নিউজ

সরকারের পয়েন্ট-বেইজড ইমিগ্রেশন সিস্টেম এডভাইজারি কমিটির প্রত্যাখ্যান, ২৫ হাজার ৬শ পাউণ্ড বেতনের নতুন শর্ত

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ৩০ জানুয়ারী – ইনডিপেণ্ডেন্ট মাইগ্রেশন এডভাইজারী কমিটি (ম্যাক) সরকারের অস্ট্রিলিয়ান পয়েন্ট-বেইজড সিস্টেম ইমিগ্রেশন বা অভিবাসন নীতি প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি বিদেশী কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্ব নির্ধারিত বেতনের পরিমাণ হ্রাস করে নতুন প্রস্তাবনা দিয়েছে। নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী নন-ইইউ দেশের একজন বিদেশী কর্মীকে বছরে ২৫ হাজার ৬শ পাউণ্ড বেতন পেলে চলবে। আগের নিয়ম অনুয়ায় যা ছিলো বছরে ৩০ হাজার পাউণ্ড। একই সাথে ব্রেক্সিট উত্তর ইইউ নাগরিকদের অবাধ চলাচলের সমাপ্তিসহ বৃটেনের পুরো অভিবাসন নীতি কী হবে, সেটির পুরো একটি চিত্র তুলে ধরেছে এডভাইজারি কমিটি তাদের নতুন এই প্রস্তাবনায়। সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ করে কমিটি বলেছে যে, বিষয়টির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরীক্ষা-নীরিক্ষা করার মতো যথেষ্ট সময় নেই। কারণ ট্রান্সিশন প্রিয়ট তথা স্থানান্তরের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে যদি নিয়োগকর্তা প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিকল্পনা করার যথেষ্ট সময় থাকা প্রয়োজন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বহির্ভূত অভিবাসীদের জন্য বর্তমানে বৃটেনে আসার মূল পথ হলো যে, তাদের চাকুরী থাকতে হবে। আর স্কীলড বা দক্ষ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বর্তমান

ইতোপূর্বে অবশ্য বেতন দেওয়ার যে শর্ত রয়েছে, সেটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো ব্রিটিশ সরকার। গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি উল্লেখও করেছিলেন। এরই প্রেক্ষিতে এডভাইজারি কমিটি এই নতুন প্রস্তাবনা পেশ করে। তাদের প্রস্তাবনা যে সরকারকে মানতেই হবে তেমন বাধ্যবাধকতা নেই। তবে টোরি সরকারের ঘোষিত ম্যানিফেস্টু অনুযায়ী ব্রেক্সিট পরবর্তী ইইউ এবং নন-ইইউ লোকদের জন্য একই নিয়ম অনুযায়ী ইমিগ্রেশন সিস্টেট চালু নিয়ে সরকার একরকম চাপের মধ্যে রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান ধাঁচের ইমিগ্রেশন সিস্টেম কীভাবে কার্যকর হতে পারে সেটির কোনো ধরণের ব্যাখ্যা ছাড়াই কয়েক মাস ধরে তা চালুর ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলো সরকার। এডভাইজারি কমিটির প্রস্তাবিত এই মডেল ইউকের অর্থনীতির জন্য উপযুক্ত কীনা সেটির একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন বহন করছে।

কমিটি তাদের প্রস্তাবনার সিদ্ধান্তে বলেছে, সরকার যদি পয়েন্ট-বেইজড সিস্টেম চায় তবে তা কোনো কাজের অফার বা প্রস্তাব ছাড়াই শুধু দক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজ্য হবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী একজন নন-ইইউ অভিবাসীকে যুক্তরাজ্যে আসতে হলে কাজ থাকতে হবে এবং পারিশ্রামিক হতে হবে ৩০ হাজার পাউণ্ড। নুতন ঘোষিত প্রস্তাবনায় শিক্ষক, নার্সসহ কর্মজীবন শুরু করতে আগ্রহীদের যোগ্যতা অর্জন সহজতর করতে আগের বেতন কাঠামো থেকে ৪,৪০০ কমিয়ে ২৫,৬০০ পাউণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, হোম সেক্রেটারি প্রীতি প্যাটাল গত বছর মাইগ্রেশন এডভাইজারি কমিটিকে অস্ট্রেলিয়ান পয়েন্ট-বেইজড সিস্টেম কীভাবে কাজ করে তা নিয়ে গবেষণা করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। সেই অনুরোধের প্রেক্ষিতে মাইগ্রেশন এডভাইজারি কমিটি নতুন এই প্রস্তাব পেশ করে। নতুন এই প্রস্তাবনা কেবিনেট সদস্যদের টেবিলে বিবেচনা করা হতে পারে বলেও অভিমত ব্যক্ত হোম সেক্রেটারি বলেন, আমি মনি করি যে ব্রিটিশ জনগণ ইমিগ্রেশনের ক্ষেত্রে ভোটের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের রায় দিয়েছে সেটির স্বীকৃতি দেওয়া জরুরী।

সম্প্রতি কেবিনেট মিটিংয়ে বরিস জনসন বলেছিলেন যে, ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ের জন্য সরকার যে অভিবাসন নীতি প্রণয়ন করতে যাচ্ছে, আয়ের ওই শর্ত তার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গত এক দশক ধরে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতি থেকে অনেকখানি সরে এল। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা, প্রকৌশল, রেস্তোরাঁ খাতসহ বিভিন্ন কাজে বিদেশী কর্মী নিয়োগের সবচেয়ে বড় বাধা দূর হবে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close