সম্পাদকীয়

হাসিনার অবর্তমানে ড. মুনতাসির মামুনদের দেশত্যাগ ও অস্তিত্বের শঙ্কা

এ সপ্তাহের সম্পাদকীয় ।। ইস্যু ২২৭০
মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেও কেবলমাত্র মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলীর চর্চা করে বাংলাদেশে যেসব ব্যক্তি খ্যাতি অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে ড. মুনতাসীর মামুন অন্যতম। সম্প্রতি বাংলাদেশের বিনা ভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে তার উপলব্ধির কথা বলেছেন এভাবে  ‘শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না থাকলে দেশের অনেককে দেশ ত্যাগ করতে হবে। আমরা যারা আওয়ামী লীগের সমর্থন করি তাদের অস্তিত্ব বলে কিছু থাকবে না’। 

মুক্তিযুদ্ধ দিয়ে ড. মামুন বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১, মুক্তিযুদ্ধের ছিন্ন দলিলপত্র, ইয়াহিয়া খান ও মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭১ চুকনগরে গণহত্যা, একাত্তরের বিজয়গাথা ইত্যাদি। তার এইসব লেখা পড়ে অনেকের মনে হতে পারে ড. মামুন বিশাল কোন মুক্তিযোদ্ধা । কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য এই বিশাল মুক্তিযুদ্ধ গবেষক নিজে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণই করেনি! কথিত মানবতা বিরোধী আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার এক পর্যায়ে বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন মামুন নিজেই। যাইহোক মুনতাসির মামুনরা সারা বিশ্বে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র কায়েমের চরম দায়িত্ব কাঁধে নিলেও এবং সার্বক্ষণিকভাবে মানবতার বুলি আওড়ালেও একটি  নতজানু ও অনির্বাচিত স্বৈরাচারী সরকারের পদলেহন করতে তাদের কখনোই কোন অসুবিধা হয়নি। তবে যেহেতু তিনি ইতিহাসের একজন শিক্ষক ছিলেন তাই ইতিহাসে স্বৈরাচারী অত্যাচারী শাসকদের এবং তাদের সাঙ্গোপাঙ্গদের পরিণতির কথাও তার অজানা নয়। বাংলাদেশের প্রতিটি বিবেকবান মানুষ এবং সারা দুনিয়ার মানুষ জানে যে ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশে কোন নির্বাচিত  সরকার নেই। শেখ হাসিনা যেভাবে স্বৈরাচারী কায়দায় সকল ধরনের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কলুষিত করে একদলীয় নির্যাতন, নিষ্পেষণ, হত্যা, গুম-খুন ও ভয়ভীতি মাধ্যমে দেশ চালাচ্ছেন রাজনৈতিক অভিধানে তাকেই ফ্যাসিজম বলে। উগ্র জাতীয়তাবাদের সাথে সহিংস ও যুদ্ধংদেহী ইচ্ছায় গড়ে তোলা কর্মীবাহিনীর সাথে ব্যাংক লুটেরা করপোরেট শক্তি, কিছু দুর্নীতিবাজ আমলা ও সেনাবাহিনীর মদদে বেশির ভাগ মানুষের মতামতকে প্রাধান্য না দিয়ে একটি ক্ষুদ্রগোষ্ঠীর রাষ্ট্রের প্রতিভূরূপে চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় আসীন থাকার আয়োজনই ফ্যাসিবাদ। ফ্যাসিবাদ রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে চিরায়ত গণতন্ত্র ও সামাজিক সুবিচারের বৈশিষ্ট্যগুলোর লালনের পরিবর্তে তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যার কথিত জাতীয় নিরাপত্তায় হুমকির অজুহাতে কোন বিশেষ সম্প্রদায় বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে বেছে নিয়ে (পড়ুন বিএনপি জামাত) তাদের ধ্বংস-যজ্ঞ অব্যাহত রাখে। ফ্যাসিস্ট ইতালি ও নাৎসি জার্মানি যথাক্রমে ইহুদি ও সোসালিস্টদের এই কাজে বেছে নিয়েছিল, আর বাংলাদেশের হাসিনা সরকার বেছে নিয়েছে বিএনপি-জামাতসহ ইসলামপন্থীদের। এর সবগুলোই মুতা মামুন জানেন এবং সাথে হিটলার ও মুসোলিনি ও তাদেরকে সমর্থনকারী দুর্বৃত্তদের অতি নির্মম পতনের কথাও জানেন। হিটলার-মুসোলিনির আদর্শে গড়া তার প্রিয় নেত্রী  হাসিনার আসন্ন পতনের কথা ভেবে মনতাসির মামুন তাই নিজের নিরাপত্তার এমনকি অস্তিত্বের চিন্তায় শঙ্কিত হয়ে উঠেছেন। তার এই শঙ্কা প্রকাশ নিজ সমর্থকদের মেরুদন্ডে কাঁপন তুললেও শেখ হাসিনার যাতাকলে পৃষ্ঠ প্রতিবাদী জনগণের জন্য এ যেন মেঘের আড়ালে সূর্যের আগমন বার্তা, অন্ধকার সুড়ঙ্গের ওপাশে স্পন্দিত আলোর রেখা। 

ছিয়াত্তর বছর বয়সী শেখ হাসিনা অমর নন। প্রাকৃতিক নিয়মে তিনি যদি মারা যান, তাহলেও কি মুনতাসির মামুনরা দেশে থাকতে পারবেন না? তাদের অস্তিত্ব বিলোপ হবে? তাহলে এত বছরের শ্রম দিয়ে তারা কি চেতনার বাংলাদেশ গড়ে তুলেছেন যে একজন ব্যক্তির কোন গণতান্ত্রিক বিকল্প তাদের কাছে নেই? এই জ্ঞান নিয়ে তারা কিভাবে মানুষকে গণতন্ত্রের সবক দেন? শেখ হাসিনায় বিশ্বাসী মুনতাসির মামুনদেরকে বাংলাদেশের  বিশ্বাসী  জনতার  পক্ষ থেকে একটাই বার্তা, “সত্য সমাগত মিথ্যা অপসৃত। নিশ্চয়ই মিথ্যা অপসৃয়মান।“

নিউজ

সম্পরকিত প্রবন্ধ

এছাড়াও চেক করুন
Close
Back to top button
Close
Close