নিউজ

ভাস্কর্য বিতর্ক মাঠ থেকে আদালতে: দেশের শীর্ষ ৬ নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

খালেদা, তারেক, ফখরুল, বাবুনগরী, মামুনুল ও ফয়জুলের বিরুদ্ধে মামলা ।। প্রধানমন্ত্রীর চোখে পড়ার জন্য অনেকবার মামলা করেছেন এই বাদী ।। ভাস্কর্য নিয়ে মামলা ইসলাম ও দেশবিরোধী বহুমুখী চক্রান্তের অংশ: ফয়জুল করীম ।। জুনায়েদ বাবুনগরীকে আফগানিস্তান পাঠিয়ে দেয়ার হুঁশিয়ারি তাপসের

খালেদা, তারেক, ফখরুল, বাবুনগরী, মামুনুল ও ফয়জুল

সুরমা ডেস্ক
লণ্ডন, ১০ ডিসেম্বর – বাংলাদেশের ভাস্কর্য বিতর্ক এবার আদালতে গড়িয়েছে। ভাস্কর্যবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মোহাম্মদ মামুনুল হক এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নেতা সৈয়দ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। মজার ব্যাপার হলো যে, এই বাদী প্রধানমন্ত্রীর চোখে পড়ার জন্য আরো অনেকবার এধরণের মামলা করেছেন বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ আসিফ নজরুল। এই মামলার প্রতিক্রিয়া তিনি তাঁর এক ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন Ñ ‘এই মামলার বাদী খালেদা জিয়া ও বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে আরো অনেক মামলা করেছিলো আগে। নিজে বলেছিল যে, সে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করে প্রধানমন্ত্রীর চোখে পড়ার জন্য। পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল তার এ বক্তব্য।’
৯ ডিসেম্বর, বুধবার বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালতে ‘মানহানির’ এ মামলা দায়ের করেন তিনি। আদালত বুধবার বাদীর বক্তব্য শুনে পরে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।
মামলার আরজিতে বাদী এ বি সিদ্দিকী দাবি করেন, গত ১৩ নভেম্বর রাজধানীর তোপখানা রোডের বিএমএ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় আসামি মামুনুল হক ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। আর জুনায়েদ বাবুনগরী গত ২৭ নভেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এক সভায় ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্য দেন। এ ছাড়াও, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সামনে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের একটি জনসভায় ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্য দেন সৈয়দ ফয়জুল করীম। এর আগে, খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার সরকারকে পতন ঘটানোর হুমকি দিয়েছিলেন।

ভাস্কর্য নিয়ে মামলা ইসলাম ও দেশবিরোধী বহুমুখী
চক্রান্তের অংশ: ফয়জুল করীম

ভাস্কর্য ইস্যুতে ইসলাম ও দেশবিরোধী চক্রান্ত চলছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। তিনি বলেছেন, ‘ভাস্কর্য নিয়ে ইসলামের দৃষ্টিতে মতামত দেওয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হচ্ছে। এসব কর্মকা- ইসলাম, দেশ, স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ববিরোধী বহুমুখী চক্রান্তের অংশ।’
তিনি বলেন, ‘এসব চক্রান্তের পেছনে ভিনদেশী দালাল আছে। তারা অনৈক্য সৃষ্টি করতে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে মেতেছেন। ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ দেশপ্রেমিক ঈমানদারদের সজাগ থেকে সাহসিকতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।’
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানাপল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পরিষদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এই প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পরিষদের সভাপতি শহিদুল ইসলাম কবির।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘আমার বাবা ও দাদা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অপরাধমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে দেশব্যাপী মাহফিলের মাধ্যমে লাখো অপরাধীকে সোনার মানুষে পরিণত করেছেন। এজন্য চরমোনাই পীর সাহেবের (রহ.) মতো মনীষীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না দিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী আখ্যা দেওয়া দুঃখজনক।

জুনায়েদ বাবুনগরীকে আফগানিস্তান পাঠিয়ে দেয়ার হুঁশিয়ারি তাপসের

হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীকে আফগানিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনে বাধা এবং তা ভাঙচুরের প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে সুপ্রিমকোর্ট আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বাবুনগরীকে উদ্দেশ করে তাপস বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বাংলার মাটিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি কটূক্তি, বঙ্গবন্ধুর প্রতি আঘাত, বাংলার স্বাধীনতার ওপর আঘাত বাংলার দামাল ছেলেরা কোনো দিন বরদাস্ত করবে না। সুতরাং আপনারা নিবৃত্ত হবেন এবং এই দেশকে একটি শান্তির নীড় হিসেবে আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে সেই কাতারে আপনারা আসবেন আর না হলে আপনারা যে স্লোগান এক সময় দিয়েছিলেন, বাংলা হবে আফগান সেই আফগানিস্তানে আপনাদের পাঠিয়ে দেয়া হবে।
তিনি বলেন, জনাব বাবুনগরী আপনারা ভুলে গেছেন। মনে করেছেন, একটি ভাস্কর্য ভাঙলেই বুঝি মুক্তিযুদ্ধেও চেতনা নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা শান্তিপ্রিয়, সুন্দরভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলার জন্য আমরা নিয়োজিত আছি। কিন্তু তার মানে এই না যে, আপনারা পানি ঘোলা করে মুক্তিযুদ্ধেও চেতনায়, জাতির পিতার চেতনায় আঘাত করে আবার সেই জঙ্গিবাদে এই দেশকে নিয়ে যাবেন। সেই বাঙলা ভাই সৃষ্টি করবেন, সেই যুদ্ধাপরাধীদের আরেকবার ক্ষমতায় বসাবেন। সেই সুযোগ আর বাংলার মাটিতে আমরা হতে দিব না।
তিনি বলেন, সব মৌলবাদকে আমরা নিশ্চিহ্ন করে দিব এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সব প্রগতিশীল শক্তি আবার ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close