মুক্তচিন্তা

১২২ মিলিয়ন টুরিষ্টের শহর ফ্লোরিডা: যেখানে সূর্য ও সুখ হাঁটে পাশাপাশি

জুয়েল সাদত
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

করোনা পরবর্তি সামারের উন্মাদনায় সারা আমেরিকা নাড়া চাড়া দিয়ে উঠেছে। গত সামারটা পুরো আমেরিকা গৃহবন্দি ছিল, তাই ২০২২ সালের পুরো বছরটা  আমেরিকানদের ভেকেশনের প্রতিযোগিতা চলছে, চলবে৷ বিশ্বের অনেক দেশের ভিজিটর রাআমেরিকায় আসতে না পারলেও ইংল্যাণ্ড, কানাডা, মেক্সিকো, ব্রাজিলসহ হাতে গোনা কয়েকটি দেশের পর্যটকরা ফ্লোরিডাকেজমিয়ে রেখেছেন। আমেরিকার আভ্যন্তরীণ পর্যটক রা আনন্দ খুঁজে বেড়াচেছন ফ্লোরিডাতে। ফ্লোরিডাতে ২০২১ -২০২২ সালে১২২ মিলিয়ন টুরিস্ট ভিজিট করেছেন। যা ২০১৯ -২০২০ সাল থেকে ৫৪ শতাংশ বেশী। ভিজিটররা ৯৬.৫ বিলিয়ন ডলারকনট্রিবিউট করেন ফ্লোরিডা ইকোনমিতে এবং ১.৬ মিলিয়ন জবে সাপোর্ট করে থাকে। 

ওয়ার্ল্ড থিম পার্ক ক্যাপিটাল ফ্লোরিডার ওরলাণ্ডোতে উপছে পড়া টুরিস্টদের ভীড়। হোটেল, রেন্টাল কার, রেস্টুরেন্টে, বীচগুলোতেমিলিয়ন মিলিয়ন টুরিষ্ট। বিশ্বের সর্ববৃহদ এমিউজমেন্ট পার্ক ডিজনি পুরো স্বাভাবিক পর্যায়ে। করোনা শুরুর পর ২০২০ সালেডিজনি মাত্র ১০০ দিন বন্ধ ছিল। তারপর গত এক বছরের ধীরে ধীরে তা৷ স্বাভাবিক পর্যায়ে৷ সারা বিশ্বের শিশুদের নিকটপরিচিত মিকি মাউস, মিনি মাউস এর মুল শহর ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ড। আমাদের নিকট সৌদিআরব যেমন যাওয়াবাধ্যতামুলক। আমেরিকানদের নিকট ডিজনি একটি স্বর্গ সুখের স্থান। আমেরিকার যে কোন শহর থেকে অরলান্ডোইন্টারন্যাশনাল এযারপোর্টে নেমে ৩০ মিনিটে ড্রাইভে পৌছে যাবেন ডিজনি ওয়ার্ল্ডে। অনেকের  হয়ত ভাবছেন ফ্লোরিডা ভ্রমন কিব্যয়বহল, আসলে না। এখানে হোটেল রুম না নিয়ে রিজোর্টে থাকা যায় ২০০ ডলার দিয়ে, তিন বেডের রিজোর্টে দুই ফ্যামিলীথাকা যায়। রেন্টে এ কার এর মুল্য বেশী এই সময়টাতে ক্রাইসিস। চাইলে ড্রাইভ করে আসা যায় নিউইয়র্ক থেকে ১১৪৬ মাইল)  ১৮ ঘন্টা)  মিশিগান থেকে ফ্লোরিডা ১১৭০ মাইল ( ১৮ ঘন্টা)। প্লেনে আসা যায় ২০০ ডলার রাউন্ড ট্রীপ আড়াই ঘন্টা সময়ে।খাওয়ার খরছ খুব একটা বেশী না, তবে খুব মান সম্মত ইন্ডিয়ান রেষ্টুরেন্ট নাই। আহমেদ রেষ্টুরেন্ট, চ্যাট হাউস,ফিলি স্টিক সহকিছু মিডল ইষ্টার্ন রেষ্টুরেন্ট গুগুল করলে পাওয়া যাবে। থাকার জন্য কিসিমি  ওল্ড টাউন, ওয়ান নাইন্টি টু ওয়েষ্ট ভাল। যারাখরছ করতে পারেন তারা ডিজনির ভেতর ২৪ টি ডিজনি রিজার্ট এ থাকতে পারবেন। প্রতি রাত ৪০০ ডলার থেকে ২৫০০ ডলার।তবে ডিজনি রিজোর্টগুলো অনেক সুন্দর। অনেকটা পার্কের মতো৷ ডিজনি তে চারটি পার্ক রয়েছে, দুটো ওযাটার পার্ক। পার্কগুলোপ্রতিদিন এডমিশন ১১৬ ডলার। প্রথম প্রথম মনে হবে অনেক বেশী মুল্য, তবে মুল্যের চেয়ে বেশী আনন্দবোধ করবেন। 

কি আছে ? কেমন ফ্লোরিডা:

ওয়ার্ল্ড হ্যাপিয়েষ্ট সিটি ওরলাণ্ডো। সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা নামে সুপরিচিত। ৭২ মিলিয়ন টুরিস্ট ভ্রমন করেন অরলান্ডো। ৪৮৬ হোটেলে১২৭৮০৯ হোটেল রুম আছে। আর জিজনি ওয়াল্ডে ২৪ টি রিজোর্ট এ ৩০ হাজার হোটেল রুম,প্রায় ১ লাখ টুরিস্ট রাত্রিযাপনকরেন ইনসাইড ডিজনিতে। ২৭ হাজার একর জায়গা  নিয়ে ডিজনি। সেখানের মাত্র ৯৫০ একর জায়গা ব্যবহৃত হয়েছে। ১৯৭১সাল থেকেই ডিজনি ওয়ার্ল্ড পৃথিবীর সেরা আকর্ষণ। এ বছর অক্টোবরে ডিজনি ৫০ বছর পুর্তি করতে যাচ্ছে। 

ম্যাজিক কিংডম, এনিম্যাল কিংডম, হলিউড স্টুডিও, এপকট এই চারটি পার্কই ডিজনি ওয়ার্ল্ড। সাথে ব্লিজার্ড বীচ, টাইফুনলেগুন দুটো ওয়াটার পার্ক। 

অরলান্ডো তে ডিজনি ছাড়াও আছে ইউনিভার্সেল ষ্টিডিও, সিওয়ার্ল্ড ও কেনেডি স্পেইস সেন্টার (নাসা)। 

স্পেস সেন্টার:

৪২ একর জায়গা নিয়ে ১৯৬৭ সালে নাসা আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। এটাই বিশ্বের সবচেয়ে সুপরিচিত নাসা স্পেস সেন্টার।প্রতি বছর দেড় মিলিয়র ভিজিটর ভ্রমন করেন  বছরে ৬/৭ শাটল লঞ্চ করে৷ ৫৭ ডলারের টিকেটে সারাদিন ট্যুর করে দেখার মতএকটি জায়গা৷ বাংলাদেশী বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এখান থেকে যাত্রা করে। ওরলান্ডো শহর থেকে দেড় ঘন্টা দুরত্বে নাসা। আছেডেটোনা ৫০০ নামে পরিচিত কার রেইস ট্রাক ডেটোনাতে। ডেটোনা বীচ ছাড়াও পুরো ফ্লোরিডাতে আছে ৫০ টি বীচ। বীচেররাজধানী বলা যায়। যারা মাছ শীকার করতে পছন্দ করেন তারা আনন্দ পাবেন৷ ঘন্টা দেড়েক ড্রাইভ করলেই সমুদ্র কাছে টানবেআপনাকে। আছে লেগোল্যান্ড, কিসিমিতে আছে গ্যাটরল্যান্ডে। কুমিরের পার্ক, হাজার হাজার এলিগেটর আপনাকে খেলাদেখাবে। ফ্লোরিডা থেকে আড়াই ঘন্টা ড্রাইভ করলে আছে সেন্ট আগাষ্টিন শহর, যেটা আমেরিকার প্রথম সিটি ১৫০০ শতাব্দীরশহর। এখানেই আমেরিকার গোড়াপত্তন। সেখানে আমেরিকার প্রথম স্কুল, প্রথম জেল। স্পেনিশরা বৃটিশদের তাড়িয়ে সেন্টআগাষ্টিন দখল করে। তাই পুরো ফ্লোরিডায় স্পেনিশদের আধিপত্ত আজো বিরাজমান। কিভাবে আসবেন, কি দেখবেন বাডিজনি নানা প্যাকেজের জন্য আছে FLYONCALL.COM। ফ্লোরিডা গরমের শহর, শীত বা স্নো বলতে কিছু নেই। ৯০ থেকে১০৫ তামমাত্রা আপনার ভ্রমনকে আনন্দদায়ক করে তুলবে। ফ্লোরিডাতে সুখ পাশাপাশি হাঁটে বাস,স্বপ্নের জগতের বাস্তবতায়আছে বড় বড় বাড়ী, চম্যকার  ওয়েদার, গাল্ফ খেলার জায়গা,এমিউজমেন্ট পার্ক, আইল্যাণ্ড, ক্রুজ,প্রাইভেট প্লেন, হেলিকপ্টাররাইড, ডিপ ফিশিং, ডলফিন পার্ক আরো অনেক কিছু। খরছের হিসাবে উনিশ বিশ করে সাহস করে বেরিয়ে পড়লেই হাতেরনাগালে পাবেন স্বপ্নের বাস্তবতা। এ শহরটকাকে ট্রপিক্যাল স্ট্রমের শহর বলে থাকে, যা মোটেও সত্য নয়। হ্যারিকেন, ঝড়, টর্নেডোআসে মাঝে মাঝে তবে তা লোকালদের জন্য স্বাভাবিকতা। ফ্লোরিডা  অনেক সুন্দর শহর, ওয়ার্ড হ্যাপিয়েষ্ট সিটি বলে থাকে।যেখানে আপনার পাশাপাশি সুর্য ও সুখ হেটে বেড়াবে।। 

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close