নিউজ

শ্বাসরুদ্ধকর নির্বাচন: হোয়াইট হাউসের দোরগোড়ায় জো বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাইডেন

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ৬ নভেম্বর – দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চরম তোলপাড় করা মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন প্রায় বিজয়ের পথে। আর মাত্র ৬টি ইলেক্টোরাল ভোট পেলেই যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াট হাউজে পদার্পন করবেন তিনি। তাঁর বিজয় যে প্রায় স্পষ্ট সেটাও মিশিগান বিজয়ের পর এক মন্তব্যে ব্যক্ত করেছেন বাইডেন। সম্ভাব্য পরাজয় আঁচ করতে পেরে অনেক আগেই তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিতর্কিত আচরণ করতে শুরু করেছেন, যা ইতোমধ্যে বিশ্বনেতাদের মুখে সমালোচিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের চূড়ান্ত ফায়সালা কি আদালতেই যাচ্ছে? সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে শেষ সংবাদ পাওয়া পর্যন্ত অনেক অপ্রত্যাশিত স্টেট সুইয়িং করে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে চলে আসায় বাইডেনের হোয়াইট হাউজে অভিষেক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। আর একই সাথে হঠাৎ করে রাজনীতিতে আসা এবং নানা বিতর্কিত মন্তব্য করে বিশ্বময় সমালোচিত হওয়া ট্রাম্পমুক্ত হতে চলেছে বিশ্ব রাজনীতির সূতিকাগার, আমেরিকান প্রেসিডেন্সি ভবন হোয়াইট হাউজ।
গত ৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রায় সমাপ্তির পথে। শেষ মুহূর্তে কয়েকটি স্টেটের ফলাফল পরিষ্কার না হওয়ায় চূড়ান্ত বিজয়ী কে, তা বলা যাচ্ছে না। তবে প্রায় শেষ পর্যায়ের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে স্মরণকালের চরমতম হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন এ পর্যন্ত ২৬৪টি ভোট পেয়েছেন। ২৭০টি ভোট পেলেই প্রেসিডেন্ট যেকোনো প্রার্থী। আর মাত্র ৬টি ইলেক্টোরাল ভোট পেলেই জয় নিশ্চিত হবে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের, যা তিনি সর্বশেষ স্টেটগুলোর চূড়ান্ত ফলাফলে বিজয়ী হলেই নিশ্চিত হতে পারবেন। আর রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পেয়েছেন ২১৪টি ইলেক্টোরাল ভোট।
অনেক ভাট গণনা বাকি থাকতেই নিজেকে বিজয়ী দাবী করে নির্বাচন বন্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর এইবিশ্বে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। ‘যুক্তরাষ্ট্রে সাংবিধানিক সঙ্কট সৃষ্টি করতে পারেন ট্রাম্প’-এমন প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যানেগ্রেট ক্রাম্প-কারেনবাউয়ার। এছাড়া কাল্পনিক বিজয় ঘোষণার জন্য ফেইসবুক এবং টুইটার তাঁর বিরুদ্ধে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ট্রাম্পের আগাম বিজয় ঘোষণায় ব্যাপক সমালোচনা উঠেছে মিডিয়ায়, রাজনৈতিক মহলে। মিডিয়ায় তার এমন ঘোষণাকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। রাশিয়ান টিভিতে এই নির্বাচনকে ‘উন্মাদনা’ বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই নির্বাচনের ফলে কি সেখানে রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও পরিবর্তন ঘটছে — এমন আলোচনাও চলছে সর্বত্র। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে, রাজ্যে শুরু হয়েছে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ। তাতে ধ্বস্তাধ্বস্তিও হয়েছে।

হোয়াইট হাউজের সামনে উল্লসিত বাইডেন সমর্থকদের অবস্থান:

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মার্কিন নির্বাচনে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না হলেও হায়াইট হাউজের সামনে অবস্থান নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের সমর্থকেরা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কয়েকশ’ বাইডেন সমর্থক সেখানে জড়ো হয়ে উৎসব শুরু করে দেন। নাচ-গানের মধ্য দিয়ে তারা ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতায় ফেরার আগাম উদযাপন শুরু করেছেন। বাইডেন সমর্থকদের ভাষায় এটা ট্রাম্পের বিদায় অনুষ্ঠান। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
সম্প্রতি হোয়াইট হাউজের সামনের চত্বরটির নাম ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার প্লাজা নামকরণ করেন ওয়াশিংটনের মেয়র। গ্রীষ্মর বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধীরা সেখানে অবস্থান নিলে জায়গাটি সুপরিচিত হয়ে ওঠে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাইডেন:

প্রেসিডেন্ট না হয়েও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ার রেকর্ড গড়েছেন বাইডেন। গণনা শেষ হওয়ার আগেই যে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের চেয়ে বেশী ভোট পেয়েছেন তিনি। ২০০৮ সালে গড়া বারাক ওবামার রেকর্ড ভেঙে বাইডেন ইতোমধ্যে প্রায় সাত কোটির বেশি ভোট পেয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে তিনি প্রায় ২৫ লাখ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রেকর্ড টার্নআউট হয়েছে। দেশটির যোগ্য নাগরিকদের মধ্যে এবারে ভোট দেওয়ার হার নিয়ে গড়া এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগের রেকর্ড ভেঙে গেছে। এনবিসি নিউজের প্রজেকশন অনুযায়ী, এবারে অন্তত ১৫ কোটি ৯৮ লাখ মার্কিন নাগরিক ভোট দিয়েছে। এর ফলে দেশটির যোগ্য নাগরিকদের মধ্যে এবার ভোট দেওয়ার হার ৬৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এর আগে দেশটির সর্বোচ্চ টার্নআউটের হার ছিলো ১৯০৮ সালে। সেবারে দেশটির ৬৫ শতাংশের বেশি যোগ্য নাগরিক ভোট দেয়।
এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি নাগরিকের ভোট পেয়ে নির্বাচিত হওয়া প্রেসিডেন্ট হলেন বারাক ওবামা। ২০০৮ সালে তিনি ৬ কোটি ৯৪ লাখের বেশি ভোট পেয়ে ওই রেকর্ড গড়েন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close