সম্পাদকীয়

পাচারকৃত সম্পদে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ

এ সপ্তাহের সম্পাদকীয় ।। ইস্যু ২২৭৩
বাংলাদেশ থেকে গত কয়েক বছরে পাচার হয়ে গেছে প্রায় চার লাখ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। এই তথ্য এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটা প্রামাণ্য বিষয়। কারা করেছেন, তাও কেন্দ্রীয় ব্যাংক, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য সঙশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণসহ জমা আছে।

বিদেশি ব্যাংক, বিশেষ করে সুইস ব্যাংকে পাচার করা ‘বিপুল পরিমাণ’ অর্থ উদ্ধারের যথাযথ পদক্ষেপের নির্দেশনা চেয়ে গতবছর ১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে রিট করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম খান ও সুবীর নন্দী দাস। হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এব্যাপারে একের পর এক আদেশ জারি করে প্রায় দুই বছরে বিষয়টির কোনো সুরাহা করতে পারেন নি। কারণ সর্ষের মধ্যেই ভুত! খবরে প্রকাশ, বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক ডেপুটি গভর্নরের সহায়তায় পিকে হালদার ও শীর্ষ পাচারকারীরা গত এক দশকে এই মারাত্মক অপরাধ করেছে। হাইকোর্টের কোম্পানি সঙক্রান্ত বেন্চ মানি লন্ডারিংয়ে অন্যতম প্রধান সহযোগী এসকে সুরকে একটি মামলায় আদালতে ডাকেন। জেলে না পাঠিয়ে ওই ডাকাতকে সসম্মানে বাড়ীতে পাঠান। ই—ভ্যালি কেলেঙ্কারিতেও হাইকোর্টের একই বেঞ্চ অনেকগুলো প্রশ্নবিদ্ধ আদেশ দিয়ে অন্তত ৩০ লাখ পরিবারের জীবন ও সম্পদের চিরস্থায়ী ক্ষতি করে দিলেন আর লাভবান করলেন উদ্যোক্তা নামধারী কয়েকজন ক্ষমতাবান দুর্বৃত্ত, অবসরপ্রাপ্ত সচিব ও বিচারপতি নামধারী কতিপয় অসৎ মানুষকে। নিঃস্বার্থভাবে এ ধরনের অপকর্ম সংঘটিত হয়, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার জন্য সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার কথা। তারা সেই ভূমিকা রাখেনি বা রাখতে পারেনি রহস্যজনক কারণে। হাইকোর্টকে অসহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তাঁরা বলতে পারেন কাদের নির্দেশে অসহযোগিতা করা হয়েছিলো? এদিকে, পুলিশের তদন্ত বিভাগ কয়েকটা চুনোপুটির নামসহ একটি ছোটখাটো তালিকা দিয়ে তাদের দায়িত্ব পালনের নামে কোর্টকে বিভ্রান্ত করেছে।

হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও বিচারপতিদের সাহসী প্রচেষ্টা বাংলাদেশ অবশ্যই মনে রাখবে। ইতিমধ্যে হাইকোর্টের চাপে সম্বিত ফিরেছে বিএফআইইউ’র। চাপের মুখে এখন পাচারকৃত সম্পদ দেশে ফেরাতে ১০দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে চাইছে বিএফআইইউ। এতদিন কেন করেননি, প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তবে দেরিতে হলেও উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে হয়। এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট শাখা গুলো এ ব্যাপারে তাদের সাহায্য করে কিনা সেটাই দেখার বিষয়। প্রত্যেকেই তার পরিচয় দেবেন তার কর্ম ও ভূমিকায়। তবে এ কথা নিশ্চিত পাচারকৃত সম্পদ ফিরিয়ে এনে সেই সম্পদ শিল্পায়ন, বিদেশি ঋণ পরিশোধ আর অবকাঠামো নির্মাণের খরচের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। এ কথা নিশ্চিত।
সুতরাং এখন শুধুই সেই সময়ের অপেক্ষা।

নিউজ

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close