সম্পাদকীয়

কাতার বিশ্বকাপ ২০২২

এ সপ্তাহের সম্পাদকীয় || ইস্যু: ২২৭৭

২০ নভেম্বর থেকে শুরু হলো ফুটবলের সবচেয়ে জমজমাট আন্তর্জাতিক আসর  বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২২। কাতারের রাজধানী দোহায় এই বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে অনন্য এক অধ্যায় রচনা করেছে। সাড়ে তিন শ’  বিলিয়নেরও অধিক ব্যয়ে ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ বিশ্বকাপ কাতারকে এক অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের এই মুসলিম দেশটির উদারতা পশ্চিমা জগত ঈর্ষা ও এক ধরনের প্রচ্ছন্ন বর্ণবাদী মানসিকতায় আচ্ছন্ন করতে গিয়ে বিশ্বব্যাপী বিতর্কের সূচনা করেছে। প্রসঙ্গ তুলেছে,  আটটি বৈচিত্রপূর্ণ স্টেডিয়াম নির্মাণে ৬৫০০ শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে। মূলত স্টেডিয়াম এবং স্টেডিয়ামগুলোর সঙ্গে সংযোগকারী রেল প্রতিষ্ঠার কাজটি করেছে পশ্চিমের নামিদামি নির্মাণ কোম্পানি। সুতরাং এই দুর্ঘটনার জন্য মৃত্যুর দায় এবং তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের দায়ও কিন্তু ওই কোম্পানিগুলোর। এ বিষয়গুলোকে হাইলাইট না করে তাদের উদারতা ওসাফল্যকে ম্লান করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কাতার আজকের দুনিয়ায় শুধু অর্থ দিয়ে নয়, মেধা মূল্যবোধ ও পরিকল্পনা দিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই বিপুল ব্যায়ের বিশ্বকাপকে অর্থবহ করতে ও ইসলামের শান্তির মূল্যবোধ তুলে ধরতে ডক্টর জাকির নায়েককে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। বিমানবন্দর থেকে স্টেডিয়াম গুলো সর্বত্র ইসলামের মহান বাণীকে তুলে ধরা হয়েছে। ফুটবলের মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি  প্রতিষ্টায় ধর্মীয় মূল্যবোধকে কাজে লাগানোর গভীর দর্শনকে কাজে লাগানোর এই প্রচেষ্টা নতুন শতাব্দীতে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। ফুটবল এর মাধ্যমে বিশ্বে ভারসাম্য, মূল্যবোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইতিহাসের উজ্জ্বলতা তুলে ধরার চেষ্টাকে ভালোভাবে নেয়নি পশ্চিমা মিডিয়া। তারা মধ্যপ্রাচ্চে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক সমকামিতাসহ নানা বিষয় উত্থাপন করে তাদের সীমাবদ্ধতাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু কাতার প্রতিষ্ঠা করেছে সর্বজনীন মূল্যবোধ ও শান্তির বাণী।

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্টিনো স্পষ্ট ভাবে বলেছেন ইউরোপ গত তিন হাজার বছর যা করেছে তার জন্য আগামী তিন হাজার বছর বিশ্বের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করা উচিত। ফুটবলের মাধ্যমে শান্তি স্মৃতিশীলতা ও মূল্যবোধের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হোক প্রেসিডেন্টসহ সকল ফিফা কর্মকর্তা ও কাতার সরকারের প্রতি আমাদের আন্তরিক অভিনন্দন।

বিশ্বকাপের জমজমাট আসর সফল ও আনন্দময় হোক। 

নিউজ

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close