মুক্তকথা

সোশ্যাল মিডিয়া রিভিউ

।। হাসনাত আরিয়ান খান ।।
লেখক: সাংবাদিক ও সংবাদ বিশ্লেষক

সাপ্তাহিক সুরমা’র প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনের অগণিত পাঠকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি। আমাদের এই ইন্টারনেট-নির্ভর ডিজিটাল যুগে আমরা কম-বেশি সবাই-ই কোনো না কোনো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সাথে যুক্ত আছি। ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী এক গণনাতে দেখা গেছে যে, ফেইসবুক, টুইটার, লিঙ্কডইন, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, পিন্টারেস্ট, ইউটিউব, নানান ধরণের সোশ্যাল মিডিয়াতে ৪.৫৫ বিলিয়নেরও বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী আছে। যেখানে মানুষ ভার্চুয়ালি নিজেদের ধারণা, চিন্তা-ভাবনা ও তথ্য শেয়ার করছে। ২০১৯ সালের এক গণনাতে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশে প্রায় ১০ কোটি লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। সোশ্যাল মিডিয়ার শক্তি যেমন দিন দিন বাড়ছে তেমনি সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তাও দিন দিন বাড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত হওয়ার প্রথম দিকে আমি লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মাঝে মাঝে শখ করে রিভিউ লিখতাম। সেই রিভিউ সবাই পড়তেন এবং নিয়মিত লিখতে অনুরোধ করতেন। এরপর যখন নিয়মিত লিখতে শুরু করলাম তখন অনেকেই পত্রিকায় লিখতে অনুরোধ করলেন। ‘সাপ্তাহিক সুরমা’র সম্পাদক মহোদয় যেহেতু প্রথমে বলেছেন, কাজেই এখন থেকে আমি সাপ্তাহিক সুরমায় নিয়মিত ‘সোশ্যাল মিডিয়া রিভিউ’ দেওয়ার চেষ্টা করবো এবং পাঠক যতদিন পছন্দ করবেন বা চাইবেন ততদিন লেখা চালিয়ে যাবো। বাংলাদেশে যেহেতু ফেইসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের জনপ্রিয়তা বেশি কাজেই রিভিউ দেওয়ার ক্ষেত্রে আমি এই কয়েকটা মিডিয়াকে বেশি প্রাধান্য দিবো। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি আলোচিত, সমালোচিত ও জনপ্রিয়তা পাবে, সেই বিষয়গুলোই মূলত: আমার রিভিউয়ে উঠে আসবে। সেইসাথে মন্তব্যকারীদের যে মন্তব্যগুলো পাঠক পছন্দ করবে বা সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পাবে সেই মন্তব্যগুলো এতে যুক্ত করা হবে। চলুন শুরু করা যাক:

১। নভেম্বর মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে বিষয়গুলো নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে তার মধ্যে কৃষিবিজ্ঞানীকে নিয়ে একাত্তর টিভি’র টক শো শীর্ষে অবস্থান করছে। বেগুনে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান রয়েছে — এমন গবেষণা নিয়ে গবেষক অধ্যাপক ড. জাকির হোসাইনকে একাত্তর টিভি’র টক শোতে  অপদস্থ করার পর থেকে অনুষ্ঠানের উপস্থাপক সাংবাদিক মিথিলা ফারজানা ও অংশগ্রহণকারী অপর দুই সাংবাদিক মাসুদা ভাট্রি ও উদিসা ইসলামকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় চলছে। অনুসন্ধানী রিপোর্টিংয়ে সারাবিশ্বে যেখানে বিজ্ঞান সাংবাদিকতা এবং বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান টুলের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে, এমনকি সন্দেহজনক বৈজ্ঞানিক ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রেও যেখানে সাংবাদিকরা এসব টুল কাজে লাগাচ্ছেন, সেখানে একাত্তর টিভি’র এই ঘটনায় প্রমাণ করে যে বিজ্ঞান সাংবাদিকতায় আমাদের দেশের সাংবাদিকরা কতটা পিছিয়ে আছেন। টক শো দেখে একাত্তর টিভি’র তিন নারী সাংবাদিককে কেউ বলছেন, “…তিন মূর্খ মহিলা-সাংবাদিক একজন কৃষিবিজ্ঞানীর নতুন গবেষণা নিয়ে যেসব হাস্যকর, বিরক্তিকর, অশালীন, অশ্লীল, উদ্ভট মন্তব্য করেছেন, এবং গবেষককে যেভাবে অপমান আর অপদস্থ করেছেন তা দেখে হতবাক হয়ে গেলাম। বাংলাদেশ বলেই বোধহয় এমন গণ্ডমূর্খের দল শুধু সরকারের চাটুকারবৃত্তিতে পারদর্শিতার গুণে নানা প্রতিষ্ঠানের উচ্চস্থানে বসার সুযোগ পেয়েছেন। বিজ্ঞান সম্পর্কে, বৈজ্ঞানিক গবেষণা সম্পর্কে, গবেষণাপত্র প্রকাশ সম্পর্কে যাঁদের ন্যূনতম জ্ঞান নেই, তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গবেষকের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতে! একাত্তর টিভির উচিত ছিল গবেষকের নতুন গবেষণা নিয়ে আলোচনা করার জন্য গবেষণা সম্পর্কে সম্যক ধারণা আছে এমন একজন বিজ্ঞানী বা বিজ্ঞানমনস্ক কোনও জ্ঞানী ব্যক্তিকে নির্বাচন করা। আজকাল টেলিভিশনে এমন হয়েছে, ঘটে দু’ছটাক বুদ্ধি নেই, এমন মেয়েদেরও টিভি-ক্যামেরার সামনে কিছু বুলি শিখিয়ে বসিয়ে দেওয়া হয় যাদের সম্বল বলতে সুন্দর নাক চোখ মুখ, সুন্দর পোশাক আশাক, সুন্দর দেহসৌষ্ঠব। তারাই খবর পড়ে, তারাই রাজনীতিকের সঙ্গে আলোচনায় বসে, তারাই বিজ্ঞানীকে প্রশ্ন করে, অর্থনীতি বিষয়ে জ্ঞানদান করে, শিল্প সাহিত্য নিয়ে মত প্রকাশ করে। জনগণ এদের দেখছে প্রতিদিন, এরাই হয়ে উঠছে জনপ্রিয়, এরাই হয়ে উঠছে বরেণ্য সাংবাদিক বুদ্ধিজীবী। দেশ যখন রসাতলে যায়, এভাবেই যায়।” কেউ বলছেন, “…মূর্খতার সীমা ছাড়িয়েছে ওই ত্রয়ীর প্রশ্নাবলী। মিথিলা ফারজানা তার সাক্ষাৎকার শুরুই করলেন, ‘বেগুনে ক্যান্সারের কোষ পাওয়া গেছে’ এই উক্তি দিয়ে। ব্যাপারটা এরকম যে ক্যান্সারের কোষের হাত পা আছে এবং তা লাফাতে লাফাতে বেগুনে গিয়ে ভর করেছে। উনি যদি কিঞ্চিৎ পড়াশুনা করে আসতেন এই সাক্ষাৎকার গ্রহণের আগে তাহলে জানতেন ক্যান্সারের কোষ বেগুনে পাওয়া যায়নি বা মানব দেহের ক্যান্সার কোষ বেগুনে থাকার কথা নয়, কিছু ধাতুর মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে অস্তিত্ব পাওয়া গেছে গবেষণার নমুনাতে যা ভক্ষণ করলে ঐ পদার্থগুলি মানব দেহে প্রবেশ করতে পারে যা কিনা ক্যান্সার সৃষ্টির পক্ষে অনুকূল। মিথিলা ফারজানার যে গোড়তেই গলদ সেটা অধ্যাপক হোসেন শুরুতেই বলে নিলেন, আপনার উপস্থাপনা যেভাবে হয়েছে , মেসেজ কিন্তু সেটা নয়। এর পরে অধ্যাপক হোসেন যেই বিষয়টি নিয়ে কেবল আলোচনা শুরু করবেন, তখনি মাসুদা ভাট্টি ঝাঁপিয়ে পড়লেন এই বলে যে এই গবেষণার কারণে বেগুনে ক্যান্সারের ‘জীবানু’র অস্তিত্ব বাংলাদেশ জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। মাসুদা ভাট্টি হয়ত জানেননা ক্যান্সারের জীবানু বলতে কিছু নেই। কার্সিনোজেনিক মানে জানেনা বারবার বলছে ক্যান্সারের জীবানু। ক্যান্সারের যে জীবানু হয়না সেটাই জানেনা। ক্যান্সার জীবাণুর মাধ্যমে হলে এতদিনে হয়ত ক্যান্সারের টীকাও আবিষ্কার হয়ে যেত! বৈজ্ঞানিক গবেষণার স্তর নিয়ে সামান্য ধারণা নেই। অধ্যাপক জাকির হোসেন আবারও যখন বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির অবসান করতে যাবেন তখনি একসাথে তিন সাংবাদিক কথা বলা শুরু করলেন। এর পর অধ্যাপক হোসেন যখন বিষয়টি ব্যাখ্যা শুরু করলেন কিছুক্ষণের মধ্যেই মিথিলা ফারজানা বলে উঠলেন যে অধ্যাপক সাহেব যা বললেন তার একটা বর্ণও তারা তিন জনের একজনেও বোঝেন নাই। একটা বৈজ্ঞানিক গবেষণা নিয়ে উনি সাক্ষাৎকার নিতে এসেছেন তার জন্য ন্যুনতম যতটুকু প্রস্তুতি লাগে তার কিয়দংশও যদি করে আসতেন তাহলে উনি জানতেন কার্সিনোজেনিক মানে যা ক্যান্সার তৈরি করতে পারে। এর পরে মাসুদা ভাট্টির প্রশ্ন জাগল, নমুনা হিসেবে কেন বেগুন নেয়া হল? কেন ঝিঙা নেয়া হল না! ভাগ্যিস আলু, পটল, লাউ এগুলো নিয়ে আগ্রহ দেখাননি। গবেষক অধ্যাপক জাকির হোসেন ব্যাপারটা একটু ব্যাখ্যা শুরু করার পরে মাসুদা ভাট্টি শুরু করলেন কেন এই বিষয়টাকে পাবলিক করা হল? পাশে ঝিঙে খেত, কেন ঝিঙে পরীক্ষা করলেন না, এটাও একটা প্রশ্ন! ভাবা যায়! আলুপোস্ত রাধতে বসে এই মহিলাদের পাশে করলা ছিল, কেন করলা পোস্ত করলেন না জিজ্ঞাসা করা যাবে?” কেউ বলছেন, “…সরকার সমস্যায় পড়বে এই ভাবনায় পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে তিনজন যেনো আয়োজন করেই বসেছে এই বিজ্ঞানীকে নাজেহাল করবে। তাদের যে অ্যাপ্রোচ ছিলো তাতে সেটা খুব স্পষ্ট। আপনার হাতে মাইক্রোফোন আর ক্যামেরার ক্ষমতা আছে বলেই আপনি একজন বিজ্ঞানীকে এইভাবে চেপে ধরে নাস্তানাবুদ করবেন? আপনাদের এই মাইক্রোফোন আর ক্যামেরা কি অপব্যবহারের জন্য? সায়েন্টিফিক রিপোর্টস যে নেচার পোর্টফলিও প্রকাশনা সংস্থার একটি প্রকাশনা সেটা বোঝার মত একজন মানুষও আপনাদের নেই? এইসব অপব্যবহারের কারণে সাংবাদিক, টিভি চ্যানেল, পত্রিকার প্রতি আস্থা কমছে মানুষের। জাকির হোসেন সাহেব কি ডক্টর হয়েছেন দলীয় বিবেচনায়? তিনি কি বাকৃবিতে রসায়নের শিক্ষক হয়েছেন জাল সার্টিফিকেট দিয়ে? তাহলে কেনো একজন সামাজিকভাবে শ্রদ্ধেয় মানুষকে এরকম বাজে ভাবে লাহ্নিত করা হলো? এরপর কি কেউ যাবেন টকশোতে ফাজলামীর শিকার হতে? গবেষক বারবার বলছেন, আমরা হেভিমেটালের অস্তিত্ব পেয়েছি। যা থেকে একটা সময় ক্যান্সারের সম্ভবনা দেখা যেতে পারে। তিন নারী একবারও তার কথা মন দিয়ে শুনলেন না। তারা তাকে চেপে ধরলেন, হেভিমেটাল মানে এমন কিছু যে খাওয়া মাত্রই একটা মানুষকে কেমোথেরাপি দিতে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। এটা প্রকাশ করে তিনি ভয়ংকর ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের সাথে যতটুক সম্মান সুলভ আচরণ করা উচিৎ তারা তার কিছুই করেননি। সাংবাদিক হিসেবে তারা ন্যুনতম হোম ওয়ার্ক করে আসেননি। এমনকি সাক্ষাৎকারের শুরুতেই অধ্যাপক জাকির হোসেন বিষয়টিতে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে সেটি উল্লেখ করলেও তার কোন গুরুত্ব দেননি কেউই। বলতে গেলে শুরু থেকেই তাকে থামিয়ে দেয়া হয়েছে বার বার। অধ্যাপক হোসেন নেহায়েত ভদ্র মানুষ বলে শেষ পর্যন্ত ছিলেন, অন্য কেউ হলে সাক্ষাৎকারের মাঝখানেই হয়ত চড়া গলার কিছু কথা বলে সসম্মানে বের হয়ে আসতেন। সাংবাদিকতার জন্য যতটুক জ্ঞান থাকা উচিৎ, যতটুকু শোভন হওয়া উচিৎ তার কোনটাই তাদের ছিল না। সাংবাদিকদের তাদের পেশার প্রতি আরও যত্নবান হওয়া উচিত, বিশেষত সাংবাদিকতার মত মহান একটি পেশার নৈতিক দিকটাতে তাদের আরও গুরুত্ব দেয়া উচিত।” আবার কেউ বলছেন, “…একাত্তর টিভিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় তিন নারীবাদী ছাগলের কথাবার্তা একটু মনযোগ দিয়ে শুনলে একটা জিনিস বুঝতে পারবেন। তাদের মূল আপত্তিটা হলো, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়া হয় নাই কেন? গবেষণা করেন, পাবলিশ করেন, সব করেন কিন্তু অনুমতি নিয়েছেন? কেন নেন নাই? অনুমতি যে নেন নাই, এখন কি হবে? হাইপোথেটিকালি, এই অনুষ্ঠানে যদি ওবায়দুল কাদের জয়েন করে বলতো যে গবেষণা অনুমতি নিয়ে হয়েছে এবং এটা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ গবেষণা এবং এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কায়েম হয়েছে। সাথে সাথে সাংবাদিক নামের এই তিন গান্ডু খাড়ার উপর ইউটার্ন নিয়ে প্রফেসরকে চাটতে শুরু করতো। তারা আলোচনা নয়, অ্যাকটিভিজম করছিলেন। অন্ধ রাজা রানীদের দেশে অন্ধরাই শাসন করে। দু’পাশে সব নমুনা। কলেজের গণ্ডি না ছোঁয়া বা না পেরোনো খেলোয়াড়, রাজনীতির ক্লাউন, মমতাজের মত নর্তকী, সিনেমা শিল্পীরাই বড় বুদ্ধিজীবী। সুতরাং এটিই ট্রেন্ড এখন। গণ্ডরাই শাসন, শোষণ ও নিয়ন্ত্রণ করবে এদেশের সবকিছু। শুধুমাত্র শেখ হাসিনার গুনগান গাইতে পারবে এজন্য অবৈধভাবে এরকম গন্ড মূর্খ অর্ধ শিক্ষিত জ্ঞান প্রতিবন্ধী কোটায় চান্স পাওয়া মহিলাদের পার্লামেন্টের মত জায়গায় বসানো হয়েছে। যাদের রাজনীতি, বিজ্ঞান, সমাজনীতি অথবা রাষ্ট্রনীতি বিষয়ে কোনো রকম ন্যূনতম ধারণা নেই। এটা সব সম্ভবের দেশ।”সোশ্যাল মিডিয়ায় এত কথা শুনে কিছুক্ষণ আগে টক শো’টা দেখলাম ইউটিউবে। দেখে খুবই লজ্জা পেলাম। টক শো’তে একজন গবেষকের কাছে বড় গবেষকের মত করে জবাবদিহি আদায়ের অপচেষ্টা করা হয়েছে এবং গবেষককে অপদস্থ করা হয়েছে। গবেষকের কথা মনোযোগ সহকারে না শোনে তাকে বার বার থামিয়ে দেয়া হয়েছে। এটি কার্যত সাংবাদিকতা পেশাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যে কোন ম্যানেজমেন্ট কোর্সে  বা  ট্রেনিং এ  শিখানো হয় কিভাবে মনোযোগ সহকারে অন্যের কথা শুনতে হয়। কম বলা, বেশি শোনা বৈশ্বিক শ্লোগান। ল্যারি কিং এর টক শো যারা দেখেছেন তারা নিশ্চয় কম কথা বলে বেশি কথা আদায়ে তাঁর দক্ষতা ও সক্ষমতার বিষয়টি খেয়াল করেছেন। একজন উপস্থাপককে এমনই হতে হয়। একাত্তর টিভির এই অনুষ্ঠানটিরও মূল উদ্দেশ্য ছিলো বেগুনে ক্যানসারের উপাদান শনাক্তের খবরে জনমনে যেন বিভ্রান্তির সৃষ্টি না হয় সেদিকটা তুলে ধরা। কিন্তু অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের উপর্যুপরি ভুল তথ্যসমৃদ্ধ অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্নমালা এবং আমন্ত্রিত কৃষিবিজ্ঞানীকে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ায় অনুষ্ঠানটির উদ্দেশ্য সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংবাদিকদের নিয়ে এখন ক্রমাগত ট্রল চলছে। জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ মূল বিষয়টি আড়ালে পরে গেছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা সম্পর্কে যাদের ন্যুনতম ধারণা আছে তারাও জানেন যে একটি গবেষণা প্রবন্ধ ভাল একটি প্রকাশনায় প্রকাশ পাবার জন্য একটি প্রক্রিয়া আছে যাকে বলা হয় “পিয়ার রিভিউ”। এর মানে হচ্ছে নতুন কিছু প্রকাশের আগে সেটার খসড়া ঐ গবেষণার বিষয়বস্তুর সাথে যাদের পড়াশুনা আছে তারা যাচাই করে দেখেন। যে যাচাইয়ের ভিত্তিতে একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। গুগোলে সার্চ দিলে রেজাল্টে এই গবেষণাপত্র মেলা কষ্টকর কিছু নয়। স্প্রিংগার নেচার ও নেচার পোর্টফোলিও এবং সায়েন্টিফিক রিপোর্টস– এসব নাম, ট্যাগ বা ক্যাটাগরিগুলো অনেক ব্র্যান্ডের মতোই। রিসার্চগেট ডটনেট থেকে ১৫ পাতার পিডিএফ ফরম্যাট অনেকেই ডাউনলোড করেছে। নেচার ডটকম লিংকের সায়েন্টিফিক রিপোর্ট বিভাগে গত ২২ অগাস্ট পুরো গবেষণা প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছে। একজন বিজ্ঞানী হিসেবে সবার স্বাধীনতা আছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা করে সেটার ফলাফল প্রকাশ করার। পৃথিবীর সব দেশের নেচার পোর্টফোলিওতে গবেষণার ফল প্রকাশ পেলে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। নেচার পাবলিকেশনের কোন জার্নালে কিছু প্রকাশিত হলে সেটা নিয়ে সাড়া পড়ে যায়। এই গবেষণাটিও সাড়া ফেলেছে। আমার কাছে অবাক লেগেছে যে অনুষ্ঠানের অ্যাংকর সাংবাদিক ও অংশগ্রহণকারী অপর দুই সাংবাদিকের একজনও জানেন না এই গবেষণাটি ইতিমধ্যে এই প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে গিয়েছে এবং সেটি অত্যন্ত সম্মানজনক একটি বিজ্ঞান প্রকাশনায় প্রকাশিত হয়েছে। ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেটে স্বাস্থ্য নিয়ে হরেক গবেষণাপত্র প্রকাশ পায়। বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ানের মতো পত্রিকাগুলো সেসব নিয়ে নিউজ করে। সেই সব ইংরেজি খবরের বাংলা অনুবাদ দেশের পত্রিকাগুলোতেও প্রকাশিত হয়। দেড়শ বছর পুরোনো নেচার জার্নালের নামও নিশ্চিত এভাবে অনেকের নজরে পড়বে। কিন্তু এই তিনজনের নজরে কেনো পড়লো না, ঠিক বুঝতে পারলাম না। একজন গবেষক, একজন বিজ্ঞানীকে অনুষ্ঠানে এনে অবশ্যই অনেক ধরনের প্রশ্ন করা যাবে। যেন গবেষণার খুঁটিনাটি খোলাসা হয়। নমুনা হিসেবে কেন বেগুন নেয়া হল? কেন ঝিঙা নেয়া হল না? এই প্রশ্ন দোষের কিছু না। দোষটা হলো, এই বিষয়ে পড়াশোনা করে না আসা। একটু পড়াশোনা করে আসলে তারা গবেষক দলের প্রধান কৃষিবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. জাকির হোসেনকে প্রশ্ন করতে পারতেন, কী কী জাতের বেগুন নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে? রেফারেন্সের চেয়ে কী পরিমাণ বেশি ভারী ধাতু বেগুনে পাওয়া গেছে? টপসয়েল নমুনাতে কত মিমি-ইঞ্চি-ফুট গভীর পর্যন্ত মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে? কোন মেথডোলজিতে গবেষণা চলেছে? কীভাবে ডেটা অ্যানালিসিস হয়েছে? পৃথিবীর অন্য কোন দেশের বেগুনে কি ক্ষতিকারক ভারী ধাতু অতিমাত্রায় শনাক্ত হয়েছে? হয়ে থাকলে সেসব দেশে ক্যানসারের প্রবণতা কি বৃদ্ধি পেয়েছে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কি এই বিষয়ে কোন নির্দেশনা দিয়েছে? কৃষিবিজ্ঞানীর সাথে একজন স্বাস্থ্যবিদকে টক শো’তে এনে এরকম ভারী ধাতু থাকা বেগুন একজন মানুষ প্রতিদিন খেলে কী পরিণতি হতে পারে সেই প্রশ্ন করতে পারতেন। কৃষি অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তাকে এনে তারা কীভাবে নিরাপদ চাষাবাদ মনিটর করছেন সেই প্রশ্ন করতে পারতেন। তা না করে সাংবাদিক হিসেবে তারা খুবই অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন। সাংবাদিকতা একটা মহান পেশা। এ পেশায় সবচেয়ে বড় অহংকার শেষ পর্যন্ত মানুষ এবং মানুষের জন্য কাজ করার তৃপ্তি। কাজেই পেশাগত তাগিদেই একজন সাংবাদিককে প্রচুর পড়তে হয়, প্রচুর জানতে হয়। নিজের গরজেই সবসময় লেখাপড়া চালিয়ে যেতে হয়। হতে হয় সর্বভুক পাঠক। অন্যদের মতো একটা ডিগ্রি বা একটা সিলেবাস শেষ করে বাকি জীবন কাটানো সাংবাদিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই তাকে প্রতিদিন পড়তে হবে। অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি, পুরাণ,ইতিহাস, সমাজবিদ্যা, ধর্মশাস্ত্র, নন্দনশাস্ত্র, বিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, দর্শন সব পড়তে হয়। সেইসাথে সর্বস্তরের মানুষের জীবনপাঠ করতে হয়। চিন্তায় এগিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠ করতে হয়। পেশাগত দক্ষতা ও উৎকর্ষতার জন্য পাঠ করতে হয়। সাংবাদিক নাজিমুদ্দিন মোস্তান মারা যাওয়ার পর বিজ্ঞান সাংবাদিকতায় বাংলাদেশের সাংবাদিকদের দুর্দিন চলছে।  নাজিমুদ্দিন মোস্তানের মত একজন দক্ষ বিজ্ঞান সাংবাদিক হতে হলে বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক খবরাখবর সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল হতে হবে এবং নিজেকে ক্রমাগত আপ-টু-ডেট রাখতে হবে। এমআইটির নাইট সায়েন্স জার্নালিজম প্রোগ্রামের পরিচালক ডেবোরা ব্লাম বলেছেন, “সাংবাদিকদের ঘটনার পেছনের বিজ্ঞান বুঝতে হবে এবং তথ্যের ব্যাপারে অতি সতর্ক হতে হবে। অনেক সাংবাদিক আছেন, যাঁরা ডেটা মাইনিং করেন অর্থ্যাৎ ডেটাবেসে গভীর অনুসন্ধান চালান এবং কার্যকরভাবে ডেটা সংগ্রহ করেন, যা এখন ভালো অনুসন্ধানী রিপোর্টিংয়ের মূল অংশ হয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে ইন্টারনেট আমাদের সামনে এমন অনেক টুল এনে দিয়েছে, যা ব্যবহারের মাধ্যমে বিজ্ঞানকে যাচাই করা যায়। যেমন, কোনো  বিশেষ (রাসায়নিক) যৌগ নিয়ে অনুসন্ধানের বেলায় আমি পাবমেড ও গুগল স্কলার ব্যবহার করি, যাতে প্রতিটি প্রশ্নের পিছনে থাকা বিজ্ঞান এবং উৎসের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা যায়। আদতে অনেক অনলাইন ডেটাবেস ও রিসোর্স আছে, যা অনুসন্ধানী বিজ্ঞান সাংবাদিকতায় কাজে লাগে। পাবমেড এমন একটি ডেটাবেস, যেখানে প্রাসঙ্গিক বায়োমেডিকেল রচনার তিন কোটি ৩০ লাখের বেশি উদ্ধৃতি ও সারাংশ মিলবে। এমন আরও কয়েকটি হলো- ইউএস এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি (ইপিএ) পরিচালিত টক্সিকস রিলিজ ইনভেন্টরি; কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি ও সিটি কলেজ অব নিউ ইয়র্ক পরিচালিত টক্সিক ডকস্; সান ফ্রান্সিসকোর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফর্নিয়ার ইন্ডাস্ট্রি ডকুমেন্টস লাইব্রেরি, যেখানে কর্পোরেট নথি এবং অভ্যন্তরীণ বা অপ্রকাশিত রিপোর্টও পাওয়া যায়; এবং বিপজ্জনক খাদ্য-বহির্ভূত পণ্য চিহ্নিতকরণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, সেফটি গেট।” বাংলাদেশে বিজ্ঞান ও সমসাময়িক প্রযুক্তির জগতে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার আপডেট জানার জন্য আছে, সায়েন্স বী। দেশের প্রথম বিজ্ঞানভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ‘ডেইলি সায়েন্স’ সায়েন্স বী এর উদ্যোগে গড়ে তোলা একটি প্রোগ্রাম, যেখানে প্রতিদিনই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জগতের সর্বশেষ খবরাখবর সহ স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, টেকনোলজি ও সচেতনতামূলক নানা ধরনের আপডেট দেয়া হয়। এছাড়া বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও গবেষকদের নিয়ে অনুসন্ধানের জন্য সাংবাদিকেরা ইভান ওরানস্কির রিট্র্যাকশন ওয়াচ, নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির চার্লস সেইফির বিজ্ঞান অনুসন্ধান শিক্ষা ও যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনস্ট্রেশন এবং এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সিসহ বেশ কিছু অনলাইন উৎস ব্যবহার করতে পারেন। একাত্তর টিভির টক শো দেখে যারা গবেষক অধ্যাপক ড. জাকির হোসাইনের বেগুন নিয়ে গবেষণা ও তার ফলাফল নিয়ে আতংকে আছেন তাদের জন্য সংক্ষেপে বলছি- কৃষিবিজ্ঞানী ড. জাকির হোসাইন ও তাঁর দল জামালপুরের ইসলামপুর ও মেলান্দহ উপজেলার কয়েকটি স্থান থেকে বেগুন এবং বেগুন ক্ষেতের মাটি নিয়ে পরীক্ষা করে বেগুন ও মাটি উভয়ের ভেতরেই ক্যানসার সৃষ্টিকারী হেভি মেটাল বা ভারী ধাতু লেড, ক্যাডমিয়াম ও নিকেলের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। এই বিষাক্ত ধাতুগুলোর উপস্থিতি মাটি ও বেগুন উভয় ক্ষেত্রেই স্বাভাবিকের চেয়ে উচ্চ মাত্রায় পরিলক্ষিত হয়। গাণিতিকভাবে ক্যানসার রিস্ক অ্যানালাইসিস করে তারা দেখতে পেয়েছেন, দীর্ঘ দিন ধরে এই উচ্চ হারে লেড, ক্যাডমিয়াম ও নিকেল আমাদের পেটে গেলে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকশ গুণ বেড়ে যাবে। তবে তাদের অ্যানালাইসিস বলছে, মাটিতে থাকা বিষাক্ত ধাতুগুলো থেকে স্কিন ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সায়েন্টিফিক রিপোর্টসে প্রকাশিত আলোচ্য গবেষণাপত্রের উপসংহারের শেষ লাইনটাও ছিল এমন যে বেগুন ছাড়াও অন্যান্য শস্য বা সবজিতে উচ্চহারে এই ধরনের ক্ষতিকর পদার্থ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য দরকার আরও বিস্তর গবেষণা। গবেষণার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরাবর তাদের সুপারিশ হচ্ছে, এই ভারী বিষাক্ত ধাতুগুলো কোন উৎস থেকে বেগুনে প্রবেশ করছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। বেগুন ক্ষেতের জমিতে যে উচ্চ মাত্রায় এই ধাতুগুলো রয়েছে, তা তারা নির্ণয় করেছেন। তবে মাটিতে এই ধাতুগুলো কীভাবে এলো, তা রয়ে গেছে অজানা। তাদের ধারণা, ভারী ধাতুগুলো সার, কীটনাশক বা পানি থেকে মাটিতে প্রবেশ করতে পারে। তবে তা নিশ্চিত করার জন্য দরকার আরও গবেষণা। এই হলো ব্যাপার। কাজেই আতংকের কিছু নেই। তবে সাবধানের মার নেই।

২। ৩রা নভেম্বর জেল হত্যা দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জেলে জাতীয় ৪ নেতা হত্যায় জিয়া ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসাড় বক্তব্য শুনে দেশের মানুষ যেমন প্রতিনিয়ত হাসাহাসি করেন, তেমনি তাঁর এই বক্তব্য শোনে সোশ্যাল মিডিয়ায় লোকজন হাসাহাসি করছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন করছেন, ৩রা নভেম্বরে তো জিয়াউর রহমান গৃহবন্দি ছিলেন, বন্দি অবস্থায় তিনি কিভাবে ৪ নেতা হত্যায় ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন? আপনি কি দেশের মানুষকে বোকা ভাবেন? গাধা ভাবেন? আর কত মিথ্যাচার করবেন? আবদুল হাই নামে একজন লিখেছেন, যারা আওয়ামীলীগ করেন এবং শেখ হাসিনার সুনজরে থাকতে চান তাঁরা জাতীয় চার নেতার প্রতি শুধুমাত্র ‘বিনম্র শ্রদ্ধা’ জানিয়ে কেটে পড়ার ধান্দায় আছেন। এই জাতীয় চার নেতাকে নিয়ে রাষ্ট্র যেসব দায়িত্ব পালন করছেনা, এসব নিয়ে তাঁরা ভয়ে মুখ খুলছেন না। আর শেখ হাসিনা জেলহত্যা দিবস পালন শুরু করলেন শেখ মুজিবের প্রতিকৃতিতে আগে ফুল দিয়ে। এরপর বনানী কবস্থানে গিয়ে ১৫ অগাস্ট এবং ৩রা নভেম্বরের শহিদদের কবরে ফুল দিলেন। অর্থাৎ, ৩রা নভেম্বরকে তিনি পৃথকভাবে গুরুত্ব দিলেন না। তাজ উদ্দিন আহমেদ এবং কামারুজ্জামান বাকশাল সরকারে ছিলেন না। কারণ বাকশালে না থাকাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা। এজন্যই কি শেখ হাসিনার এতো ক্ষোভ? অথচ বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন তাজ উদ্দিন আহমদ সহ জাতীয় চার নেতা। ১৫ অগাস্ট এবং ৩রা নভেম্বরের হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জোহরা তাজ উদ্দিন। ইতিহাস একদিন নির্মোহ এবং নির্ভীক হবে। সাংবাদিক আলমগীর খান লিখেছেন, ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে কুমিল্লার দাউদকান্দি আসনে জাসদের প্রার্থী রশিদ ইঞ্জিনিয়ারের জয় ছিনিয়ে কারচুপি করে খন্দকার মোশতাক আহমদকে জেতানোর ষড়যন্ত্র না করলে বাংলাদেশের ইতিহাস আজ অন্যরকম হতো। ওইদিনই মোশতাকের রাজনৈতিক মৃত্যু হওয়ার কথা ছিল। আপনি শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে জিয়াউর রহমানকে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন। কাউকে মিথ্যা অপবাদ দেয়া কবিরা গুণাহ। আপনার যে প্যাথোলজিক্যালি মিথ্যা বলার প্রবণতা — এইগুলা সব সাইকোপ্যাথির লক্ষণ। আপনার মানসিক চিকিৎসা দরকার। জাতীয় চার নেতার আত্মার শান্তি কামনা করি।

৩। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে হাসানুল হক ইনু সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের “নিরপেক্ষ থাকার ভান” না করে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পক্ষের যে-কোনো একটি অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই বক্তব্য শুনে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে অনেকেই ট্রল করেছেন। একজন লিখেছেন, আমি কোনদিন জাসদ কেন্দ্রীয় অফিসে যাইনি। আজকে এক জাসদ ভাইয়ের ছবির মাধ্যমে দেখতে পেলাম জাসদ অফিসে মার্কস, লেনিন, মাও, স্তালিন দেয়ালে ঝুলতেছেন। প্রথমে বুঝলামনা ঐখানে মার্কস, লেনিন, মাও, স্তালিন কি করেন? ঐখানে তাদের কাজ কি? পরে ভাবলাম মনে হয় সামনে দিয়ে যাইতেছিল ভুল করে সাইনবোর্ডে সমাজতন্ত্র লেখা দেখে ঢুকে পড়েছিল। পরে সেখানে ইনুরে বসা দেইখা দেয়ালে লাফ দিয়ে উঠছে। আরেকজন লিখেছেন, আমার ব্যাপক হাসি পায়,শেখ হাসিনা যখন মদিনা সনদ অনুসারে দেশ চালানোর কথা বলেন আর ইনু যখন পুজিতন্ত্রী,সৈরতন্ত্রীর পো ধরে….সমাজতন্ত্রের কথা বলেন। যাই হোক, হাসানুল হক ইনুর এই ইঙ্গিত ও ফ্যাসীবাদী নির্দেশ সকল লেখক ও বুদ্ধিজীবীর জন্য অশ্রদ্ধা ও অপমানজনক।

৪। বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মো: আবদুল হামিদ ও তাঁর স্ত্রী রাশিদা খানমের জার্মানির বার্লিন থেকে লন্ডনে পৌঁছার খবর যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আশেকুন নবী চৌধুরী সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। জানা গেছে, রাষ্ট্রপ্রধান নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চোখের চিকিৎসার জন্য জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে সফর শেষে ১৩ নভেম্বর লন্ডন থেকে দেশে ফিরে গেছেন। ৭৮ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট দীর্ঘ দিন ধরে গ্লুকোমায় ভুগছেন। তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার থাকাকালীনও লন্ডন ও জার্মানিতে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতেন। খবর জেনে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি না করে দেশের জনগণের করের টাকায় প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার কেনো বিদেশে চিকিৎসা নিবেন? বাংলাদেশের একজন সাধারণ মানুষের জন্য যেই সেবা রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে পারে না; সেই স্বাস্থ্য সেবা তাদেরই করের টাকা খরচ করে বিদেশে গিয়ে নিতে তাদের লজ্জা করেনা? ভিভিআইপি ফ্লাইট, চিকিৎসা ব্যয় এবং সফরসঙ্গীদের বাবদ কত টাকা এক একবার খরচ হয়, এই টাকা দিয়ে কত হাজার বা লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা দেওয়া যায়? প্রসুতি মাতা হাসপাতালের বারান্দায় সন্তান প্রসব করবেন আর রাস্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী সরকারি খরচে চিকিৎসার জন্য জার্মানি যাবেন, সিঙ্গাপুরে যাবেন, লন্ডনে যাবেন এটাই হয়ে গেছে এদেশের নিয়তি। বলার কেউ নেই, দেখার কেউ নেই, ধরার কেউ নেই। কোথাও কেউ নেই। মগের মুল্লুক একটা!

৫। সোশ্যাল মিডিয়ায় কবি নির্মলেন্দু গুণ লিখেছেন, ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদক প্রাপ্ত দেশের বিশিষ্ট গুণীজনদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গ্যাস ও বিদ্যুত সংযোগ দেয়া হোক। রেল এবং বিমানের টিকিটও তাদের জন্য সংরক্ষিত থাকলে ভালো হয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পুরস্কার প্রাপকদের এরকম সামান্য বাড়তি সুবিধা তো দেয়া যেতেই পারে। আপনারা কী বলেন?’ ফেইসবুকে দেয়া কবির এই স্ট্যাটাস সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই শেয়ার করেছেন। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সবাই বেশ রঙ্গ তামাশা করছেন৷ উনার পোস্টের কমেন্টেই একজন লিখেছেন, দাদু সোনা কত বিক্রি করবেন? দাম কি এখানেই বলবেন নাকি ইনবক্সে আসবো? আরেকজন লিখেছেন, কবি পদক বিক্রি না করে আপনি বরং আপনার বিচি দুটো বিক্রি করে দিন, সোনার পদকের চেয়ে বেশি পয়সা পাবেন! কতটা হৃদয়হীন হলে কেউ এরকম মন্তব্য করতে পারে! বিচি বিক্রি করে দিলে গুণের আর থাকে কি, উনি তো তখন নির্মলেন্দু বেগুন হয়ে যাবেন৷  কবি একবার বড় আশা নিয়ে আওয়ামীলীগ থেকে সংসদ নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন৷ শেষ পর্যন্ত নৌকা প্রতীক না পেয়ে রাগ করে কুমির মার্কা নির্বাচন করে সাকুল্যে সতের ভোট পেয়ে তিনি জামানত হারিয়েছিলেন৷  কবি সবসময়ই বঞ্চিত ছিলেন৷  কিন্তু কবি ইমতিয়াজ মাহমুদ বঞ্চিত কবি নির্মলেন্দু গুণকে সমর্থন না করে বরং শ্লেষ করে লিখেছেন, গুণ দা কবি কোটায় গ্যাসের একটা সংযোগ চাইছেন, এখন হিরো আলম কবি+গায়ক+আবৃত্তিকার+ অভিনেতা+ পরিচালক + বুদ্ধিজীবী + সমাজ সংস্কারক কোটায় একটা গ্যাস ফিল্ড চেয়ে না বসলেই হয়!

৬। দেশের দুই বিশিষ্ট নাগরিক শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানকে জড়িয়ে পল্টন থানায় করা অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্রের মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাক্ষ্য দেয়ার খবর শোনে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা বেশ চটেছেন। লোকজন শেখ হাসিনা ও জয়কে প্রশ্ন করেছেন- আমেরিকায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের যে মামলা ভূয়া বলে প্রমাণ হয়েছে, আমেরিকায় যে অপহরণ মামলা ডিসমিশ হয়ে গেছে, সেই মামলা কোন ভিত্তিতে বাংলাদেশের আদালতে চলছে? দেশের এই দুই বিশিষ্ট নাগরিকের সন্মানহানী করার অধিকার আপনাদের কে দিয়েছে? একজন লিখেছেন, একসময় ভেবেছিলাম হাসিনার জায়গায় আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত তাঁর ছেলে জয় এলে হয়তো দেশের কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন হবে। কিন্তু এখন দেখছি এইটা আরও বড় স্টুপিড! এইটা আরও বড় ছাগল! শফিক রেহমান, মাহমুদুর রহমানের মত লোকেরা কোন কারণে এর মত একটা সাড়ে হাজার দামের ছাগলকে অপহরণ করবে? এই মামলার স্বাক্ষী কে? এই প্রশ্নের উত্তর কে দিবে? এভাবে দেশের দুইজন বিশিষ্ট নাগরিকের সন্মানহানীর অধিকার তাকে কে দিয়েছে? অন্যজন লিখেছেন, এই আওয়ামী ছাগলেরা হয়রানি করার জন্য দেশমান্য ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মত একজন মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মাছ চুরির মিথ্যা মামলা দিয়েছে! সেই মামলা আবার আদালত গ্রহণ করেছে। দেশে আইন-আদালত বলতে কিছু আছে? শাসুদ্দিন মানিকের মত পার্টি ক্যাডার, বাটপার, নির্লজ্জ, ছেচড়া দালালদের তারা সব জায়গায় বসিয়ে রেখেছে। সজীব ওয়াজেদ জয়কে দেখে বিচারক এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে। দেশে একটা একদলীয় শাসন কায়েম করে শেখ হাসিনা আদালতকে ব্যবহার করছে. যা খুশি তাই করছে। অনেকেই আবার সজীব ওয়াজেদ জয়কে ট্রল করে লিখেছেন, আপনার অপহরণ ও হত্যা মামলায় শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানের সাড়ে হাজার বছর সাজা হবে।

৭। অবসরপ্রাপ্ত বিচারক শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক নিজের নামের আগে নিজেই বীর মুক্তিযোদ্ধা টাইটেল লাগিয়ে তার উপর নয়া পল্টনে হামলা ও তার গাড়ি ভাঙচুরের খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। এরকম একটা খবরে মানিককে সহানুভূতি না জানিয়ে উল্টো তাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লোকজন হাসাহাসি করছেন। একজন আরেকজনকে প্রশ্ন করছেন, তাঁর ওপর হামলা হয়েছে এই কথা কেউ বিশ্বাস করেন? কেউ বলছেন, নিজের নামের আগে তিনি নিজেই বীর মুক্তিযোদ্ধা টাইটেল লাগিয়েছেন! কবে কোথায় কোন সেক্টরে তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেছেন? কেউ বলছেন,মতলববাজ মানিক নতুন কোন মতলব করছেন। আবার কেউ বলছেন, পল্টনে বিএনপির গণসমাবেশকে সন্ত্রাসী সমাবেশ প্রমাণ করার জন্য চতুর মানিক এই নাটক সাজিয়েছেন। ইতোমধ্যে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখার নেতৃবৃন্দ মানিকের ওপর হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবী জানিয়ে জননিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের সন্ত্রাসী সমাবেশ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

৮। ভোরের কাগজের নিউজ এডিটর ইখতিয়ার উদ্দিন ফেইসবুকে পাবলিক পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন, জাতীয় প্রেস ক্লাব নির্বাচনে সাইফুল আলম-শ্যামল দত্ত প্যানেলে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। সাংবাদিক আহাদ চৌধুরী বাবু সেই স্ট্যাটাসের স্ক্রিণশট শেয়ার করে প্রশ্ন করেছেন, ‘এখানে প্রধানমন্ত্রীর কী দায়? আমরা ক্রমান্বয়ে শরীরের হাড় বাকল চামড়া সব হারিয়ে ফেলছি নাকি?’ সাংবাদিক এনাম চৌধুরী লিখেছেন, ‘চেয়ারে বসে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যদি এটা করে থাকেন, তবে তিনি হবেন বাংলাদেশের রাজনীতি নষ্টের এক বিষাক্ত কারিগর এবং এটা প্রমাণিত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তয়নের জন্য আর কয়দিন পরে যখন কিছুই পাবেন না, তখন আবার আসবে সাংবাদিক পরিচয়ে কুত্তা পালন কর্মসূচী। আর সেটা হবে আমাদের চোখের সামনে!’ আপনাদের মনে আছে, সমাজকল্যাণমন্ত্রী মহসিন আলী সাংবাদিকদের খবিশ বলেছিলেন। সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকরা ‘নিম্নমানের’। তিনি আরও বলেছেন, “আমাদের দেশে সাংবাদিকতা যারা করেন, তাদের মধ্যে দুর্বলতা আছে। এদের পরিপক্কতা দরকার।” এই অবস্থাটা সাংবাদিকরা নিজেরাই তৈরি করেছেন। বিশেষত সাংবাদিক নেতারা। এদের মোসাহেবি করার খাসলতের কারণে সাংবাদিকদের এমন কথা শুনতে হয়! সবসময় শুনি এদের নির্বাচন হচ্ছে, পিকনিক হচ্ছে। প্রায়ই বিভিন্ন দূতাবাসের পার্টির ছবি ফেইসবুকে প্রচার করতে থাকেন। এদের মূল লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিদেশ সফর। বড় বড় দুর্নীতিবাজদের সাথে তাদের হাসিমুখে ছবি আছে। যেসব ছবি বড়াই করে তারা নিজেদের ফেইসবুকে দেন। অথচ তাদের দায়িত্ব ছিল এদের দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করা। এমবেডেড সাংবাদিক বলে একটা শব্দ চালু হয়েছিল উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়, এরা হচ্ছেন আমাদের এমবেডেড সাংবাদিক। এই সমস্ত সাংবাদিকের কারণে জাতীয় প্রেস ক্লাব আবর্জনায় পরিণত হয়েছে। আর সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো তৃতীয় শ্রেণীর লোকজনের ধান্দাবাজির জায়গায় পরিণত হয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের যত সংগঠন আছে সবই আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনে পরিণত হয়েছে। এসব সংগঠন সাংবাদিকতার মান উন্নয়ন ও সাংবাদিকের অধিকার রক্ষায় তো কিছুই করে না, মূলত বাটপারদের জায়গা। এই বাটপাররা ঢাকঢোল পিটিয়ে নির্বাচন করে এটা বলার জন্য যে আমি ওমুক সংগঠনের সভাপতি, সেক্রেটারি। সংবাদপত্রকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত সংবাদকর্মীরা সেই স্তম্ভেরই অংশ। সাংবাদিকতা পেশা কোনো ব্যবসা, চাটুকারিতা বা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার নয়। এ পেশার নিজস্ব কিছু স্পিরিট আছে, যারা একে ধারণ করতে পারেন না, তাদের জন্য এ পেশা নয়। সত্যিকারের সাংবাদিকদের সোচ্চার হওয়ার এখনই সময়।

৯। গরু চুরির মামলায় ছাত্রলীগ নেত্রীর কারাগারে যাওয়ার খবর শোনে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই মজা করছেন। একজন লিখেছেন- তুই মেয়ে, ছেলেদের মন চুরি করবি, বফের  ম্যানিব্যাগ থেকে টাকা চুরি করবি সেটা ঠিক আছে। তাই বলে গরু চুরি করতে হবে! অন্যজন তাকে রিপ্লাই দিয়েছেন, মেয়ে মানুষ ছাত্রলীগ করলে ওইটা আর মেয়ে থাকে না,  তাই বফের মন চুরি করা বাদ দিয়ে গরু চুরি করসে, বফের বাইক কেনার জন্যই গরু চুরি করছে, ব্যাপার না। আরেকজন লিখেছেন, দেশে দূর্ভিক্ষ আসলে সে যেন গরুর দুধ খেয়ে বাঁচতে পারে তাই সে গরু চুরি করেছে। ওদিকে চুরি চামারিতে ছাত্রলীগ নেতারাও পিছিয়ে নেই। মহাদেবপুরে ছাগল চুরি করে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গ্রেপ্তার হয়েছে। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছাত্রলীগের পদ পাইয়ে দিতে কেন্দ্রীয় নেতার টাকা চাওয়ার অডিও ফাঁস হয়েছে। কিন্তু নির্লজ্জদের লজ্জা হচ্ছে না। নিজেদের অজ্ঞতা আর মূর্খতা বুঝতে পারার জন্য যে বুদ্ধি থাকতে হয়, সেটি আছে বলে তো মনে হয় না ।

১০। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের দুইজন শফিক রেহমান ও তারেক রহমানের জন্মদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তরা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দেশের মিডিয়াগুলো যথারীতি নীরবতা পালন করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে অনেকেই কটাক্ষ করেছেন। বলেছেন, সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন তারা পালন করেন, রাহুল গান্ধীর জন্মদিনের খবর তারা পরিবেশন করেন। নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনে তারা শুভেচ্ছা দেন, মোদীর মায়ের জন্মদিনে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপহার দেওয়ার খবর তারা গর্বভরে প্রকাশ করেন। বলিউড অভিনেত্রীদের জন্মদিন তারা পালন করেন, সেলিব্রেট করেন। অথচ বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দু‘জন ব্যক্তির জন্মদিনে তারা নীরব থাকেন। জন্মদিন উপলক্ষে দু‘জনকে দু‘লাইনের একটু শুভেচ্ছা জানিয়ে খবর পরিবেশন করলে কী এমন ক্ষতি হতো? দেশের জন্য কি তাদের কোন কন্ট্রিবিউশন নাই? বিষয়টি খুবই দু:খজনক। আমাদের মিডিয়াগুলোর নীরবতার নিন্দা জানাই। শফিক রেহমান ভাষা আন্দোলনে ঢাকায় এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাজ্যে বিবিসিতে বিশেষ অবদান রেখেছেন। বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বমত তৈরি করতে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করেছেন। অন্যদিকে তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পড়ছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা সাজানো মামলায় কারাগারে বন্দি করার পর তিনি শক্ত হাতে উপমহাদেশের অন্যতম বড় দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তথা বিএনপির হাল ধরেছেন। লন্ডনে থেকে তিনি অত্যন্ত সুচারুভাবে বিরামহীন সংগঠন পরিচালনা করে চলছেন। গ্রাম, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তিনি ভার্চুয়ালি যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। নেতাকর্মীদের যে কোনো বিপদে আপদে পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বিএনপি ও বিএনপির প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে এখন অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করেছেন। দেশে থাকতে তৃণমূলে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার জন্য হাঁস, মুরগী ও ছাগল বিতরণ করে; সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মাঝে কম্পিউটার বিতরণ করে, জটিল রোগে আক্রান্ত অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবার উদ্যোগ নিয়ে তিনি বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। দেশের মানুষকে ভালোবেসে তিনি বাবার মতই দেশের সকল জনপদে ঘুরে বেড়িয়েছেন। বর্তমানে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তিনি লন্ডন থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শফিক রেহমান ও তারেক রহমানের নামের সাথে যেমন মিল আছে, জন্ম মাসে যেমন মিল আছে, তেমনি কাজের সাথেও অনেক মিল আছে। দু’জনেই গণতন্ত্রকামী মানুষ। গণতন্ত্রের জন্য তাঁরা দীর্ঘদিন লড়াই করছেন। তাদের দু’জনের সবচেয়ে বড় যোগ্যতা তারা মানুষকে ভালোবাসতে জানেন। দেশের মানুষকে তাঁরা অত্যধিক ভালোবাসেন। দেশের মানুষের জন্য তাঁরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং করছেন। অবৈধ ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পড়ে দু’জনেই প্রবাসে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। শফিক রেহমানকে স্বৈরাচারী সরকার বার বার দেশ থেকে বিতাড়িত করেছেন। তিনি লন্ডনে আশ্রয় নিয়েছেন। ১/১১-তে গ্রেফতার হয়ে তারেক রহমান নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেই ভয়াবহ নির্যাতনের ক্ষত তিনি লন্ডনে আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন। শফিক রেহমান ও তারেক রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই। যে গণতন্ত্রের জন্য যারা লড়াই করছেন, খুব শীঘ্রই যেনো সেই গণতান্ত্রিক পরিবেশে তাঁরা দু‘জন একসাথে দেশে ফিরতে পারেন এই কামনা করি। আল্লাহপাক তাদের নিরাপদে রাখুন, সুস্থ রাখুন এবং নেক হায়াত দান করুন। আমীন।

বি:দ্র: রিভিউ সম্পর্কে আপনাদের কোন মতামত থাকলে লিখে এই ইমেইলে: info_khan@ymail.com এ পাঠিয়ে দিন। সাপ্তাহিক সুরমা’র সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।

নিউজ
Back to top button
Close
Close