।। বিশেষ প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন ১৯ ফেব্রুয়ারী – আজিজ এণ্ড ব্রাদার্স’র মাফিয়া কানেকশন এবং অন্যান্য অপরাধ ঢাকতে একটার পর একটা নতুন কেলেঙ্কারির জন্ম হচ্ছে। ‘অল দ্যা প্রাইম মিনিস্টার‘স মেন’ প্রকাশের ১৫ দিন পর হটাৎ প্রথম আলো পত্রিকাকে দিয়ে প্রকাশ করা হলো এক তথাকথিত প্রজ্ঞাপনের খবরে আজিজের দুই ভাই হারিস ও আনিসকে দুই বছর আগেই সাজা মওকুফ করার ওই অনুসন্ধানী রিপোর্ট নতুন কেলেঙ্কারির জন্ম দেয়। প্রথম আলোর দাবিকৃত এই প্রজ্ঞাপন সঠিক হলে আলজাজিরার প্রশ্নের জবাবে জেনারেল আজিজ জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে এটা প্রকাশ করলে হারিস-আনিসকে পলাতক বলার সুযোগ আর থাকতো না। এছাড়া রিপোর্টটি প্রকাশের পরে ২ জানুয়ারী সেনাসদরের বক্তব্যে অথবা ১৫ তারিখ পর্যন্ত ২ সপ্তাহে সরকার, জেনারেল আজিজ অথবা তার পরিবারের কেউ এই দাবি করেননি। তাই প্রশ্ন উঠেছে প্রথম আলো ১/১১ সরকারের সময়ের মতো চাপের মুখে এই তথাকথিত প্রজ্ঞাপনের রিপোর্ট প্রকাশে বাধ্য হয়েছে কি না?

এদিকে, সরকার আল জাজিরার বিরুদ্ধে মামলার কথা বললেও সরকার সমর্থিত একজন আইনজীবী চ্যানেলটির স¤প্রচার বন্ধের জন্য হাইকোর্টে রিট করেন। ৬ জনের মধ্যে ৫জন ওই রিট চলতে পারে না বলে তাদের মতামত দিলেও আদালত শেষ পর্যন্ত ইন্টারনেট থেকে ‘অল দ্যা প্রাইম মিনিস্টার‘স মেন’ অপসারণে সংশ্লিষ্ট কমিশনকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন ফেইসবুক ও ইউটিউব কতৃপক্ষকে ইমেইল ও টেলিফোনে হাইকোর্টের নির্দেশ অবহিত করেছে। তবে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে কি না সেটা নিশ্চিত নয়।

ডিএমপি’র নোটিশ বোর্ডে এখনও পলাতক আসামী হারিস

এদিকে, তথাকথিত প্রজ্ঞাপন সংক্রান্ত তথ্য সম্পর্কে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, হারিস ও আনিসের সাজা মওকুফ সংক্রান্ত কোনো প্রজ্ঞাপনের কথা তাঁর জানা নেই। তবে তিনি বলেন, পলাতক অবস্থায় সাজা মওকুফে কোনো আইনগত বাধা নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, তিনিও এই দুজনের সাজা মওকুফের ব্যাপারে কিছু জানেন না। তবে তিনি বলেন, কোনো আইনগত অধিকার পলাতক আসামি পায়না। এই প্রজ্ঞাপন নিয়ে সংশয় ও সন্দেহকে ঘিরে তৈরী হয়েছে আরও নানা প্রশ্ন। দুই বছর আগে সাজা মৌকুফের তথ্য সঠিক হলে ঢাকা মেট্রো পুলিশের ওয়ান্টেড লিস্টে এখনো কেন হারিস আহমেদের নাম ও ফটো থাকবে?

পলাতক আসামির অধিকার?
আমরা সাপ্তাহিক সুরমা থেকে ঢাকা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মেজর (অব.) সারওয়ার হোসেনকে যোগাযোগ করলে তিনি ঢাকা ল’ রিপোর্ট ২০১২ সালের ৬৪ নম্বর-এ ২৪৯-এর উদৃতি দিয়ে বলেন, কোনো পলাতক আসামী, আদালতে আত্মসমর্পণ না করে, সংবিধানের আর্টিকেল ৪৯ অনুযায়ী মার্জনা, ক্ষমা বা ফৌজদারী কার্যবিধি ৪০১ ধারায় কোনো প্রতিকার পেতে পারেনা। ১৯৯৩ সালে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা সংক্রান্ত মামলা সারওয়ার কামাল বনাম রাষ্ট্র মামলার রায়ে হাইকোর্টে বিচারপতি এনায়েতুর রহমানের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। হাইকোর্ট ডিভিশনের এই রায়কে কেস ল বলে। এই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করেনি বা স্থগিতও হয়নি। সুতরাং ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০১ ধারার অপব্যাখ্যার কোনো সুযোগ নেই।

‘এই সেই কথিত প্রজ্ঞাপন’ যে প্রজ্ঞাপন সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী কিছুই জানেন না

‘পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আগেই’ ব‍্যবস্থা:
আলজাজিরা নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা নজিরবিহীন। বাংলাদেশের হাইকোর্ট ‘অল দ্যা প্রাইম মিনিস্টার’স মেন’ শিরোনামে আল জাজিরার অনুসন্ধানী রিপোর্ট ইন্টারনেট থেকে ইউটিউব, টুইটার ফেইসবুকসহ সব অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। রিপোর্টের বিষয়গুলো নিয়ে কোনো অবজারভেশন দেয়নি আদালত। বলা হয়েছে Ñ ‘পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আগেই’ এই পদক্ষেপ নিতে টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনকে নির্দেশ দেন হাইকোর্টের এই বেঞ্চ। কিন্তু পরিস্থিতির কি এবং কোথায় অবনতি হয়েছে সে সম্পর্কেও আদালত কোনোকিছু বলেনি। তবে বাংলাদেশে আল জাজিরার স¤প্রচার বন্ধে মূল আবেদনের বিষয়ে কোনো আদেশ দেয়নি আদালত। আন্তর্জাতিক কোনো গণমাধ্যম নিয়ে বাংলাদেশে উচ্চ আদালতের এই নির্দেশ নজিরবিহীন এবং অবাধ তথ্যপ্রবাহের এই যুগে খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে সচেতনমহল মনে করেন। যেকোনো গণমাধ্যমের উপর যেকোনো খড়গ অথবা আক্রমণ বাকস্বাধীনতার সর্বজনীন অধিকারের উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে বিবেচিত।

৬ জনের মধ্যে ৫ অ্যমিকাস কিউরির মতামত অগ্রাহ্য: হাইকোর্টের আদেশ
বাংলাদেশে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল-জাজিরার স¤প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদনটি গ্রহণযোগ্য কিনা, সে বিষয়ে ছয় অ্যামিকাস কিউরির বক্তব্য শুনেছে হাইকোর্ট। তাদের মধ্যে পাঁচ আইনজীবীর বক্তব্যের সারমর্ম ছিল Ñ ওই রিট আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। আর অন্যজন (আব্দুল মতিন খসরু) বলেছেন, আদালত চাইলে এ বিষয়ে আদেশ দিতে পারে। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ বিষয়ে ছয় আইনজীবীর বক্তব্য শোনে। সুপ্রি, কোর্টের আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, ফিদা এম কামাল, কামাল উল আলম, প্রবীর নিয়োগী ও শাহদীন মালিক যে মত দিয়েছেন, তার মোদ্দা কথা হল ওই রিট আবেদন চলতে পারে না। অন্যদিকে আব্দুল মতিন খসরু ভিন্নমত দিয়েছেন।

হেয় প্রতিপন্ন করাই টার্গেট: জে. আজিজ
তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনীকে নিয়ে নানা ধরনের ‘অপপ্রচার’ চালানো হচ্ছে, যাতে একটি বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। সেনাবাহিনী এসব অপচেষ্টাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে। ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার‘স মেন’ শিরোনামে আল-জাজিরার ওই প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ার পর আইএসপিআরের মাধ্যমে দুই দফা বিবৃতি দিয়ে তার প্রতিবাদ জানিয়েছে সেনা সদর। যখন ওই প্রতিবেদন আল-জাজিরা প্রচার করে, জেনারেল আজিজ আহমেদ তখন সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। ১২ ফেব্রুয়ারী দেশে ফেরার পর মঙ্গলবার সকালে তেজগাঁওয়ে আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের অনুষ্ঠান শেষে তিনি প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে কয়েকটি টেলিভিশনের সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন। “ইতোমধ্যে আমি নিশ্চিত, আপনারাও জানেন যে, যে ধরণের অপচেষ্টাগুলো হচ্ছে, এগুলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মতো একটা প্রতিষ্ঠান, যেটা জাতির গর্ব, দেশের গর্ব, এই প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে তারা নানান ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। যাতে করে একটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।” “আপনাদেরকে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই। সেনাবাহিনী অত্যন্ত প্রশিক্ষিত এবং ওয়েল মোটিভিটেড একটা ফোর্স, আগের থেকে অনেক বেশী সুসংহত, সেনাবাহিনীর চেইন অব কমাণ্ড অত্যন্ত ইফেকটিভ। এবং সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য ঘৃণাভরে এ ধরণের অপচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেছে অতীতে, এখনো করছে এবং বর্তমানে যা আছে, তাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে যাচ্ছে। এবং আমাদেও চেইন অব কমাণ্ডে যারা আছে, এ ব্যাপারে তারা সবাই আমরা সতর্ক আছি।” সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, “আমি আশ্বাস দিতে চাই আপনাদেরকে, সেনাবাহিনীতে, এই ধরনের অপপ্রবচার বিন্দুমাত্র আঁচ আনতে পারবে না তারা আমাদের চেইন অব কমাণ্ডে। সেনাবাহিনী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, বাংলাদেশের সংবিধানকে সমুন্নত রাখার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ, বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুগত এবং বাংলাদেশ সরকারের, বর্তমান সরকারের যে কোনো আদেশ-নির্দেশ পালনে সদা প্রস্তুত এবং বাংলাদেশের সেটা অভ্যন্তরীণ হোক বহির্বিশ্বেও হোক, যে কোনো সমস্যার মোকাবিলার জন্য আমরা সাংবিধানিকভাবে শপথবদ্ধ। তো এটা নিয়ে আমার মনে হয় যে দুশ্চিন্তা করার তেমন কিছু নাই।”

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে সেনাপ্রধানের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যেসব প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে যেভাবে সেনাপ্রধানের চলাফেরার ভিডিও করা হয়েছে, সে বিষয়ে সাংবাদিকরা তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। জেনারেল আজিজ বলেন, “প্রথম কথা হল, আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যে কথাটা বলা হয়েছে, আমি আপনাকে প্রশ্ন করি, আপনার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সাজা আছে, কিন্তু, আপনি যদি গতকাল সে সাজা থেকে অব্যাহতি পেয়ে থাকেন, আপনার বিরুদ্ধে যদি আর কোনো মামলা রানিং না থাকে, আপনাকে কি ফিউজিটিভ বলা যাবে আজকে? আপনাকে কি বলা যাবে যে, আপনি সাজাপ্রাপ্ত? “কারণ, যখন আপনি অব্যাহতি পেয়ে যান কোনো একটা চার্জ থেকে, তার পরের দিন থেকে আপনি যে কোনো মুক্ত একজন নাগরিকের মতো। আেমার ভাইদের সম্পর্কে যে অপপ্রচারগুলো এসেছে, সেটার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া আছে। খুব শিগগিরই আমার পরিবারের পক্ষ থেকেও সংবাদ সম্মেলন করে আপনাদেরকে সব জানানো হবে।”

সেনাপ্রধান বলেন, “এতটুকু আমি আপনাদেরকে বলতে পারি, আমি সেনাপ্রধান হিসেবে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি, আমার অবস্থান, আমার দায়িত্ব সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ সচেতন। কী করলে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ হতে পারে, কী করলে সেনাবাহিনীতে আমার যে দায়িত্ববোধ, আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়াটা হয়েছে, সেটা খর্ব হতে পারে, আমি সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল।
“আমার ভাইয়ের সঙ্গে যখন মালয়েশিয়াতে দেখা করেছি, তখন তার নামে কোনো মামলা ছিল না। যে একটা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা ছিল, সেটা থেকে অলরেডি অব্যাহতিপ্রাপ্ত ছিল। সেই অব্যাহতি মার্চ মাসে হয়েছিল। আমি এপ্রিল মাসে গিয়েছিলাম। এখানে আল-জাজিরা যে স্টেটমেন্টটা দিয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে দিয়েছে। কারণ সেদিন আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে, আমি যদি বলি, সেদিন না কোনো সাজা ছিল, না তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল। তার আগেই যে মামলাটা ছিল, সেটা থেকে তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”
জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, “সেকেণ্ড যে জিনিসটা হল যে, বিভিন্ন সময়, আপনি যেটা বললেন যে, বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সময় আমার যে চিত্র ধারণ করা হয়েছে, আমি সেনাপ্রধান হিসেবে মনে করি, যখন আমি অফিসিয়াল ক্যাপাসিটিতে কোথাও থাকব, তখন আমার নিরাপত্তা সেটা হলো অফিসিয়ালি নিশ্চিত করা হয়ে থাকে। আমি যেখানেই যাই, সেটা হোস্ট কান্ট্রি করে থাকে। সেখানে আমার অতিরিক্ত কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।

“কিন্তু, যখন আমি কোথাও আমার ব্যক্তিগত সফরে থাকি, হয়তো আসার সময় ট্রানজিটে কোনো আত্মীয়-স্বজনের কাছে যাই, সেই সময় অফিসিয়াল কোনো প্রোটোকল আমার ব্যবহার করা, আমি সেটা কখনো সমীচীন মনে করি না। আমি মনে করি সেটা অপচয় এবং সেটা আমার উচিত নয়। সেক্ষেত্রে সেই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কেউ যদি কিছু করে থাকে, তাদের অসৎ উদ্দেশ্য, সেটা আপনারাতো এখন ভালো করেই জানেন এবং আমাদের রিজয়েণ্ডার পাওয়ার পরে আপনারা বুঝতে পারছেন, যারা এ কাজগুলো করেছে, কেন করেছে, তাদের উদ্দেশ্যটা কী হতে পারে।”

সেনাপ্রধান বলেন, “আপনারা প্রশ্ন করেছেন, বারবার কেন আমাকে টার্গেট করা হয়। আমার মনে হয় সেটার দায়িত্ব আমি আপনাদের ওপর ছেড়ে দিলাম। আপনারাই বুঝে নেন, খুঁজে নেন, কেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনাপ্রধানকে টার্গেট করা হচ্ছে। “কারণ, এই সেনাপ্রধানকে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন। সেনাপ্রধানকে হেয় প্রতিপন্ন করা মানে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে হেয় প্রতিপন্ন করা। আপনাদেরকে এই জিনিসটা বুঝতে হবে।”
জেনারেল আজিজ বলেন, “আমি সম্পূর্ণভাবে সচেতন যে, আমার কারণে যদি কখনো আমার ইনস্টিটিউশন, অরগানাইজেশন যেটা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং আমাদের সরকার যাতে কোনোভাবে বিব্রত না হয়, বিতর্কিত না হয়, আমি সে ব্যাপারে সম্পূর্ণ সচেতন। যা কিছু আপনারা শুনছেন, এগুলোর কোনো প্রমাণ, এগুলো হয়তো বিভিন্ন জায়গা থেকে তারা কাট-পিস অন্যান্য জিনিস সন্নিবেশিত করে তারা এগুলো করতেই পারে। বাট, তাদের এই উদ্দেশ্য হাসিল হবে না। এবং সেটা আপনারা আপনাদের কলমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে তাদেরকে জবাব দিয়েছেন এবং সেজন্য আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

আল জাজিরার প্রতিবেদনের সঙ্গে বাংলাদেশের যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না— এমন প্রশ্নও একজন সাংবাদিক করেন। উত্তরে সেনাপ্রধান বলেন, “কিছু কিছু ব্যাপার আছে যেটা হয়তো যে, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তেমন কিছু করার হয়ত থাকবে না তাদের বিরুদ্ধে। আমি নিশ্চিত, সেটা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যারা আছে বা সংস্থা যারা আছে, তারা হয়তো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।”

সেনাসদরের দ্বিতীয় বক্তব্য:
সেনাসদরের উদ্ধৃতি দিয়ে ২ ফেব্রুয়ারী আইএসপিআর প্রথম বিবৃতি প্রকাশ করে যেখানে আল জাজিরার রিপোর্টকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু তথাকথিত প্রজ্ঞাপনের তথ্য প্রকাশের একই সময়ে সেনাসদরের উদৃতি দিয়ে দ্বিতীয় বক্তব্য প্রেরণ করেন। এতে দেখা যায় কথিত প্রজ্ঞাপন, সেনাসদরের দ্বিতীয় বক্তব্য ও মঙ্গলবার সকালে সেনাপ্রধানের বক্তব্য একই রকমের এবং কথিত তথ্যের ভিত্তিতে দেয়া।
সেনাসদরের দ্বিতীয় বক্তব্যে বলা হয়েছে— সম্প্রতি আল জাজিরা নামক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স মেন’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি সেনাসদরের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তথ্যচিত্র আকারে পরিবেশিত প্রতিবেদনটিতে আল জাজিরা কর্তৃক বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে অসংখ্য ভুল তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে, এর ফলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। উক্ত প্রতিবেদন দৃষ্টে স্পষ্টতই প্রতীয়মান যে, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা সেনাবাহিনী প্রধানকে বাংলাদেশের জনগণ ও বিশ্বের দরবারে বিতর্কিত, অগ্রহণযোগ্য ও হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার সাথে উদ্দেশ্যপ্রোণোদিতভাবে অন্যান্য অসত্য, বানোয়াট, মনগড়া, অনুমাননির্ভর ও অসমর্থিত তথ্য সংযুক্ত করে এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রথমত, পরিবেশিত তথ্যচিত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক ইসরাইল হতে স্পাইওয়্যার ক্রয় করা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সেনাবাহিনী প্রধানের ভাইকে সম্পৃক্ত করে কিছু মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নজরদারি করবে সরকার’
মন্ত্রিপরিষদের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির সভায় দেশে সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে নজরদারি করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সভা শেষে কমিটির সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) তারা এ বিষয়ে মনিটরিং করার কথা বলবেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না। কিন্তু আইনের আওতায় থাকা দরকার। অবাধ তথ্য প্রবাহের কারণে জাতীয়ভাবে সমাজ বিভ্রান্তিতে পড়ে। মানবতাবিরোধী, সমাজবিরোধী বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ হওয়া জরুরী।’
তিনি জানান, সরকার ফেইসবুক, টুইটারসহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াকে বাংলাদেশে অফিস খোলা বা অন্তত একজন প্রতিনিধি নিয়োগের কথা বলবে। এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে কোনও অভিযোগ উঠলে সরকার যাতে তাদের জানাতে পারে এবং তারা যাতে ব্যবস্থা নিতে পারেও সেজন্য এই ব্যবস্থার কথা ভাবা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ আইনশৃঙ্খলা ঠিকভাবে মেনে চলছেন বলেই আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রাখতে পেরেছি।’ বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পঞ্চম সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করার সময় তিনি এসব তথ্য জানান। সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ বৈঠক হয়।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close