সম্পাদকীয়

গুণ্ডাতন্ত্র ও সাংবাদিকতা

সুরমার এ সপ্তাহের সম্পাদকীয় ।। ইস্যু ২১৮৯

আগে রাজনীতিকরা গুণ্ডা পালতো, এখন পোষে সাংবাদিক। আগে গুন্ডা ভাড়া পাওয়া যেতো কালীগঞ্জে, এখন নাকি তোপখানাতে পাওয়া যায় । ইমদু, গালকাটা কামাল, দুধর্ষ সব গুণ্ডা  কালীগঞ্জ থেকেই এসেছিলো। আগের গুণ্ডারা ছুরি চাকু অথবা চর দখলে টেটা বল্লম ব্যবহার করতো। আর এখন গুন্ডা ভাড়া করে কেউ হাত রাঙাতে চায় না, বরং সাংবাদিক ভাড়া করে এক কাজে সব কাজই হয় । কাগজ আর কলম দিয়ে সবকিছু হালাল করা যায়। কলমের কালির নোংরা ব্যবহারে হাত ময়লা হলে সেটা  হয় সাংবাদিক নামধারী পোষা প্রাণীদের।  

বাংলাদেশকে নিয়ে আল জাজিরার বিশ্বকাঁপানো অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশের পর একদল সাংবাদিক নামধারী পোষাপ্রানী মাফিয়াতন্ত্রের পক্ষ নিয়ে যেভাবে কথা বলছেন, তা নজিরবিহীন। জেনারেল আজিজের সেনাপ্রধান নিয়োগ সংক্রান্ত খবরের শেষে তার ভাই শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফের পরিচয় উল্লেখের কারণে যে নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো, তার সম্পাদকও প্রকারান্তরে মাফিয়াতন্ত্রকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। আরেক সম্পাদক নীতিগত কারণে তার বাবার রাজাকার পরিচয় প্রকাশেও দ্বিধা করেননি, কিন্তু মাফিয়াতন্ত্রের পরিচয় প্রকাশে দ্বিধান্বিত। সাংবাদিক ইউনিয়ন নির্লজ্জভাবে টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধের দাবী জানায়। 
সুইডেন প্রবাসী সাংবাদিক আল জাজিরার রিপোর্টে কয়েকটি পয়েন্ট বিশ্লেষণ করার ‘অপরাধে’ তাঁর মরহুম পিতার (যিনি নিজেও ছিলেন একজন নির্ভীক সাংবাদিক) উপর সাংবাদিক নামধারী এক পোষা গুণ্ডারা নির্মম কলম হামলা গাল কাটা কামালের অপরাধকেও হার মানায়।পানামা পাপেরস’ খ্যাত অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশের জন্য মাল্টায় যেভাবে রাষ্ট্রীয় মাফিয়াদের হাতে জীবন দিতে হয়েছিল কারুয়ানা গালিয়াজা’কে । ভাগ্য ভালো, আল জাজিরার রিপোর্টের প্রদায়কগণ বাংলাদেশে বসবাস করছেন না । এই অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের পরিণতি কি হতো তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই বলতে পারেন। গুণ্ডাতন্ত্র পোষ্যগণ গুরুতর বিষয়গুলোর তদন্ত অথবা ফলো আপ তো দূরের কথা ন্যূনতম পেশাগত নৈতিকতার ধার পর্যন্ত ধারেননি।

একজন হুইসেল ব্লোয়ার এবং নির্বাসিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল শহীদ উদ্দীন  সম্প্রতি তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যে “গুন্ডাতন্ত্র” শব্দটির ব্যাপক ব্যবহারের পর অনেকেই বুঝতে পেরেছেন, এটাই সঠিক শব্দ হতে পারে। কারণ বাংলাদেশের বর্তমান শাসন স্বৈরশাসনকে অনেক আগেই অতিক্রম করেছে। ফ্যাসিবাদ বুঝতে অনেক জটিল। গণতন্ত্রের চরম অধঃপতন সঠিক সংজ্ঞায়নে এই শব্দটির যথার্থতা কতিপয় সাংবাদিক নামধারী ব্যাক্তি মোটামুটি নিশ্চিত করেছেন। এই সহজ সংজ্ঞায়নের জন্য কর্নেল শহীদের পাশাপাশি কথিত সাংবাদিকগণকেও ধন্যবাদ।

পুনশ্চঃ এখানে সাংবাদিক বলতে গুটিকয় বিশেষ ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে যাঁরা ইতিমধ্যে তাঁদের বক্তব্যের মাধ্যমে বিতর্কিত ভূমিকা স্পষ্ট করেছেন। এই মহান পেশায় নিবেদিত সকল পেশাদার সাংবাদিকের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা সবসময় অবিচল। 

সম্পরকিত প্রবন্ধ

এছাড়াও চেক করুন
Close
Back to top button
Close
Close