নিউজ

আল-জাজিরার চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে তোলপাড়: সরকারের মাফিয়া কানেকশন

*আজিজের বিদায়ঘন্টা, তারপর কী?
*জামায়াত বিএনপি’র অপপ্রচার: সরকার
*আইনি ব্যবস্থার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
*কোনো কিছুই লুকিয়ে থাকবে না: সাংবাদিক কাজল

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ৫ ফেব্রুয়ারী – বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের দুর্ধর্ষ তিন মাফিয়া ভাইয়ের মাধ্যমে সরকারের মাফিয়া কানেশনের চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সর্বত্র তুমুল তোলপাড় শুরু হয়েছে। ‘অল দ্য প্রাইমমিনিস্টার স মেন  নামের এই অনুসন্ধানী প্রামাণ্য প্রতিবেদনটি গত ১ ফেব্রুয়ারী, সোমবার যুক্তরাজ্য সময় রাত ৮টায় আল জাজিরায় প্রচারিত হয়। প্রতিবেদনটির উপসংহারে ‘ঢাকা মাফিয়া ট্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশে মাফিয়াতন্ত্র চলছে বলার চেষ্টা করা হয়েছে।

(লাল চক্রে) জেনারেল আজিজ ও তার ভাই মাফিয়া হারিস

এদিকে এই চাঞ্চল্যকর খবরের জের ধরে সেনাবাহিনী থেকে জেনারেল আজিজের বিদায় ঘন্টা বেজে উঠেছে বলে জানা গেছে। ঢাকার বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে সাপ্তাহিক সুরমা জানতে পেরেছে যে, এটা এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। যুক্তরাষ্ট্র সফররত জেনারেল আজিজ দেশে ফিরে যাবেন ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে। নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, তার বিদায় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কিত এমন স্পর্শকাতর ও অভাবনীয় প্রতিবেদন দেখে বিস্মিত ও চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের জনগণসহ প্রবাসে থাকা বাংলাদেশীরা। একইভাবে বিস্মিত হয়েছে সরকার এবং তাদের দলীয় সমর্থকরাও। সরকার এবং তাদের সমর্থকরা প্রতিবেদনটিকে অপপ্রচার, ষড়যন্ত্রমূলক এবং বিরোধীজোট জামায়াত ও বিএনপির কারসাজি বলার চেষ্টা করলেও সেটির পক্ষে কোনো প্রমাণিক তথ্য এখনো তারা তোলে ধরতে পারেননি। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনটির প্রতিক্রিয়ায় যে বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে তাতেও প্রতিবেদনটি যে ভুয়া বা ষড়যন্ত্রমূলক তা প্রমাণের পক্ষে কোনো তথ্য-উপাথ্য বা সেটির স্বপক্ষে জোরালো কোনো বক্তব্য নেই। উপরোন্তু সরকারী পক্ষের বিভিন্ন বিবৃতি ও বক্তব্যে প্রতিবেদনটির সাথে তথ্য প্রমাণহীন লণ্ডন কানেশনের দিকে ইঙ্গিতও রয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক বিবৃতিতে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়ে। তাছাড়া গণমাধ্যমসমূহে দেয়া বক্তব্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আল-জাজিরার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

এদিকে, বাংলাদেশকে নিয়ে আল জাজিরায় প্রচরিত প্রতিবেদনটি প্রচরিত হওয়ার পর এর সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষসহ সচেতনমহলের মধ্যে তুমুল আলোচনা ও তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত হতে দেখা গেছে। তবে আলোচিত এই ইস্যুতে অনেকটা নিরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে বাংলাদেশের সব গণমাধ্যম। সরকারের প্রেরিত বিবৃতি ছাড়া আল জাজিরা বাংলাদেশ সম্পর্কে যে একটি স্পর্শকাতর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেসম্পর্কে কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি গণমাধ্যমগুলো। এমনকি প্রতিবেদনটি সম্পর্কে দেশের সচেতন মহল কিংবা সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া নিয়েও কোনো ধরণের সংবাদই প্রচারিত হতে দেখা যায়নি কোনো গণমাধ্যমে। সরকারের অদৃশ্য চাপের কারণেই বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোর এই নিরবতা বলে মনে করছেন অনেকে। সরকারের ঘনিষ্ট দু’একজন ছাড়া বুদ্ধিজীবীমহল থেকেও তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় সরকারের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবীর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ নজরুল। তিনি তাঁর ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘এটি যে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রমূলক তা আমরাও বিশ্বাস করতে চাই। কিন্তু এজন্য প্রতিবেদনে পরিবেশিত বিষয়গুলোর উপযুক্ত উল্টর দেশবাসীকে জানানো দরকার। যেমন: প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে সেনাপ্রধানের একজন ভাই খুনের দায়ে ফেরারী আসামী হয়ে আছেন। এ অবস্থায় তিনি সরকারের কিছু কর্মকর্তার সহায়তায় জালিয়াতি করে বাংলাদেশ থেকে ভুয়া পরিয়পত্র ও পাসপোর্ট করেছেন, নিজের নাম পর্যন্ত বদল করেছেন। আল-জাজিরার এসব তথ্য কি মিথ্যে? প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, ফেরার আসামী হয়ে সেনাপ্রধানের ভাই বাংলাদেশে এসে এসএসএফ, পুলিশ, গোয়েন্দা এবং প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে সেনাপ্রধানের সন্তানের বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন। এই তথ্য কি মিথ্যে? এর প্রমাণ হিসেবে আল জাজিরার প্রতিবেদনে দেখানো ছবি ও ভিডিওগুলো কি  কারসাজি করে করা? সেনাপ্রধানের কোন ভাই যদি সত্যি সত্যি আইনের উর্ধ্বে থাকেন, তাহলে এর পেছনে যুক্তিগুলো কি কি? এরকম এবং এরচেয়েও সেনসেটিভ কিছু বিষয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন  আসতে পারে। সরকারের তরফ থেকে তাই প্রতিবেদনটির জবাব থাকলে তা আরো স্পস্ট করে বলা উচিত। দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলকে আরো ভালো করে বলা উচিত।

কিশোরদের কার্টুন না, দেশের ভাবমূর্তিক্ষুন্ন হয় বাংলাদেশে মাফিয়াতন্ত্র চলছে আল জাজিরার এমন প্রতিবেদনে। এই প্রতিবেদন মিথ্যে হলে, তা প্রমাণ করার সব ব্যবস্থাও তাই সরকারের নেয়া উচিত। আল জাজিরায় প্রতিবাদলিপি পাঠানো উচিত। তাদেরকে ক্ষমা প্রার্থনা এবং প্রতিবেদন প্রত্যাহার করতে বলা উচিত। এটি করতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপুরণের মামলা করা উচিত। সেই সৎসাহসের প্রত্যাশায় থাকলাম।’

জেনারেল আজিজ (মাফিয়া লিংক)

আজিজের বিদায়ঘন্টা, তারপর কী?
জেনারেল আজিজের বিদায় ঘন্টা বেজে উঠেছে। এতো বড় কেলেঙ্কারি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্ফোরণের পর তার বিদায় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। সুরমার পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র বলছেন, মুখ রক্ষার তাগিদে প্রথমে তিন বাহিনীর সমন্বয়ে একটি কর্তৃপক্ষের প্রধান করে জেনারেল আজিজকে চিফ অব স্টাফ পদে সরিয়ে নেয়া হতে পারে। তবে পর্যায়ক্রমে প্রথমে সেনাবাহিনীও পরে দেশ থেকে বাইরে পাঠানো সরকারের নীতিনির্ধারক মহল জুতসই বলে মনে করছেন।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে কি আছে?
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমদ এবং তাঁর তিন ভাইয়ের মাফিয়া বনে যাওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। আজিজ ব্রাদাররা বাংলাদেশে নিজেদের অপকর্মে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার, রাজনীতিকদের মাধ্যমে সুবিধা আদায়। রাষ্ট্রীয় কাজের ঠিকাদারী পাইয়ে দিতে ঘুষের লেনদেন সবকিছু করেন বলে এই আন্তর্জাতিক গণমাধমের প্রামাণ্যচিত্রে উঠে এসেছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিভিন্ন পদেও লোক বসাতে পারেন টাকার বিনিময়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে এক মাফিয়া চক্র গড়ে তুলেছেন সেনাপ্রধান আজিজ এবং তাঁর ভাইয়েরা।

প্রতিবেদনটির প্রায় এক ঘন্টার সিংহভাগ ছিলো সেনাপ্রধানের পরিবারের কাহিনী। জেনারেল আজিজ আহমেদের তিন ভাই খুনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী। হারিস আহমেদ, আনিস আহমেদ এবং জোসেফ আহমেদ। ১৯৯৬ সালে ঢাকায় খুন হন বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা। এ খুনের ঘটনায় জড়িত আজিজের তিন ভাই। হারিস এবং আনিস ঘটনার পরপর পালিয়ে দেশ ছাড়েন। আটক জোসেফ মৃত্যুদ-ের সাজা পান। কিন্তু ২০১৮ সালে রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমায় ছাড়া পেয়ে যান খুনের মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামী জোসেফ। এর এক সপ্তাহের মাথায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জোসেফের ভাই আজিজকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন।

আল জাজিরা প্রায় দুই বছর যাবত অনুসন্ধান চালিয়ে জেনারেল আজিজের পলাতক দুই ভাইয়ের সন্ধান পেয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, হারিস আহমদ বুদাপেস্টে পালানোর পর পরিচয় পাল্টে সেখানেই বসবাস শুরু করেন। মোহাম্মদ হাসান নামে তিনি বাংলাদেশী পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন। জেনারেল আজিজ ভাইয়ের জন্য ভুয়া পাসপোর্ট তৈরীতে কীভাবে সাহায্য করেছেন সে প্রমাণও আল জাজিরার হাতে এসেছে বলে দাবী করা হয় প্রতিবেদনে।

অন্যদিকে আনিস আহমেদ বসবাস করেন কুয়ালালামপুরে। সেখানে তার নিজস্ব বাড়ি এবং ব্যবসা আছে। সন্ত্রাসী এসব পলাতক ভাইদের সঙ্গে জেনারেল আজিজের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। সিঙ্গাপুর থেকে মালয়শিয়া গিয়ে জেনারেল আজিজ যে তিন ভাইয়ের সাথে সময় কাটিয়েছেন সে প্রমাণও তুলে ধরে আল-জাজিরা।

এমনকি ২০০৯ সালে পলাতক হারিস এবং আনিস ঢাকায় জেনারেল আজিজের মেয়ের বিয়েতে অংশ নেন। অথচ হারিস আহমেদ এখনও বাংলাদেশ পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসীদের তালিকায় আছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গোপন রেকর্ডিং থেকে জানা গেছে, এই আহমেদ গ্যাং বাংলাদেশে নানা অপকর্ম করে প্রচুর অর্থ কামাই করছে। ঠিকাদারির কাজ পাইয়ে দেয়া, পুলিশে নিয়োগ এবং বদলি এসব করছে জেনারেল আজিজ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়েছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বড় বড় কর্তাদের সঙ্গে পলাতক ভাইদের যোগাযোগ রয়েছে।

এক বৈঠকের গোপন রেকর্ডিং এ হারিসকে বলতে শোনা যাচ্ছে, এয়ারপোর্টের অফিসার ইন কমা- পোস্টের জন্য ৬ লাখ ২৫ হাজার থেকে ১ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত লাগতে পারে। সরকারের একজন জেষ্ঠ্য মন্ত্রীকে এর ভাগ দিতে হবে বলে দাবী করেন তিনি। এছাড়া, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিচালক এবং পুলিশ কমিশনারকেও টাকা দিতে হবে।

তিনি দাবী করেন, ‘৬ লাখ ২৫ হাজার ডলারের চুক্তি হলে এর ৩ লাখ ৭৫ হাজার আমরা ওদের দিতে হবে। বাকী ২ লাখ ৫০ হাজার আমাদের থাকবে।’

অন্য এক রেকর্ডিংয়ে হারিসকে সেনা সরঞ্জাম ক্রয় থেকে লাভ করা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে শোনা যায়। তাঁর ভাই আজিজের মাধ্যমে তিনি নানা কাজ করতে পারেন বলে দাবী করেন।

হারিস বলেন, যেসব রাজনীতিককে তিনি এক সময় সেবা দিতেন, তারা এখন তাকে বিভিন্ন কাজে সাহায্য করেন। তিনি বলেন, “এমনকি প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, হারিস যদি কিছু করতে চায় তাকে করতে দাও।”

আল জাজিরার অনুসন্ধান দল আরেক ভাই আনিস আহমেদের সন্ধানও বের করেছে। সেনাাপ্রধান আজিজকে সিঙ্গাপুর থেকে মালয়শিয়া পর্যন্ত তারা অনুসরণ করে। মালয়শিয়া হাইকমিশনের গাড়ি আজিজ এবং আনিসকে নিরাপত্তা দিয়ে হাইকমিশনে নিয়ে যায়। আনিস মালয়শিয়ায় যে বাড়িতে থাকেন তার মালিকানা আনিস এবং আরেক ভাই হারিসের নামে।

জেনারেল আজিজের এক ফোনালাপের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাপ্রধান আজিজ ওই ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা কিভাবে তাঁর ভাইদের সমর্থন করেন সে কথা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী আজিজকে বলেন, নেতাদের শাসিয়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘দেখ আজিজের ভাইদের আমার চাইতে তোমরা বেশী চিন না। যখন আমার বাসায় গ্রেনেড মারা হচ্ছিলো তখন তোমরা কোথায় ছিলে। সেনাপ্রধানের ভাইয়েরা তখন আমার চারপাশে ছিলো।”

১৯৮০ এবং ৯০ এর দশকে শেখ হাসিনা যখন মতার বাইরে ছিলেন তখন হারিস এবং আনিস তাঁর বডিগার্ড ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের সাথে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও দেশটি থেকে গোপনে মোবাইলে আড়িপাতার যন্ত্র কিনেছে শেখ হাসিনা সরকার। এ কাজে বাংলাদেশ বাহিনীকে গোপনে প্রশিক্ষণও দিয়েছে ইসরাইল।

আল জাজিরা জানিয়েছে, এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তারা সেনাপ্রধান, তাঁর তিন ভাইসহ সংশ্লিষ্ট সকলের মন্তব্য যুক্ত করতে চেয়েছে। কিন্তু কেউ তাদের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতিক্রিয়া:
আল-জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেল প্রচারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স মেন’কে মিথ্যা, মানহানিকর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ সরকার।

২ ফেব্রুয়ারী, মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে প্রতিবেদনটি সম্পর্কে এমন প্রতক্রিয়া ব্যক্ত করে বলা হয়েছে চরমপন্থী গোষ্ঠী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কুখ্যাত কিছু ব্যক্তির দ্বারা পরিচালিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই অপপ্রচারকে বাংলাদেশ সরকার সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে প্রতিবেদনের ঐতিহাসিক বিবরণে ১৯৭১ সালে জামায়েতের সহযোগিতায় হওয়া ভয়াবহ গণহত্যা ও নারী ধর্ষণের কথাও উল্লেখ করা হয় নাই।

প্রতিবেদনটিকে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের একটি প্রতিচ্ছবি বলে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয় ওই রিপোর্টটির প্রধান ভাষ্যকার ডেভিড বার্গম্যানকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দোষী সাব্যস্ত করেছিল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সরকার ঘোষিত মৃত্যুর সংখ্যা চ্যালেঞ্জ করার কারণে।

এতে বলা হয়, আল জাজিরার করা প্রতিবেদনের মূল তথ্য দাতা একজন আন্তর্জাতিক অপরাধী, যাকে সংবাদ মাধ্যমটির পক্ষ থেকেই মানসিক রোগী বলে দাবী করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের অন্যান্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে এই নির্দিষ্ট ব্যক্তির সম্পর্কের কোনও প্রমাণ নাই বলে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে একটি আন্তর্জাতিক নিউজ চ্যানেল হয়েও মানসিকভাবে অপ্রকৃতস্থ ব্যক্তির কথার ভিত্তিতে এমন একটি রিপোর্ট প্রচার করা দায়িত্বজ্ঞানহীনতারই পরিচায়ক। আল-জাজিরা ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে নিজেকে ‘হিংসাত্মক’ রাজনৈতিক নকশার হাতিয়ার হওয়ার সুযোগ করে দেয়ায় বাংলাদেশকে দুঃখিত করেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

আইনি ব্যবস্থার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ভুল তথ্য প্রচারের জন্য আল জাজিরার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউকে দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ দেননি। দলের (আওয়ামী লীগ) নেতা-কর্মীরা তার সার্বক্ষণিক দেহরক্ষী।’

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিষয়টি উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, তখন দলের লোকেরাই তাকে রক্ষা করেছিলেন, কোনো দেহরক্ষী নয়।
তিনি বলেন, ‘মিথ্যা ও ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রচার করে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে আল জাজিরা।’

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এর বিবৃতি:
আল জাজিরায় প্রচারিত ‘অল দ্যা প্রাইম মিনিস্টার‘স মেন’ প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। ২ ফেব্রুয়ারী, মঙ্গলবার বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতে আইএসপিআরের সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খানের পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রচারিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে আল জাজিরার প্রতিবেদনটির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হচ্ছে অভিযোগ করে আইএসপিআর বলেছে, দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার অসৎ উদ্দেশ্যে এ প্রতবেদন করা হয়েছে। যারা আগেও দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করেছে, তারাই এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

প্রতিবেদনে ইসরায়েল থেকে মোবাইলে নজরদারি প্রযুক্তি কেনার যে তথ্য দেয়া হয়েছে, তা পুরোপুরি ভুল বলে অভিহিত করেছে আইএসপিআর। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতিসংঘের একটি শান্তিরক্ষী মিশনের জন্য হাঙ্গেরি থেকে এ প্রযুক্তি কেনা হয়। এছাড়া প্রতিবেদনে দেখানো আরও নানা বিষয়েও প্রতিবাদ জানিয়েছে আইএসপিআর।

কোনো কিছুই লুকিয়ে থাকবে না: সাংবাদিক কাজল
নির্যাতিত সাংবাদিক কাজল আল জাজিরার প্রতিবেদন সম্পর্কে টুইট করেছেন, দুনিয়ায় যা কিছু গোপন ছিল তা সব প্রকাশ হয়ে যাবে। সুইডেনে নির্বাসিত সাংবাদিক তাসনিম খলিল’র একটি টুইটের প্রতিক্রিয়ায় কাজল এই টুইট করেন। তাসনিম খলিল একই সঙ্গে নেত্র নিউজ সম্পাদক ও প্রামাণ্য চিত্রের অন্যতম প্রদায়ক।

সাংবাদিক কাজল’র পুরো টুইট করা বক্তব্য এখানে হুবহু তুলে ধরা হলো: “আমাকে ১১ জনের সিন্ডিকেট মিলে গুম করেছিল পাপিয়া কান্ড ই বদলিয়ে দিয়েছে সামগ্রিক চিত্র।

দুনিয়ায় যা কিছু গোপন ছিল তা সব প্রকাশ হয়ে যাবে। অনাচার পাপাচার,ব্যভিচার,লুটপাট, মুদ্রা পাচার,সহ সকল অন্যায়, অ ন্যায্য কর্মকান্ড কোন কিছুই লুকিয়ে থাকবে না।”

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close