মুক্তচিন্তা

অভিবাসী কূটনীতি

পলাশ রহমান, ভেনিস, ইতালি থেকে

বৃটেন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সুরমার সম্পাদক শামসুল আলম লিটনের বড় ভাই নুর আলম চৌধুরী পারভেজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জাসদ নেতা পারভেজের নামে কোনো মামলা নেই, থানায় কোনো অভিযোগও নেই। তবু কেনো তাকে গ্রেপ্তার করা হলো? কারণ তার ছোট ভাই শামসুল আলম লিটন প্রবাসে সাংবাদিকতা করেন।

শেখ হাসিনার লন্ডন সফরের সময়ে জনাব লিটনের পত্রিকায় বাংলাদেশের গুম, খুন, নির্বাচনহীনতা নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এই অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দেশে থাকা বড় ভাই পারভেজকে। শেখ হাসিনার সরকার ‘অভিবাসী কূটনীতি’ শুরু করার ঘোষনা দিয়েছে। বিশেষ এই কূটনীতির কাজ হলো বিদেশ থেকে যেসব প্রবাসীরা সরকারের সমালোচনা করে তাদের চিহ্নিত করা এবং নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা।

কী সাংঘাতিক একটা খবর! শেখ হাসিনার সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করে দেশের সাংবাদিকদের হাত-মুখ বেধে ফেলেছে। এখন লেগেছে প্রবাসী সাংবাদিকদের পেছনে। সরাসরি পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে ঘোষনা দিয়ে এই খবর জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে এর জন্যে একটা নতুন অধিশাখা খোলা হবে। পাশাপাশি সরকারের প্রশংসা করে লেখার জন্য কিছু কলাম লেখক খোঁজা হচ্ছে। যারা পেইড সাংবাদিক হিসাবে সরকারের পক্ষে লেখালেখি করবে।
শেখ হাসিনার সরকার দেশের সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রবাসী সাংবাদিকদেরও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে অনেক দিন থেকে। এর মধ্যে ঘটা করে এমন একটা খবর প্রকাশের প্রতিক্রিয়া কী সরকার ভেবে দেখেছে? দেশের নির্বাচনহীনতা, অর্থ পাচার, গুম, খুন, বিরোধী রাজনীতি দমন, সংবাদ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণসহ হাজারও নেতিবাচক খবরে হাসিনা সরকারের ভাবমূর্তি এমনিতেই বিদেশিদের কাছে তলানিতে। এর মধ্যে এমন একটা খবর দেশের ভাবমূর্তি, সরকারের ভাবমূর্তি কতোটা খারাপ করবে তা কী একবারও ভেবে দেখেছে? সরকারের মন্ত্রীরা কথায় কথায় দেশকে ইউরোপ, আমেরিকার সাথে তুলনা করেন। ইউরোপ, আমেরিকার দেশগুলোয় কী সংবাদ মাধ্যম বা সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ করা হয়?

কথায় কথায় শেখ হাসিনার সরকার যাকে তাকে দেশ বিরোধী, রাষ্ট্র বিরোধী বলে প্রচার করে। অভিবাসী কূটনীতি নামের ফ্যাসিবাদ প্রচার করে সরকার যে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করলো এর কী হবে? শেখ হাসিনার সরকারকে এখন দেশ বিরোধী বললে কী ভুল হবে?
শাসসুল আলম লিটনের ভাইয়ের গ্রেপ্তার হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) ও ফ্রান্সভিত্তিক রিপোর্টার্স সেন্স ফ্রন্টিয়ার্সসহ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংস্থা মুক্তি দাবী করে বিবৃতি দিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়া কী হবে, কী চাপ আসবে অভিবাসীদের উপর তা কী ক্ষমতার লোভে উন্মাদ সরকার একবারও ভেবে দেখেছে?

ফটো: বর্ণবাদ বিরোধী সমাবেশ, ব্রিকলেনে, ১৯৭৮, ফটো ক্রেডিট: ইউসিএল,লন্ডন।

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২
লেখক: প্রবাসী সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close